চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কল্যাণে ভি-স্যাট প্রতিষ্ঠানের পালে হাওয়া

সুদিন ফিরতে শুরু করেছে মৃত প্রায় দেশীয় ভি-স্যাট ( ভেরি স্মল এপারেচার টার্মিনাল) কোম্পানিগুলোর। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কল্যাণে আবারও চালু হতে যাচ্ছে ভি-স্যাট প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে অন্তত তিনটি ভি-স্যাট প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিটিভি ওয়ার্ল্ড, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি চট্টগ্রামের পাশাপাশি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল সময় টিভি, ডিবিসি নিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, এনটিভি, একাত্তর টিভি, বিজয় বাংলা ও বৈশাখী বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের লিংক ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মার্চ মাস থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট দিয়ে ট্রান্সমিশন করবে। এর আগে নতুন বছরেই (২০১৯ সালে) সংশ্লিষ্ট অপারেটরগুলোকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।জানতে চাইলে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরে আমাদের অগ্রগতি সন্তোষজনক। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নতুন নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করছে। এই স্যাটেলাইট ভি-স্যাট কোম্পানিগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরিয়ে দেবে। দেশীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্ভর হবে। মোটকথা একটা বড় কর্মযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে এবং এটা আরও বড় হবে।’জানা গেছে, সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এক কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে নতুন টেলিভিশনের লাইসেন্স পেতে গেলে স্পেকট্রাম বরাদ্দ নেওয়ার শর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে লাইসেন্সের জন্য টেলিভিশন কোম্পানিগুলোকে যেতে হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে। আর বিটিআরসি বরাদ্দ দেয় তরঙ্গ। এখন থেকে বিসিএসসিএল-এর কাছ থেকে তরঙ্গ বরাদ্দ নিতে হলে ছাড়পত্র নিতে হবে বিটিআরসির কাছ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের গ্রাহক বাড়বে এবং বিদেশে নিজেদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর ব্যবহার দেখিয়ে সক্ষমতা তুলে ধরা সহজ হবে।
বিসিএসসিএল দেশের তিন সেলস পার্টনার স্কয়ার, এডিএন ও ডিএনএস স্যাটকমের সঙ্গে চুক্তি করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান তিনটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিভিন্ন সেবা বিক্রি ও বিপণনের কাজ করবে। তিন সেলস পার্টনারেরই ভি-স্যাট ও হাবের লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্সিং প্রতিবন্ধকতার কারণে সেবা দিতে না পেরে প্রতিষ্ঠান তিনটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর তাদের ভি-স্যাট ও হাব নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। বাংলা ট্রিবিউন
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর অন্যতম সেলস পার্টনার ডিএনএস স্যাটকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফেল কবীর বলেন, ‘আবার সুফল পাওয়া যাবে। মার্কেট ওপেন হয়েছে।’ তিনি মনে করেন, ভি-স্যাট মানে যে অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) নয়, এই মাইন্ড সেটটার পরিবর্তন হবে। তিনি জানান, একটা সময় তো এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই সমস্যা আর থাকবে না। ভি-স্যাট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সেই সুদিনের অপেক্ষায় রয়েছে।
যেহেতু স্যাটেলাইটের সব ধরনের কাজ হবে ভি-স্যাটের মাধ্যমে, ফলে এই খাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, কাজের পরিধি বাড়ায় আরও ভি-স্যাট কোম্পানিকে অনুমোদন দিতে হবে সরকারের। সবার মাইন্ডসেট পরিবর্তনের ফলে ভি-স্যাট বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের মাঝে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রাফেল কবীর বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেলস পার্টনার হয়েছি। দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, ছিটমহলসহ বিচ্ছিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবা, ডাটা কানেকটিভিটি, ভিডিও কনফারেন্স, টেলিমেডিসিন, দূরশিক্ষণ ইত্যাদি সেবা দিতে ভি-স্যাট ও হাব ব্যবহার হবে।’ তার আশা, এর মাধ্যমে আবারও ভি-স্যাটে সুদিন ফিরবে। সেবা আরও সহজ হবে। কারণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থাকলেই হবে না, সব জায়গায় সেবা পৌঁছতে এসব হাব প্রয়োজন হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ মে, যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোর কেপ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণ করা হয়। এরপর ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিরক্ষরেখার ১১৯ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে স্থাপিত হয় এটি। এরপর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা শেষে স্যাটেলাইটের নির্মাতা ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া গত ৯ নভেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ তথা টাইটেল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপরই শুরু হয়েছে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট