চট্টগ্রাম সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

৩০ জানুয়ারী, ২০২০ | ৫:৪৩ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

ইন্টারনেটে বাড়ছে যৌন হয়রানি

অনলাইনে বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্নো অপরাধও বাড়ছে। সর্বশেষ রাজধানীর বনানীতে আড়ংয়ে এক নারীকর্মীর পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল চেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিরই এক সাবেক পুরুষ কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি)  আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজীবকে (২২) কারাগারে পাঠানো হয়। সজীব আড়ংয়ের বনানী শাখার বিক্রয়কর্মী ছিলেন।

ওই সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির নারীকর্মীদের পোশাক বদলের কক্ষের ভেন্টিলেটর দিয়ে সেলফি স্টিকে মোবাইল লাগিয়ে ১০ নারীর ৩০টি ভিডিও ক্লিপ ধারণ করেন। যা দিয়ে পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ করে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কখনো তিনি ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করেছেন, আবার কখনো ভিডিও কলে শরীর প্রদর্শনসহ নানা বিকৃত দাবি করেছেন তাদের কাছে। এর মধ্যে এক নারীর একটি ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন সজীব। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের উপকমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া জানান, এক নারীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার কথা স্বীকার করলেও সজীব এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটিয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে তার মোবাইল ফোন জব্দ করে সিআইডির ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা কিবরিয়া বলেন, ‘সজীবের মতো বিকৃত ও মনোবিকারগ্রস্তদের মাধ্যমে দেশে পর্নো অপরাধ বাড়ছে। এই ধরনের অপরাধের শিকার অধিকাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন না।’

পুলিশের তথ্যমতে, সারা দেশে ২০১৫ সালে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে ২৩২টি, ২০১৬ সালে ২০৬টি, ২০১৭ সালে ২৮০টি, ২০১৮ সালে ৩৭৩টি ও ২০১৯ সালে ৫৪০টি। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন অভিযোগে ২০১৫ সালে সারা দেশে মামলা হয় ৬৩৮টি, ২০১৬ সালে ৯২৩টি। একইভাবে ২০১৭ সালে ১ হাজার ৫৮টি, ২০১৮ সালে ১ হাজার ১৩৬টি ও ২০১৯ সালে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৬টি।ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ডিভিশনের তথ্যমতে, দেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। প্রতিবছরই মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে মামলা বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ শতাংশ। যা ২০১৮ সালে হয়েছে ৭ শতাংশ আর ২০১৯ সালে সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। গত বছরে ডিএমপির সাইবার ডিভিশনে ২ হাজার ৯৩২ জন ভুক্তভোগী তাদের লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৩ জন পুরুষ ও ১৩৭৯ জন নারী রয়েছেন। শতকরা হিসেবে ৫৩ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আইডি হ্যাকের শিকার হয়েছেন, ১ হাজার ১১২ জন। যার মধ্যে ৬০৬ পুরুষ ও ৫০৬ জন নারী রয়েছেন। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩৪৯ জন। যার মধ্যে ২৭০ জন পুরুষ ও ৭৯ জন নারী। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২১৮ জন। এর মধ্যে ৪৫ জন পুরুষ ও ১৭৩ জন নারী। ফেইক আইডি দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে ৫১৩ জনের সঙ্গে। এর মধ্যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১৯৫ জন পুরুষ ও ৩১৮ জন নারী। একই বছরে ৩৭ জন ই-মেইল হ্যাকের শিকার হয়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ভার্চুয়াল জগতে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১১ ধাপে অপরাধ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে ফোনে বার্তা পাঠিয়ে হুমকি, কপিরাইট আইন লঙ্ঘন, পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে প্রতারণা এবং অনলাইনে কাজ করিয়ে নেয়ার কথা বলে প্রতারণা অন্যতম। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ভুক্তভোগী বেশি। যাদের ৮০ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন না। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ টি অভিযোগ জমা হচ্ছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে। এই হিসাবে মাসে আড়াই শতাধিক অভিযোগ জমা হচ্ছে। এছাড়া অভিযোগ জমা না দিয়েই প্রতিদিন গড়ে অন্তত অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়ে থাকে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এর বাইরেও বিশাল একটি অংশ আইনি সহায়তা না নিয়ে গোপনে যাতনা ভোগ করতে থাকেন।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর

The Post Viewed By: 204 People

সম্পর্কিত পোস্ট