চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ মার্চ, ২০২১

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ

প্রশ্নোত্তর

মঙ্গলাভিযানের সাতকাহন

প্রশ্ন : ‘সেভেন মিনিটস অব টেরর’ বলতে কী বোঝায়?
যন্ত্রযানের অবতরণের শেষ সময়টিকে ‘সেভেন মিনিটস অব টেরর’ বলে আখ্যায়িত করেন বিজ্ঞানীরা। কেননা অবতরণের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ দারুণ জটিল এক কাজ। শেষ সময়ের এই গতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দ্রুত বেগে আছড়ে পড়ার কারণে এসব যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। প্রি-প্রোগ্রামিংয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে থাকতে হয়। তাই এই সময়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা এ ৭ মিনিট সময়কালে যন্ত্রযানটি বিজ্ঞানীদের ঠিক নিয়ন্ত্রণে থাকে না। নাসার গত ১৪টি উদ্যোগের ৬টি-ই ঠিক এ কারণেই ভেস্তে গিয়েছিল।

প্রশ্ন : মার্স রোভার কে নিয়ন্ত্রণ করে?
অবশ্যই ‘আর্থ স্টেশন’; এক্ষেত্রে নাসা। ২০১২’র ডিসেম্বরে ‘কিউরিওসিটি’র ২ বছরের অনুসন্ধান কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করে নাসা এবং ২০১৭’র ৫ আগস্ট মঙ্গলে এর ল্যান্ডিংয়ের পাঁচ বছর পূর্তি উৎসব পালিত হয়। কিউরিওসিটি এখনো মঙ্গলে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তথ্য পাঠাচ্ছে পৃথিবীতে। এটি ৩০৩৬ সাল পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবার কথা।

প্রশ্ন : পৃথিবী থেকে মঙ্গলে সিগনাল পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
বিষয়টা দূরত্ব আর মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে। আর যেহেতু উপগ্রহের মাধ্যমে প্রেরিত সিগনাল আলোর গতিতে যায়, সে হিসেবে সেটা পৌঁছাতে ৪ থেকে ২২ মিনিট সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন : নাসা কেন মঙ্গলে যাচ্ছে?
অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক কারণের সংক্ষেপিত উত্তরটা হতে পারে এমন- মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান, এর ভূমিরূপের গঠন সম্বন্ধে জানা এবং ভবিষ্যতে মানুষের নতুন ঠিকানা অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এসব অভিযান। তাছাড়া ‘পৃথিবী ছাড়া সৌরম-লের আর কোথাও প্রাণী রয়েছে কিনা’ এটা তো মানুষের চিরন্তন জিজ্ঞাসা।

প্রশ্ন : মঙ্গলে অক্সিজেন নেই তবুও কেন ‘মঙ্গলাভিযান’?
মঙ্গলের বায়ুমলের ৯৫ শতাংশই কার্বন-ডাই-অক্সাইড। অক্সিজেনের পরিমাণ মাত্র দশমিক ১৩ শতাংশ। কিন্তু পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে এবং এর থেকে সংগৃহীত উপাদানাদি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের ধারণা হয়েছে একসময় এখানে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল; হয়তো এখনো আছে। তাই তারা এখন চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঐ কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে সহজে অক্সিজেন উৎপাদনের। তাছাড়া এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীর পরে মঙ্গলই সবচেয়ে বাসযোগ্য। এর আবহাওয়া খুব গরমও নয়, আবার খুব ঠা-াও নয়। তাছাড়া এর মাটিতে পানির অস্তিত্ব মিলেছে। আর যথেষ্ট সূর্যালোক রয়েছে বিধায় ইচ্ছেমতো সৌর প্যানেল ব্যবহার করা যাবে।

প্রশ্ন : এ পর্যন্ত মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের কী কী নিদর্শন মিলেছে?
নাসার কিউরিওসিটি রোভার কিছু পাথর পাঠিয়েছে, যেগুলোয় বিজ্ঞানীরা প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছেন। তাছাড়া এর বায়ুম-লে পাওয়া মিথেন গ্যাসের কারণে বিজ্ঞানীরা বর্তমানেও সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বলছেন।

প্রশ্ন : মঙ্গলে এ পর্যন্ত ক’টি ব্যর্থ মিশন পরিচালিত হয়েছে?
এক্ষেত্রে চুল পরিমাণ ভুলও বিরাট বলে প্রমাণিত হয়েছে। অনেকগুলো প্রচেষ্টার প্রায় ৫০টি-ই ভেস্তে গিয়েছে ওই সামান্য ভুলের কারণে। রকেট, কিংবা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অন্য যন্ত্রাদির অতিসামান্য ত্রুটিই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই অঘটনগুলো ঘটিয়েছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 234 People

সম্পর্কিত পোস্ট