চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৪ জুলাই, ২০১৯ | ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

আইএস জঙ্গিরা জোট বাঁধছে ইরাকে!

তারা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম অঞ্চলে গোপন সুড়ঙ্গ, পাহাড়ি গুহা এবং
বন-জঙ্গলপূর্ণ এলাকায় আস্তানা গেড়েছে। সেখানে নিজেরাই বোমা বানাচ্ছে তারা।
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :
দু’বছর আগেই ইরাকে পরাজিত হয়েছে তারা। চলতি বছর সিরিয়ায়ও নিজেদের নিয়ন্ত্রিত শেষ ভূখ-টি হারিয়েছে। তবুও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছিলেন, রাজত্ব হারালেও তাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। তারা শুধু তাদের স্থান বদলাচ্ছে। সেই সঙ্গে লড়াইয়ের ধরনও। শিগগিরই ফিরে আসতে পারে। সেই আশংকাই যেন সত্যি হতে চললো।
ইরাকে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে আইএস। পরাজয়ের পর সিরিয়া সীমান্ত দিয়ে দলে দলে ইরাকে ঢুকছে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা।
ইতিমধ্যে দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে চোরাগোপ্তা হামলাও শুরু করেছে তারা। ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত আট মাসে কমপক্ষে এক হাজার আইএস জঙ্গি সীমান্ত পার হয়ে ইরাকে প্রবেশ করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জঙ্গিদের বেশিরভাগই ইরাকি বংশোদ্ভূত।
তারা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম অঞ্চলে গোপন সুড়ঙ্গ, পাহাড়ি গুহা এবং বন-জঙ্গলপূর্ণ এলাকায় আস্তানা গেড়েছে। সেখানে নিজেরাই বোমা বানাচ্ছে তারা। সাধারণ রাতের আঁধারে বের হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্নাইপার হামলা চালাচ্ছে। কখনও বা রাস্তার পাশে টাইম বোমা পেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এভাবে নিয়ম করে সপ্তাহে একাধিকবার বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে।
আইএসের এসব হামলার বেশিরভাগই বড় বড় শহরগুলোর বাইরে চালানো হচ্ছে।
সুবিধাজনক স্থান থেকে কোনো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করে হঠাৎ ঝাপিয়ে পড়ে। অভিযান শেষ হলেই লুকিয়ে পড়ে। সম্প্রতি আধা-সামরিক বাহিনী ও স্থানীয়ভাবে ‘মোখতার’ হিসেবে পরিচিত (সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজে নিয়োজিত) বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে তার কয়েকটি ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ করেছে আইএস।
তাদের মূল শত্রুই এখন এই মোখতাররা। সম্প্রতি একটা ভিডিওতে আইএসের এক যোদ্ধাকে বলতে শোনা গেছে, ‘সব মোখতারকে সাবধান করে দিচ্ছি, আইএস তাদের ইচ্ছামতো যেকোনো জায়গায় পৌঁছতে পারে।’
অর্থাৎ আইএস এখন আক্ষরিক অর্থেই চোরা-গোপ্তা হামলা-নির্ভর গেরিলা যোদ্ধায় পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসের নতুন রূপ দিয়ে যাচ্ছে তারা।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 271 People