চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২১ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

হরিতকীর গুনাগুন সব রোগের জন্য কার্যকর

ভেষজ চিকৎসকরা হরিতকী গাছকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তারা বলেন, মানুষের কাছে এ বৃক্ষ মায়ের মতোই আপন। মানুষের শরীরে সংক্রমিত প্রায় সব রোগ-ব্যাধির ওষুধ হিসেবে হরিতকীর ব্যবহার রয়েছে। সব রোগ হরণ করে বলেই প্রাচীন শাস্ত্রকাররা এর নাম দিয়েছেন হরিতকী। অর্শ রোগে হরিতকি গুঁড়া তিন থেকে পাঁচ গ্রাম পরিমাণ ঘোলের সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে খেলে সেরে যাবে। রক্তার্শে আখের গুড়ের সঙ্গে হরিতকী গুঁড়া মিশিয়ে খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই সুফল পাওয়া যায়। চোখের রোগের ক্ষেত্রে হরিতকী ছেঁচে পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। পিত্ত বেদনায় সামান্য গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে হরিতকী গুঁড়া সেবন করতে হয়। গলার স্বর বসে গেলে মুথা ও হরিতকী চূর্ণ মধুর সঙ্গে বেটে পান করলে স্বর স্বাভাবিক হয়। হরিতকী ফল হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস এবং ঋতুস্রাবের ব্যথায় খাওয়ানো হয়। জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেট ফাঁপা, ঢেকুর উঠা, বর্ধিত যকৃত ও প্লীহা, বাতরোগ ও মূত্রনালীর অসুখেও বিশেষ উপকারী। কাঁচা ফল রেচক হিসেবে কাজ করে। আধুনিক ভেষজ চিকিৎসকরা ফুসফুস ও শ্বাসনালীঘটিত রোগে হরিতকী বহুল ব্যবহার করে থাকেন। কাশি ও শ্বাসকষ্টে হরিতকি খুবই কর্যকর। এছাড়া, ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা কিংবা বমি বমি ভাব কাটাতেও হরিতকী ব্যবহৃত হয়। ত্রিফলা অর্থাৎ আমলকি, হরিতকী ও বহেরা এর প্রতিটির সমপরিমাণ গুঁড়ার শরবত কোলেস্টেরল কমাবার অর্থাৎ প্রেসার বা রক্তচাপ কমাবার মহৌষধ। এক ওষুধ গবেষক দলের মতে, আধুনিক যে কোন এলোপ্যাথিক ঔষধের তুলনায় ত্রিফলা কোলেস্টেরল কমাবার ক্ষেত্রে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। পরিচিতি : মধ্যম থেকে বৃহদাকারের পত্রমোচী বৃক্ষ। উচ্চতায় ২০-৩০ মিটার হয়। বাকল গাঢ় বাদামী। বাকলে লম্বা ফাটল থাকে। পাতা লম্বাকৃতির, ৭-২০ সে.মি. হয়। ফুল সাদা বা হলুদ হয় এবং স্পইকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। ফল ড্রপ, ঝুলন্ত, চার সে.মি লম্বা সবুজাভ হয়। কাঠের রং ঘন বেগুনি, খুব শক্ত, ভারী ও মাঝারি আকারের টেকসই।

The Post Viewed By: 353 People

সম্পর্কিত পোস্ট