চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ | ২:২১ অপরাহ্ণ

দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট  ১ রাঙ্গামাটিতে

সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়ায়।  ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের। সে সময় একটি সদ্য স্বাধীন দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং তথ্য প্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চালু করা হয় দেশের প্রথম এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিত্র শক্তি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে ভারতের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির কাজ সম্পাদনের কথা বললেও সেই সময় জতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আহ্বান বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নিজ দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই স্বাধীন দেশে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেন।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধুর রাঙামাটি সফর ছিল রাঙামাটিতে তাঁর জীবনের শেষ সফর। বঙ্গবন্ধু এদিন দেশের প্রথম উপগ্রহ ভূকেন্দ্র উদ্বোধনের জন্য অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা বুর্তমান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বেতবুনিয়া সফর করেছিলেন। বর্হিবিশ্বের সাথে টেলিযোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দেশের প্রথম উপগ্রহ ভু-কেন্দ্র স্থাপিু হয় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের মধ্যবর্তী বেতবুনিয়ায়।  সাধারণ লোকজন এদিনও বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখার জন্য বেতবুনিয়ায় ভিড় করেন।  বঙ্গবন্ধুকে বরণে বেতবুনিয়াবাসীরও আয়োজনের কমতি ছিল না।

বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনের আগে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও বেুার মন্ত্রী কোরবান আলী, রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ বয়েতুল্লাহ, ডাক, তার ও টেলিফোন প্রতিমন্ত্রীকে এম ওবায়দুর রহমান, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, হুইপ মোহাম্মদ হানিফ, কানাডীয় হাই কমিশনার, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং বাকশাল নেতৃবৃন্দ ও পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় রাঙামাটি জেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ছাড়া, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধু সুইচ টিপে উপগ্রহ ভু-কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন এবং লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনারের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলীও কথা বলেন। তাঁদের কথোপকথন মাইকের মাধ্যমে লোকজনদের শোনানো হয়। জাতির জীবনের এই ছিল এক অবিস্মরনীয় দিন। বঙ্গবন্ধু এদিন বিকেলে কাপ্তাই যান এবং সেখানে দুই রাত অবস্থান করেন। ১৬ জুন তিনি ঢাকা ফিরে যান।

বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র মূলু কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে শক্তিশালী এন্টেনার মাধ্যমে ওভারসিস সিগন্যাল গ্রহণ করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স আদান প্রদানের জন্য রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়  ১২৮ একর সমুল ভূমিতে স্থাপন করা হয়। এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গণ শতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয়বহুল স্থাপনা।  ১৯৭১ সালে শুরু হয় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের পর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু নানা উদ্যোগ হাতে নেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক অঙ্গণে যতগুলো সংগঠন ছিল তার সবগুলোর সদস্যপদ নেন। বাংলাদেশে বৈদেশিক কল গ্রহণ ও পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল রাঙামাটিস্থ  কাউখালীর বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র। যা বৈদেশিক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বহির্বিশ্বের টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সরাসরি অথবা রেকর্ড করে দর্শকদের দেখানোর ব্যবস্থা ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের টেলিযোগাযোগ স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জ কাজে ব্যবহৃত হত এটি।

বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১  সংক্ষিপ্ত বর্ণনা : বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আকাশ থেকে আসবে ৪০ ধরনের বার্তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই তথ্যপ্রযুক্তির গোড়া পত্তন করেন ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে। এই ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে বিনা তারে সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হয়। স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনে যোগাযোগে এর অবদান ছিল অপরিসীম। এরপর দীর্ঘ সময় চলে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে তেমন কোন কর্মকা- করা হয়নি। বহু বছর কেটে যাওয়ার পর র্বুমান সরকার মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। এটি ২০১৮ সালের ১১ মে (বাংলাদেশ সময় ১২ মে) কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশ। এই প্রকল্পটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়িত হয় এবং এটি ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ রকেটের প্রথম পেলোড উৎক্ষেপণ ছিল।

পৃথিবীর মাত্র ৪৪টি দেশের স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তাদের কাছ থেকে বিশ্বের সব দেশ সহযোগিণা নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তরুণ প্রজম্ম ‘বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির প্রাণ কেন্দ্রের ইতিহাস হয়তো জানে না। গাজীপুরে অবস্থিত প্রাথমিক ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় সেকেন্ডারী ভূ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের ভূ-কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় ভূকেন্দ্র তৈরি করা হয়। জয়দেবপুরের ভূ-কেন্দ্রটি হল মূল স্টেশন। আর বেতবুনিয়ায় স্টেশনটি দ্বিতীয় মাধ্যম ব্যকআপ হিসেবে রাখা হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে দুটি ভূ-উপগ্রহ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

