চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩

রোজায় চিকিৎসা বিষয়ক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিয়ম-কানুন

রায়হান আজাদ 

৮ এপ্রিল, ২০২৩ | ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান যুগে চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রতিদিন নিত্য-নতুন পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হচ্ছে যা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মানুষের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। ফলে রোজাদারের রোজা ভঙ্গ হওয়া না হওয়া প্রসঙ্গটিও  নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। নিম্নে রমজানে ব্যবহৃত কতিপয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পদ্ধতি ও তার শরীয়তি বিধান উপস্থাপিত হলো।

ইনহেলার: ইনহেলার ব্যবহারের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ ইনহেলারের মাধ্যমে কোন জিনিস পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছা প্রায় অসম্ভব এবং ইনহেলার খাবার বা পানীয় পর্যায়ে পড়ে না।

এনডোসকপি: এনডোসকপি একটি চিকিৎসাযন্ত্র যা মুখ গহ্বরের ভিতর দিয়ে পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যা দ্বারা ভিতরকার ক্ষত উপড়ে ফেলা অথবা তার চিত্র ধারণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ, এটি পাকস্থলী পর্যন্ত পৌছে।

নাকের ড্রপ: নাকের ড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ নাসারন্ধ্রের সাথে পাকস্থলীর সংযোগ রয়েছে।

এনেসথেসিয়া: এনেসথেসিয়া দু’ধরনের। আংশিক অবশীকরণ এবং সম্পূর্ণ অবশীকরণ। চীনা আকুপাংচার পদ্ধতিতে বা ইনজেকশান দিয়ে যদি রোজাদারের শরীরের আংশিক ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্যে অবশ করা হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। আর যদি সম্পূর্ণ শরীর দীর্ঘক্ষণ সময় ধরে অজ্ঞান করে রাখা হয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

কানের ড্রপ: রোজা অবস্থায় কানে যে কোন প্রকার ড্রপ দিলে অধিকাংশ আলেমদের মতে রোজা ভেঙে যাবে।

চোখের ড্রপ: রোজা অবস্থায় চোখের ড্রপ দিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ চোখের ড্রপে যে পরিমাণ পানি ও ওষুধ থাকে তা পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছার আগেই শুকিয়ে যায়।

ইনজেকশন: ইনজেকশন সাধারণত তিন প্রকার: চামড়া, রগ ও পেশীতে ব্যবহৃত ইনজেকশন। চামড়ায় দেয়া ইনজেকশন (ইনসুলিন) এবং পেশীতে দেয়া ইনজেকশানের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, এগুলো কোন প্রকার খাবার ও পানীয় জাতীয় দ্রব্যের আওতায় পড়ে না। তবে রগে দেয়া ইনজেকশন যাতে খাবার সরবরাহ করা হয় (স্যালাইন) এতে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

সাবজেটরি: দীর্ঘ ও প্রচণ্ড জ্বর কমানোর জন্য অথবা অর্শ্বরোগের ব্যথা কমানোর জন্য মলদ্বার দিয়ে ঢুকানোর ট্যাবলেট হচ্ছে সাবজেটরি। এটি ব্যবহারে অধিকাংশ আলিমের মতে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, এটি খাবার ও পানীয়ের আওতায় পড়ে না। .

রক্ত দান: রোজাবস্থায় অপর কাউকে রক্ত দান করলে ইমাম ইবনে তাইমিয়াসহ অধিকাংশ আলিমের মতে রোজা ভেঙে যাবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার ফলে বেরিয়ে আসছে রোজার চমৎকার উপকারিতার কথা। রোজা পালন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তো নয়ই বরং রোজা রোগমুক্তির অন্যতম উপায়, সুস্থ হওয়ার গ্যারান্টি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন-‘তোমাদের রোজা তোমাদের জন্য কল্যাণকর’ (সুরা আল বাকারা, ১৮৭)।

মানব জীবনে খাদ্য ও পানীয়বস্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মানুষ যদি খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকে তাহলে কত দিন পর্যন্ত তার সঞ্চিত শক্তি উক্ত মানুষের প্রয়োজন মিটাতে পারে?

চিকিৎসা বিজ্ঞান বর্ণনা করছে: মানুষ যদি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে বিরত রাখে তাহলে তার শক্তি ভা-ার থেকে তার চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিপ্রেক্ষিতে কম পক্ষে একমাস এবং ঊর্ধ্বে তিন মাস শক্তি সরবরাহ করতে পারে। অথচ ইসলাম মুসলিমদের দৈনিক মাত্র ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই সামান্য সময় বিরত থাকা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও সম্পূর্ণ নিরাপদ। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সিয়াম সাধনার নেয়ামত গ্রহণ এবং সিয়ামের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে  ব্যক্তি ও সমাজ গঠনের তৌফিক দান করুন, আমীন।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট