চট্টগ্রাম রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

২১ জানুয়ারি, ২০২১ | ১:৪৯ অপরাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক 

বাইডেন অধ্যায় শুরু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাইডেন অধ্যায় শুরু হলো। ট্রাম্প জমানার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেমোক্রেট নেতা জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে গতকাল বুধবার সমাগম ঘটেছিল মার্কিন রাষ্ট্রনেতাদের। পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দফা ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তাঁকে শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস।

হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট ফ্রন্টে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সিনেটর এমি ক্লোবুচার প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র উঠে দাঁড়ানোর সময়। সব গ্লানি মুছে সব সময়ের মতো যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়ার দিন আজ। চলুন নতুন করে শুরু করি ’

সেনা সদস্য ও নানা স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ইতিহাসের নায়ক জো বাইডেন তাঁর আবেগমাখা বক্তৃতা দেন। অভিষেক বক্তব্যে বাইডেন বলেছেন প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতির কথা। গত চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব মার্কিন যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে, তা থেকে বেরিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন জো বাইডেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমার সমস্ত সত্তাজুড়ে একটাই আকুতি, আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। আমি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে আমার সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই। বিশ্বকে আমরা আমাদের শক্তি দিয়ে নয়, নেতৃত্ব প্রদান করব উদাহরণ সৃষ্টি করে।’

‘জানি যে শক্তি আমাদের বিভক্ত করেছে তা গভীর আর সেগুলো বাস্তব। কিন্তু এও জানি এগুলো নতুন নয়। আমাদের ইতিহাস হলো আমেরিকান আদর্শ হিসেবে পরিচিত আমাদের সমতার বোধ এবং আমাদের টুকরো টুকরো করে ফেলা বর্ণবাদ, স্বজনপ্রীতি, ভয়, আর হুমকির মতো কঠোর বাস্তবতার মধ্যে চিরন্তন লড়াই,’ বলেন বাইডেন।

জো বাইডেন তার পূর্বসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ কিংবা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মর্মমূলে আঘাত হানলেন। দরিদ্র শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের ভোট জিততে বিভক্তির সূত্রে ট্রাম্প তাদের বিপরীতে শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন মুসলিম অভিবাসী আর মেক্সিকানদের।

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের সেই বিদ্বেষী রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে বাইডেন বলেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে বারবার বিভক্তির বিপরীতে ঐক্য জিতেছে। ক্ষোভ, ঘৃণা, উগ্রবাদ, বিচারহীনতা, সহিংসতা, রোগ, বেকারত্ব আর হতাশা কাটিয়ে উঠতে আমেরিকার জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন জো বাইডেন। বলেছেন, ‘ঐক্যের মাধ্যমে আমরা মহৎ কিছু করতে পারি, গুরুত্ব বিষয় বাস্তবায়ন করতে পারি।’

২০১৬ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বারাক ওবামার স্থলাভিষিক্ত হন ট্রাম্প। পশ্চিমের কথিত বিশ্বায়নের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করান তিনি। নব্য উদারবাদী অর্থব্যবস্থা মানুষকে যেখানে বিপন্ন করেছিল, ট্রাম্পের হাত ধরে নগ্ন বাজার আর পুরনো সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ সেখানে নিজের উত্থান ঘোষণা করে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মধ্য দিয়ে স্পষ্ট সূত্রে তিনি বিভক্ত করেন মার্কিনসহ বিশ্বজনতাকে।

‘আমরা’  আর ‘ওরা’ বিভাজনের মধ্য দিয়ে ঘৃণার বেসাতি ছড়াতে থাকেন কৃষ্ণাঙ্গ-মেক্সিকান-মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ৬টি মুসলিম দেশসহ ৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব করেও ব্যাপক সমালোচিত হন ট্রাম্প। নিয়েছেন একের পর এক অভিবাসী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ। সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্যে পড়েছে তার নগ্ন সাম্রাজ্যবাদী থাবা। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত উসকে দিয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গিয়েছেন অচেনা চেহারায়।

অভিষেক ভাষণে বাইডেন বলেন, এটা গণতন্ত্রের দিন, ইতিহাস এবং আশাবাদের দিন, আর নতুন করে শুরু করার আর সংকট সমাধান শুরুর দিন। বাইডেন বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা শোনা হবে আর জনগণের আকাঙ্ক্ষা দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা আবারও শিখেছি, গণতন্ত্র অমূল্য। গণতন্ত্র ভঙ্গুর। আর বন্ধুরা এই মুহূর্তে আমরা গণতন্ত্রের মধ্যে আছি।’ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিষেক ভাষণে উভয় দলের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

শপথ অনুষ্ঠানের চেয়ারপারসন রিপাবলিকান সিনেটর রয় ব্লান্ট তাঁর বক্তব্যে গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর হামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তাঁর আহ্বানে শপথ অনুষ্ঠানে সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। সিনেটর ব্লান্টের বক্তৃতা শেষে জো বাইডেন এগিয়ে গিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। বিখ্যাত মার্কিন সংগীত শিল্পী লেডি গাগা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে বাইডেন বলেন, ‘প্রিয় আমেরিকান বন্ধুরা, আমি আজ যেখানে শেষ করছি, সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে। ঈশ্বর ও আপনাদের সবার সামনে পবিত্র শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গেই থাকব।’ তিনি বলেন, ‘আমি সংবিধানকে রক্ষা করব। রক্ষা করব গণতন্ত্রকে। যুক্তরাষ্ট্রকে আমি আগলে রাখব। আর আমি আপনাদের সবাই, সবাইকে বলছি, ক্ষমতার কথা না ভেবে সম্ভাবনার কথা ভেবে আমি আপনাদের সেবা দিয়ে যাব। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনস্বার্থই হবে মূল। আমরা সবাই মিলে কোনো শঙ্কা নয়, এক মার্কিন আশার গল্প রচনা করব; বিভাজন নয়, ঐক্যের গল্প লিখব; অন্ধকার নয়, লিখব আলোর গল্প। এমন এক গল্প, যা ভদ্রতা ও মর্যাদা, ভালোবাসা শুশ্রুষা ও শুভকামনার।’

স্থানীয় সময় ১২টা ১৩ মিনিটে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর বক্তৃতা শেষ করেন। ‘ঈশ্বর যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করুন, ঈশ্বর সবাইকে রক্ষা করুন’, বলে জো বাইডেন তাঁর অভিষেক বক্তৃতা শেষ করেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 234 People

সম্পর্কিত পোস্ট