দেশের র্বুমানে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে ৪টি। এ গুলো হচ্ছে বেতবুনিয়া (রাঙামাটি)-প্রথম তালিবাবাদ (গাজীপুর)-দ্বিতীয়, মহাখালী (ঢাকা)-তৃতীয় এবং সিলেট-চতুর্থ।

রাঙামাটি কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া নামক স্থানে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১২৮ একরের বিশাল জায়গার ওপর স্থাপিত এই কেন্দ্রটিতে ৩৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার উর্ধমুখী আকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুত তথ্য আদান প্রদানের কাজ পরিচালিু হত।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে সরকারে এসেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের জন্য নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা শুরু করেন। এর মধ্যে সব বড় প্রকল্প হাতে নেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেুারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যায়। এতে ব্রডকাস্টিং থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগের সব সেক্টরেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আর বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না। অন্যদিকে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সেক্টর উন্নত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। স্যাটেলাইটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য সরকার প্রকল্পটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর কার্যক্রম শুরু হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকটি দেশ টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেম (৪০টি ট্যান্সপন্ডার, ২৬ কেইউ ব্যান্ড, ১৪ সি ব্যান্ড) এর গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

গাজীপুরের টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজের পাশেই ৪০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন। হংকং ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্যাটেলাইটগুলোকে  প্রতি বছর ১২ কোটি টাকা ভাড়া দিতে হতো। এই ভাড়া থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছে। বরং নিজস্ব স্যাটেলাইট দিয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

নির্মাণ ব্যয় : ২০০৮ সালে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে। এরপর ২০০৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন  ইউনিটের (আইটিইউ) কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ। কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবস্থার নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’ কে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার চুক্তি করে বিটিআরসি। ২০১৫ সালে বিটিআরসি রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে। ২০১৭ সালে কৃত্রিম উপগ্রহের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়। এই সংস্থার প্রাথমিক মূলধন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশে সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনার জন্য ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেক সভায় দুই হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া ‘বিডার্স ফাইন্যান্সিং’ এর মাধ্যমে এ প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে হংক সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) সাথে সরকারের প্রায় একহাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি হয়। এক দশমিক ৫১ শতাংশ হার সুদসহ ১২ বছরে ২০ কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার সংস্থা ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে অরবিটাল স্লট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর অর্থমূল্য ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

বিবরণ : বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহটি ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার ভূস্থির স্লটে স্থাপিু হয়। এটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ফ্রান্সের থ্যালিস অ্যালেনিয়া স্পেস কর্তৃক নকশা ও তৈরি করা হয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিমালিকানাধীন মহাকাশযান সংস্থা স্পেস এক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ১৬০০ মেগাহার্টজ ক্ষমুাসম্পন্ন মোট ৪০টি কে-ইউ এবং সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার বহন করবে এবং এটির আয়ু ১৫ বছর হওয়ার কথা ধরা হয়েছে। স্যাটেলাইটের বাইরের অংশে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পুাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে।

কারিগরি বৈশিষ্ট্য : বিএস-১ উপগ্রহটি ২৬টি কে-ইউ ব্যান্ড এবং ১৪টি সি ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার সজ্জিত হয়েছে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথের অবস্থান থেকে। কে-ইউ ব্যান্ডের আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরে তার জলসীমাসহ ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া অঞ্চল। সি ব্যান্ডেরও আওতায় রয়েছে এই সমুদয় অঞ্চল।

সুবিধা : বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে ৩ ধরনের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

ক) টিভি চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য স্যাটেলাইট ভাড়া করে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট চ্যানেলের সক্ষমুা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। আবার দেশের অনেকগুলো টিভি চ্যানেল এই স্যাটেলাইটের সক্ষমুা কেনায় দেশের টাকা দেশেই থাকবে। এর মাধ্যমে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস চালু সম্ভব হয়েছে।

খ) বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমুা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ। এর ব্যান্ডউইডথ ও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেটবঞ্চিত অঞ্চল যেমন পার্বত্য ও হাওড় এলাকায় উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া সম্ভব।

গ) বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। তখন এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট