চট্টগ্রাম বুধবার, ০৭ জুন, ২০২৩

২৪ মার্চ, ২০২৩ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

পবিত্র রমজানে হৃদরোগীদের সতর্কতা ও করণীয়

হৃদরোগী যাদের অবস্থা চিকিৎসা গ্রহণে স্থিতিশীল তারা নির্বিঘ্নে রোজা রাখতে পারেন। চিকিৎসক প্রদত্ত ওষুধ ও নির্দেশনা মেনে চলাই যথেষ্ট। এ সময়ে পানি শূন্যতা পরিহার করুন। বিশেষত বয়স্ক হৃদরোগীদের পানি শূন্যতাজনিত নিম্নরক্তচাপ হৃদরোগের উপসর্গ বাড়াতে পারে।

ঘুমের ছন্দ পরিবর্তনের কারণে ঘুমাতে যাওয়ার সময় গৃহীত ওষুধ ও ভোর রাতে গৃহীত ওষুধের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমে যায়। এতে ওষুধের কার্যকারিতা বেড়ে রক্তচাপ কমতে পারে চিকিৎসকের পরমার্শ আবশ্যক। এ সময় হৃদরোগে গৃহীত মূত্রবদ্ধক (ডায়াবেটিক) ওষুধ সকালের পরিবর্তে সন্ধ্যায় (ইফতারির পর) গ্রহণ আবশ্যক।

এ সময়ে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ অন্যান্য সময়ের তুলনায় সুনিয়ন্ত্রিত থাকে। তবে ইফতারি, সেহরি ও ইফতার পার্টিতে কম লবণযুক্ত ও কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ আবশ্যক। রমজানের প্রথম সপ্তাহে ঘুমের ছন্দের পরিবর্তনের কারণে গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ছন্দহীনতার (অ্যারিথমিয়া) আশংকা থাকে। এ সময়ে বাড়তি
সতর্কতা আবশ্যক।

হার্টে স্টেন্ট লাগানো রোগীদের জন্য ব্যবহৃত, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে ব্যবহৃত রক্তজমাট বাঁধা বন্ধ করার ওষুধের মাত্রা ও সেবনবিধি অপরিবর্তিত থাকবে। তা সেহরির পর সেবন উপযুক্ত। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও সদ্য হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের রোজা রাখার ব্যাপারে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ জরুরি। আনুষঙ্গিক ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হৃদরোগীদের বাড়তি সতর্কতা আবশ্যক।

রমজান মাসের সংযম ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা পরবর্তী সময়েও ধরে রাখুন। দীর্ঘায়ু হোন।

লেখক: মহাসচিব, চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন ও প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, হৃদরোগ বিভাগ, চমেক হাসপাতাল

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট