চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ | ২:১০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ পুলিশ পরিপ্রেক্ষিত সেবায় প্রযুক্তি

মো. সাখাওয়াত হোসেন

 

পুলিশ হলো সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ট যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আইন শৃঙ্খলা সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বত্র কাজ করে থাকে। সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্ট নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে পুলিশের অগ্রগণ্য ভূমিকা মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও দুশ্চিন্তামুক্ত করতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। পুলিশের মূল কাজই হচ্ছে অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং যথারীতি সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা সুপ্রতিষ্ঠিত করা। পুলিশের সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতির বাইরেও রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। সে জন্য পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রে নানা রকমের চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

তাছাড়া রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পুলিশকে রাষ্ট্রীয় যে কোন বার্তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর ভূমিকা অবলম্বন করতে দেখা যায়। তথাপি পুলিশের সুনামের চেয়ে দুর্নামের মাত্রা বেশি চোখে পড়ে। পুলিশকে নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ জায়গায় মুখরোচক আলোচনা শোনা যায়, স্যু মিথ্যার অপলাপে পুলিশের চরিত্র নিয়ে এক শ্রেণির মানুষের মিথ্যাচারের বয়ানও সুস্পষ্ট। তথাপি আপদ বিপদ, প্রয়োজন, কারণে-অকারণে পুলিশের দ্বারস্থ হয় না এমন মানুষের পরিচয় পাওয়া দুষ্কর। মোদ্দা কথা হচ্ছে, পুলিশকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি মূল জায়গায় আলোকপাত করে স্যু মিথ্যার নিরূপণে মূল্যায়ন করাই যথার্থ হবে। কারণ পুলিশকে নিয়ে আলোচনার প্রাক্কালে নেতিবাচক বিষয় উঠে আসে, হলফ করে বলা যায়, স্যু মিথ্যার নিরূপণে প্রকৃত স্যু উদঘাটিত হলে পুলিশ সম্বন্ধে মানুষের নেতিবাচক ধারণা অনেকাংশে কমে আসবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সভ্যতার উৎকর্ষতায় অপরাধীরা পূর্বের তুলনায় দক্ষ ও কৌশলী হয়ে উঠছে। তারা প্রযুক্তিগণ দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হয়ে অপরাধের সংখ্যা ও তীব্রতাকে বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে দেখা গেছে, অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। অনলাইন মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ, নির্দেশনা, রণকৌশল তৈরি করা, অর্থ প্রদানকারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, বহির্বিশ্বে নিজস্ব মুাদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন ও দলের সঙ্গে নিয়মিু বৈঠক ও সাহায্য এবং সেবা গ্রহণ ইত্যাদি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীরা সংগঠনের কার্যক্রম ও তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। উপযুক্ত কারণেই করোনাকালীন সময়ে সাইবার অপরাধের সংখ্যা অন্যান্য অপরাধের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ও সহজলভ্যতায় পুরো পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবী খুব সহজেই ক্যাপচার করে একদেশে বসে নির্দেশনা ও সহযোগিণা প্রদান করে অন্য দেশে অবস্থানরত সহকর্মীদের দিয়ে মারত্মক ও ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করে ফেলে অপরাধীরা। জিআইএস, জিপিএস, হটস্পট ব্যবহার করে অপরাধীরা বিভিন্ন জায়গার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, অপরাধের ক্ষেত্র, টার্গেট সুনির্ধারণ খুব নিমিষেই করে ফেলতে পারে। একটা কথা বিশেষভাবে বলা জরুরি অপরাধীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক অবস্থান, শক্তিমত্তা, সক্ষমুা ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে হামলা তথা প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। অপরাধবিজ্ঞানের যৌক্তিক তত্ত্বানুযায়ী, কোন অপরাধী অপরাধ করার পূর্বে লাভ/ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করে অপরাধ সংঘটনে উদ্বুদ্ধ হয়। অর্থাৎ অপরাধ ঘটলে যে হারে ক্ষতি হবে তার তুলনায় লাভের হার বেশি হলে অপরাধীরা অপরাধ করার সাহস পায়। র্বুমান সময়ে অপরাধীরা অনেক হিসাব নিকাশ করেই অপরাধ করতে ব্রতী হয় এবং সেখানে ক্ষতির চেয়ে লাভের হার বেশিই থাকে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশও নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অনুশীলন করে থাকে। তারই ফলশ্রুতিতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অর্থাৎ অপরাধীদের পাকড়াও ও গ্রেপ্তারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশও প্রযুক্তিগণ দিক দিয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজনের মধ্য দিয়ে আধুনিক ও উন্নত পুলিশিংয়ের চর্চায় মনোনিবেশ করছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সব থেকে উল্লেখযোগ্য এবং আলোচনার ইতিবাচক দিক হলো, পুলিশ স্টাফ কলেজ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স গবেষণায় মনোনিবেশ করেছে। পুলিশের অন্যান্য ইউনিটেও নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যমান সমাজের সমস্যা ও কারণ খুঁজে বের করার জন্য গবেষণার বিকল্প নেই, বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য কার্যকরী সমাধান বের করার নিমিত্তে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে উঠে বাংলাদেশ পুলিশ এবং এ খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দও রয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের মধ্যকার নানাবিধ ইস্যু নিয়েও গবেষণা পরিচালিু হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের অভ্যন্তরীণ চাপ ও অন্যান্য সুবিধা/অসুবিধার বিষয়ে সুনির্ধারণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্ত নসাধিত হয়েছে।

‘উত্তম প্রশিক্ষণ, সর্বোত্তম সেবা’-এই স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশে পুলিশে যোগদানকৃত সদস্যরা দেশে এবং বিদেশে নানাবিধ প্রশিক্ষণ গ্রহণের ভিত্তিতে পেশাদারিত্বের জায়গায় নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অনুশীলনে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ, পুলিশের উল্লেখযোগ্য সদস্য পুলিশিং বিষয়ে উচ্চত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য বৃত্তি নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন এবং অনেকেই ডিগ্রি শেষে দেশে ফেরত এসে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ একাডেমিক জ্ঞান ও গবেষণায় পুলিশের সদস্যরা অগ্রগামী হয়ে অর্থপূর্ণ কাজ করে পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নেওয়ার প্রচেষ্টায় বদ্ধপরিকর। পুলিশ স্টাফ কলেজে মাস্টার্স ইন এপ্লাইড ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে এবং বিষয়টি আধুনিক পুলিশের অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যদের মানোন্নয়ন, সহায়তা ও পেশাদারিত্ব উন্নয়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডাব্লিউএন) এবং এ নেটওয়ার্কের ব্যানারে নারী সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখছে।

নতুন নতুন অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী হিসেবে যেমনভাবে আধুনিক হচ্ছে ঠিক তেমনভাবে পুলিশের মর্যাদাও সাধারণের নিকট পূর্বের তুলনায় গ্রহণযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ চালু করে ডিজিটাল সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশের চমকপ্রদ কাজের নজির পত্রিকার সংবাদে প্রতিনিয়ত দেখা যায়। জনগণ এবং পুলিশের মধ্যকার আস্থা ও সংকটের জায়গা পূর্বের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে উপনীত হচ্ছে। ৯৯৯ এ কল করে যে কেউ যে কোন ধরনের সেবা গ্রহণ করে থাকে এবং এর মাধ্যমে সহজলভ্য উপায়ে ও কম সময়ে পুলিশের সাহায্য গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বারস্থ হওয়া সম্ভব হয়ে উঠছে সাধারণ জনগণের এবং এর ভিত্তিতে সুদূরপ্রসারীও প্রভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্র।

Bangladesh Police Facebook Page-সাধারণ জনগণের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ বিশেষ উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় প্রভাব রাখতে সমর্থ হয়েছে। কারণ, ফেসবুকে পেজে যে কোন সমস্যা সম্বন্ধে অবহিত করার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট জায়গায় সংশ্লিষ্ট থানার সহযোগিণায় ভিক্টিমকে সহযোগিণা করার অজস্র নমুনা সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায়। পুলিশের অগ্রযাত্রার সোপানে পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি জনসাধারণের সেবা প্রদানের স্বার্থে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং এর প্রেক্ষিতে পুলিশ পাবলিকের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক প্রতিনিয়ত আস্থার জায়গা তৈরি করছে যা ইতিবাচক পুলিশিংয়ে ক্ষেত্রে খুবই আশাব্যঞ্জক। Bangladesh Police YouTube Channel-এ পুলিশের অগ্রগতি ও ইতিবাচক খবরের ভিডিও প্রচারিত হওয়ায় সাধারণ জনগণ পুলিশের সেবা ও কর্মপরিধি সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে এবং উক্ত বিষয়টি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। এছাড়া জঙ্গিসংক্রান্ত যে কোন তথ্য পেতে বা পুলিশি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে BD Police Help Line I Hello CT অ্যাপ চালু করে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) জঙ্গি দমন ও নির্মুলের ক্ষেত্রে দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত এবং পৃথিবীর অনেক দেশই জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনুসরণ করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশের উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার মধ্যে কৌশলের অন্যতম হচ্ছে জঙ্গি দমনে গঠিত হয় পুলিশের বিশেষায়িত জঙ্গি ইউনিট, সিটিটিসি ডিএমপি ও পরর্বুীতে অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। এ বিশেষ শাখায় দক্ষ ও মেধাবী পুলিশ অফিসারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে অত্যাধুনিক লজিস্টিকস, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সুব্যবস্থাপনায় পুলিশের এ ইউনিটের সক্ষমুাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

জননিরাপত্তা বিধান ও নিরাপদ সড়কের বিনির্মাণে পুলিশ সদস্যদের অমানবিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। অধিকাংশ জনগণ যেখানে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে অভ্যস্ত সেখানে জনগণকে সঠিক নিয়মের অনুশীলন করানো ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে খুবই কষ্টদায়ক। তথাপি রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যালে অমান্যকারীদের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য সকল টিআই ও সার্জেন্টকে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ‘No Hemlet-No Fuel’-লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের সাবধানতা ও সুর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তায় নিরাপদ পরিবেশ বজায়ের জন্য সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে অনলাইন ও অফলাইনে নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট বার্তা প্রদানের কাজটি শুরু করেছে যথার্থভাবে।

সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সিআইডিতে প্রয়োজন মোতাবেক সাইবার পুলিশ সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল আলামু (মোবাইল, কম্পিউটার, সার্ভার ইত্যাদি) এর ফরেনসিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সাইবার সেন্টার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টের অধীনে রুজুকৃত মামলার ফরেনসিক বিশ্লেষণে সাইবার সেন্টার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাছাড়া, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, ইকোনমিক ক্রাইমসহ অন্যান্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য সাইবার সেন্টার খুবই প্রয়োজন। অন্যদিকে ফেসবুক, গুগল, টুইটারসহ সার্ভিস প্রোভাইডার থেকে অবৈধ সকল কার্যক্রমের শনাক্তকরণের জন্য সাইবার সেন্টারের প্রয়োজন এবং সে কাজটিই সিআইডির সাইবার সেন্টার করে থাকে। এছাড়া অর্গানাইজড ক্রাইম, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো শাখার সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এন্ড ইন্টেলিজেন্স শাখা। তারই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ পুলিশে সাইবার ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধন হয়ে থাকে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিআইডির ফরেনসিক শাখা রয়েছে, প্রাপ্ত আলামু যথাযথভাবে নিয়মমাফিক সংরক্ষণ করে ল্যাবে পাঠানো হলে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে বিশেষজ্ঞ মুামতের মাধ্যমে অপরাধীকে চিহ্নিত করা সহজণর হয়। সে কারণেই ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগের আধুনিকতা ও প্রযুক্তিগণ উন্নয়ন জরুরি এবং সে কাজটিই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী করছে। সিআইডির ফরেনসিক শাখায় অনেকগুলো ইউনিট রয়েছে-ক্রাইমসিন ইউনিট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট শাখা, অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম, হস্তলিপি শাখা, জালনোট ও মেকি মুদ্রা শাখা, ফটোগ্রাফি শাখা, ব্যালাস্টিক ডিভিশন, আইটি ফরেনসিক শাখা, পদচিহ্ন শাখা, অণু বিশ্লেষণ শাখা এবং ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি। উক্ত শাখাগুলোর প্রত্যেকটির কার্যক্রম একটি অন্যটি থেকে আলাদা এবং সব শাখার একটি উদ্দেশ্য প্রাপ্ত নমুনাকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করে বিচার বিভাগের নিকট সঠিক তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করা।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা প্রদানের স্বার্থে ২০১০ সালে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ ফোর্সটি নিষ্ঠা আর দায়িত্বশীলুার জায়গায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যাত্রীদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে নিরবধি। বিমানবন্দরে এপিবিএন এর কার্যক্রম সম্বন্ধে অবগণ হওয়ার জন্য একটি ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে এবং সেসব খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিটটি প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের পুরস্কারও পেয়েছে। কাজেই বলা যায়, নবগঠিত ইউনিটগুলো জনগণকে সেবা প্রদানের নিমিত্তে বিরামহীন কাজ করে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে জনগণেরও স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং মানবিক পুলিশ হিসেবেও মর্যাদা প্রদান করেছে। কাজেই বলা যায়, জনসাধারণকে সঠিক সেবা প্রদানের স্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অপরাধীদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অভিনব কৌশল বাংলাদেশ পুলিশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট