চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

৯ জানুয়ারি, ২০২১ | ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান

ট্রাম্পের ‘ইউ টার্ন’ কেন

টুইটার একাউন্টের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরপরই গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) যে ভিডিওবার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্প পোস্ট করেছেন, তার কাটা-ছেঁড়া শুরু হয়েছে। কারণ, বুধবার ক্যাপিটলে অর্থাৎ মার্কিন কংগ্রেস ভবনে তার সমর্থকদের নজিরবিহীন তাণ্ডব চলার সময় যে ভিডিও বার্তা এবং টুইট তিনি পোস্ট করেছিলেন – তার সাথে গতকালের বার্তার সুর ও বক্তব্য ছিল অনেকটাই আলাদা।

ওয়াশিংটনের বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক জন সোপলের ভাষায়, ‘ইউ টার্ন’ অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মি. ট্রাম্প যেন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করলেন। গতকাল তিনি মেয়াদ শেষে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারিতে ‘মসৃণভাবে নিয়মমতো’ নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে ক্ষত সারানোর এবং সমঝোতার’। বুধবারের তা-বে অংশ নেওয়া সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে তার কড়া ভাষার ব্যবহারে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

তিনি বলেছেন, অন্য সব আমেরিকানের মত তিনিও ‘অরাজকতা এবং ভাঙচুর’ দেখে ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকার গণতন্ত্রের পীঠস্থানে’ এই ‘ঘৃণ্য হামলার’ সাথে যারা জড়িত ছিল – তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

অথচ তার ২৪ ঘণ্টা আগে তার ভিডিও বিবৃতিতে এই সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন ‘তোমরা স্পেশাল’ এবং ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি’। সেই সাথে ঐ দিনই তিনি টুইট করেছিলেন, ‘যখন মহান দেশপ্রেমিকদের কাছ থেকে পবিত্র এবং বিপুল একটি নির্বাচনী বিজয় জঘন্যভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তার পরিণতিতে এমন ঘটনাই ঘটে’। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে তিনি কংগ্রেস ভবনে ঐ তা-বকে সমর্থন করেন। যে কারণে টুইটার এবং ফেসবুক তার একাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়।

চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ভাষা ও ভঙ্গির এই বদলে প্রেসিডেন্টের কট্টর সমর্থকরা হয়ত বিস্মিত হচ্ছেন, ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। বিশেষ করে যারা বুধবার – তার ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই হয়তো – ক্যাপিটল হিলে ঢুকে ভাঙচুর করার সাহস দেখিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতকালের বিবৃতির পর অনেক বিশ্লেষক বলছেন, নভেম্বর নির্বাচনের পর এই প্রথম তিনি পরোক্ষভাবে পরাজয় স্বীকার করলেন। যদিও মুখে তিনি তা বলেননি এবং একবারও জো বাইডেনের নাম বা তার তার বিজয়ের কথা মুখে আনেননি।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুর বদলালেন? ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির জন সোপল বলছেন, দুটো সম্ভাব্য কারণ হতে পারে: এক, কংগ্রেস জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে অনুমোদন করার পর ট্রাম্প এখন বুঝতে পেরেছেন যে ফলাফল বদলানোর আর কোনো চেষ্টাই কাজ করবে না। তাই আপাতত ক্ষান্ত দিয়ে হোয়াইট হাউজ পরবর্তী কৌশল নিয়ে ভাবতে চাইছেন তিনি।

দ্বিতীয় কারণ, বুধবারের ঘটনার পর নিজের দল এবং প্রশাসনের কাছ থেকে যে চাপ তার ওপর তৈরি হয়েছে তাতে সুর বদল করা ছাড়া কোনো বিকল্প হয়ত তার সামনে এখন নেই। প্রেসিডেন্টর ‘আচরণের’ প্রতিবাদে দুজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ দল এবং প্রশাসনের যেসব ব্যক্তি গত চার বছর ধরে তার সুরে কথা বলেছেন, তাদের অনেকেই তার কথা শুনছেন না।

জন সোপল বলছেন, বিশেষ করে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী উত্থাপন করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথাবার্তা নিয়ে ট্রাম্প হয়ত ঘাবড়ে গেছেন। অবশ্য মাত্র ১২ দিনের মধ্যে ইমপিচমেন্ট বা সংবিধানের ২৫ সংশোধনী এনে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব নয়। কিন্তু তার সরকারের ভেতর থেকেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কোনো উদ্যোগও তার শাসনামলের ওপর একটি কলঙ্ক হিসাবে থেকে যেত যেটা হয়ত ট্রাম্প চাইছেন না।-তথ্যসূত্র : বিবিসি

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 138 People