চট্টগ্রাম বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

২৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১:৩৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কতটা ভয়ঙ্কর করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন?

শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, আতঙ্ক বাড়িয়েই চলেছে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা. বতসোয়ানা, হংকং, বেলজিয়াম ও ইসরায়েলে মাত্র কয়েক ডজন মানুষের দেহে ভ্যারিয়েন্টটি মিললেও এর জিন বিন্যাস অনেকবার পরিবর্তিত (মিউটেট) হওয়ায় এটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় মারাত্মক হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। তবে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীরই মত, উদ্বেগ থাকলেও ভ্যারিয়েন্টটি কতটা সংক্রামক, আক্রমণের ধরন কতটা তীব্র হবে, টিকার সুরক্ষা এড়াতে পারবে কিনা কিংবা এটির কারণে মহামারী পরিস্থিতির অবনতি হবে কিনা, তা কেবল প্রাথমিক অনুমানের উপর ভিত্তি করে বলা যাবে না। ওমিক্রন অন্য ভ্যারিয়েন্টগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে বিশ্বজুড়ে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবে কিনা, তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।-বিডিনিউজ
মঙ্গলবারই দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা প্রথম করোনাভাইরাসের এই নতুন ধরন বা ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত করেন, যেসব নমুনা থেকে ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া গেছে সেগুলো নেওয়া হয়েছিল ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ মানুষের দেহে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই মিলেছে সবচেয়ে জনবহুল গৌতেং প্রদেশে। এর বাইরে বতসোয়ানা, হংকং, বেলজিয়াম ও ইসরায়েলে ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে।
নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছে; ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভ্যারিয়েন্টটির নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’ এবং একে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বা ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। এর আগে আলফা, বেটা, গামা ও ডেল্টার ক্ষেত্রেও একই ভাষ্য ব্যবহার করেছিল তারা। এর অর্থ হচ্ছে- প্রাথমিক তথ্য প্রমাণে ভ্যারিয়েন্টটি বেশি সংক্রামক এবং এর বিরুদ্ধে টিকা কম কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কতটা সংক্রামক : দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় ভ্যারিয়েন্টটি গৌতেংয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং সম্ভবত এখন দেশের অন্য ৮টি প্রদেশেও পৌঁছে গেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে শনাক্ত রোগী মিলেছে ২ হাজার ৪৬৫ জন; এই সংখ্যা আগের দিনের প্রায় দ্বিগুণ। দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস (এনআইসিডি) নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণেই এমনটা হয়েছে তা না বললেও দেশটির বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা রোগীর ঊর্ধ্বগতির পেছনে বি.১.১৫২৯ ধরনের ভূমিকা থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত যাদের দেহে ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে, তাদের বড় অংশই তরুণ। তবে এটি টিকাদানের হার বেশি এমন এলাকায় কেমন আচরণ করবে, তা বলা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি যে দেশে ভ্যারিয়েন্টটি মিলেছে, সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকাদানের হার খুবই কম। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের এক চতুর্থাংশের সামান্য বেশি কোভিডের টিকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জো পাহলা।
বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করছে যা : কোয়াজুলু-নাটাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সিকোয়েন্সিং প্ল্যাটফর্মের পরিচালক তুলিও ডি অলিভিয়েরা বলছেন, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ‘মিউটেশনের ধারা খুবই অস্বাভাবিক’, যার মধ্যে ৩০ এরও বেশিবার মিউটেশন হয়েছে কেবল স্পাইক প্রোটিনেই। সব ভাইরাসই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলায়। তবে বেশিরভাগ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই ভাইরাসটি যে দেহে আশ্রয় নেয় তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, বা ফেললেও তা এত সামান্য যে টেরই পাওয়া যায় না।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন
  • 27
    Shares
The Post Viewed By: 449 People

সম্পর্কিত পোস্ট