চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:০৫ এএম

ডা. প্রীতীশ বড়ুয়া

এলোপেসিয়া এরিয়েটা

এলোপেসিয়া হচ্ছে চুল পড়ে যাওয়া, আর এরিয়েটা বলতে স্থান বা জায়গা বোঝায়। মোদ্দাকথায় এক বা একাধিক জায়গা থেকে চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়াকে এলোপেসিয়া এরিয়েটা বলে। মাথায় বেশি দেখা গেলেও- দাড়ি, ভূরু সহ শরীরের লোমশ অংশেও এটি হতে পারে। কিছু রোগির ক্ষেত্রে হালকা জ্বালাপোড়া ছাড়া উপসর্গ এক্কেবারে থাকে না বললেই চলে। হঠাৎ করেই গোল বা ডিম আকারের স্থান চুলবিহীন হয়ে যায় এবং চুল কাটাতে গেলেই- তা বেশি ধরা পরে। আক্রান্ত স্থান বা স্থানগুলি তেলতেলে থাকে আর চুল থাকলেও খুবই সামান্য- যা কিনা খুবই ছোট, পাতলা ও ভংগুর। এলোপেসিয়া এরিয়েটা সাধারণত, তিনটি ধাপে অগ্রসর হয়। হঠাৎ চুল পড়ে যাওয়া, চুলশূন্য স্থান বা স্থানগুলির আকার আয়তন বাড়া এবং চুল গজাতে থাকা। নতুন চুল গজাতে মাস থেকে বছর লেগে যেতে পারে। গজানো নতুন চুল সাদা বা ধূসর রঙের হয়। আবার এক স্থানে চুল গজানোর পাশাপাশি আরেক স্থান থেকেও চুল চলে যেতে পারে। চুলের পাশাপাশি হাত পায়ের নখেও শতকরা ১০-১৫ ভাগ ক্ষেত্রে লক্ষন প্রকাশ পেতে পারে। নখে ছোট ছোট গর্ত সহ খাঁজ দেখা দেয়।

এলোপেসিয়া এরিয়েটা আক্রান্তের শতকরা ৮০ ভাগ সাধারণত ৪০ বছর বয়সের নীচে হয় এবং নারী পুরুষ উভয়ই সমভাবে আক্রান্ত হতে পারেন। এটিকে একপ্রকার অটোইমিউনো রোগ বলা হয়। অবশ্য কেন কিভাবে এটি হয় তার কারণ পুরাপুরি জানা যায়নি। তবে দেখা গেছে যাদের এই রোগটির বা অনান্য অটোইমিউনো রোগের বংশগত ইতিহাস আছে তাদের শতকরা ১০-২৫ ভাগ এই রোগে ভূগতে পারেন। পাশাপাশি যাদের থাইরয়েড, শ্বেতী, এটোপিক একজিমা, ডাউন সিনড্রোম বা বায়লোজিক্যাল ঔষধ সেবনের ইতিহাস আছে তারাও বেশি আক্রান্ত হতে পারেন। আবার কিছু কিছু অনূঘটক রয়েছে যেগুলি এই রোগটি হবার জন্য শরীরকে খুঁচিয়ে দিতে পারে। যেমন- ভাইরাল ইনফেকশন, ক্ষত বা আঘাত, হরমোন তারতম্য, মনো-শারীরিক চাপ ইত্যাদি।
এলোপেসিয়া এরিয়েটা চর্মরোগটি খুব একটা প্রতিরোধ যোগ্য নয়। তারপরও অনান্য অনূঘটকগুলি থেকে সাবধানতা নেওয়া যেতে পারে। প্রতিকারক চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে, মাঝারী বা তীব্র মানের স্টেরয়েড, মিনোস্কিডিল বা ডায়াথ্রিনল মলম বা লোশন, স্থানীয় স্টেরয়েড ইনজেকশন এবং সময় সময় মুখে খাবার স্টেরয়েড, ইমিনোথেরাপি ইত্যাদি। তবে কোনটি যে সুনিশ্চিত তা বলা মুশকিল। দেখা গেছে চিকিৎসা বন্ধ করলে পুনরায় চুল পড়া শুরু হতে পারে। তবে আশার কথা হচ্ছে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাল হয়ে যায়। তাই টোটকা

চিকিৎসায় না গিয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

The Post Viewed By: 111 People