চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

১৮ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য প্রযুক্তি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী। পরিসংখ্যান ব্যুারোর হিসাব মতে, দেশের ২.৮ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী যাদের বড় অংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী। বিশ্ব জনসংখ্যার বড় এ অংশকে প্রযুক্তির সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করতে টেক জায়ান্ট গুগল, ফেসবুক ও মাইক্রোসফটের রয়েছে বিশেষায়িত সেবা। বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহূত এ কোম্পানিগুলোর পণ্য এবং সেবাগুলো হয়ে উঠেছে প্রতিবন্ধীবান্ধব।

ফেসবুক: দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং বধিরতার মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাহায্যে ফেসবুকে রয়েছে বেশকিছু ফিচার। ফেসবুক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে হাঁটা, খাওয়া এবং আরও অনেক কিছুর মতো ছবির নির্দিষ্ট কার্যকলাপ সহজে ব্যাখ্যা করতে পারে। ফেসবুকের ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করে বিবরণে ছবিতে ট্যাগ করা ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বাংলাসহ ২৫টি ভিন্ন ভাষায় রয়েছে এ সেবা। ফটো সম্পর্কে বিস্তারিত যেন ব্যবহারকারীকে জানাতে পারে এমন এআই নিয়ে কাজ করছে ফেসবুক। অন্ধ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে কী ঘটছে তা বুঝতে সাহায্য করার জন্য ‘অটোমেটিক অলটারনেটিভ টেক্সট’ নামে একটি ফিচার রয়েছে ফেসবুক। ‘অবজেক্ট রিকগনিশন’ ফিচারের মাধ্যমে ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ছবিতে কী কী রয়েছে তা বর্ণনা করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে শোনাতে পারে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধার্তে ফেসবুকে রয়েছে কি-বোর্ড শর্টকাট (অ্যাক্সেস কি)।

গুগল: গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নির্ভর ডিভাইস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। অ্যান্ড্রয়েডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব বেশ কিছু ফিচার রয়েছে। মুখের অঙ্গভঙ্গি বা হাসি ব্যবহার করে বাক বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন তাঁদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন এজন্য এতে রয়েছে বিশেষ ফিচার। মেশিন লার্নিং এবং ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা নামে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন তাঁদের ফোনের স্ট্ক্রিন স্ক্যান করতে পারেন এবং হাসিমুখে, ভ্রু উঁচিয়ে, তাঁদের মুখ খুলে, বাম, ডান বা ওপরে তাকিয়ে নির্দিষ্ট কাজ নির্বাচন করতে পারেন এজন্য গুগলের দুটি টুল রয়েছে। পাশাপাশি ‘ক্যামেরা সুইচ’ ফিচারের মাধ্যমে স্মার্টফোনে যোগাযোগে ফোনের বাটন চাপার পরিবর্তে কণ্ঠ ব্যবহার করা যায়।

এ ছাড়া ‘প্রজেক্ট অ্যাক্টিভেট’ ফিচারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কল করা বা ফোন রেকর্ড করা বাক্যাংশ শোনার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। ফোন ব্যবহারে অপারগ বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্যও এটি দরকারি ফিচার। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিচারের মাধ্যমে সহজেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কল করা, টেক্সট করা কিংবা ভিডিও চালাতে পারেন। গুগলের তৈরি স্ট্ক্রিন রিডার অ্যাপ ক্রোমভক্স ব্যবহারকারীদের স্পিকার বা হেডফোনের মাধ্যমে বাজানো শব্দের সাহায্যে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে দেয়। গুগলের লুকআউট অ্যাপ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্যামেরার মাধ্যমে বস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করে। পথের কোনো বাধা সম্পর্কেও জানা যায় এটির সাহায্যে। গুগলের প্রজেক্ট ইউফোনিয়া বাক্‌প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দারুন একটি ফিচার। লাইভ রিলে বধির বা শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ভয়েস কল ভয়েস কলকে টেক্সট আকারে রূপান্তর করে দেয়।

মাইক্রোসফট: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাইক্রোসফটের রয়েছে প্রবেশগম্য প্রোগ্রাম। মাইক্রোসফট অফিস, যেমন- ওয়ার্ড, এক্সেল বা পাওয়ারপয়েন্টের মতো বহুল ব্যবহূত সফটওয়্যারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সবার ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অন্ধ এবং স্বল্প দৃষ্টিসম্পন্ন পাঠকদের জন্য শিরোনাম শনাক্ত করবে এবং রূপান্তর করবে। কোম্পানিটি উইন্ডোজ ন্যারেটর নামে সেবা চালু করেছে। অ্যাপ নির্ভর সেবাটি ফোন ক্যামেরা ব্যবহার করে রং, মুদ্রা, হাতের লেখা, বারকোড প্রভৃতি শনাক্ত এবং বর্ণনা করতে পারে। তথ্যসূত্র: সমকাল

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট