চট্টগ্রাম বুধবার, ০৭ জুন, ২০২৩

২০ মার্চ, ২০২৩ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

নবজাতকের মেনিনজাইটিস হতে পারে লক্ষণবিহীন

মস্তিষ্কের এবং মেরুরজ্জুর আবরণীকে জীবাণু আক্রমণ করলে এই রোগ হতে পারে। এই সর্বনাশা রোগে মস্তিষ্কের আবরক ঝিল্লির প্রদাহ হয়ে থাকে। এর সঙ্গে ব্রেনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতায় ভুগতে পারে।

 

কারণ: বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, যক্ষ্মা রোগের জীবাণু দ্বারা এই রোগ হতে পারে। শিশুর একেক বয়সে একেক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

লক্ষণ:
১) খুব সতর্ক না থাকলে দুই মাসের কম বয়সী শিশুর মেনিনজাইটিস রোগ নির্ণয় এড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কেননা নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াই এই বয়সের শিশুর মেনিনজাইটিস হতে পারে, বিশেষত জন্মের এক মাসে। ‘শিশু বুকের দুধ টেনে খাচ্ছে না’ বা একটু একটু খাচ্ছে, কিংবা মায়ের কাছে ‘আমার শিশু ভালো নেই’ মনে হওয়া রোগের প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে। জ্বর, অত্যধিক বমি, পেট ফোলা, শ্বাসকষ্ট—এসব লক্ষণ থাকলে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুর মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে। খুব অল্পসংখ্যক নবজাতকের মেনিনজাইটিসে সুনির্দিষ্ট লক্ষণ যেমন—মাথার চাঁদি ফুলে যাওয়া, খিঁচুনি, ঘাড় শক্ত ইত্যাদি পাওয়া যায়।

 

২) জ্বর, বমি, মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, কান পাকা ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর মাথার চাঁদি ফুলে আছে কি না দেখা দরকার। সাধারণত ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুর মাথার চাঁদি খোলা থাকে। শিশু শান্ত থাকলে, স্বাভাবিক অবস্থায় চাঁদি কিছুটা নিচে, আবার কান্নারত অবস্থায় একটু ফুলে থাকে মনে হয়। শিশুর ঘাড় যদি শক্ত হয়ে থাকে এবং শিশু যদি নিজের থুতনি বুকের সঙ্গে লাগাতে সক্ষম না হয়, তবে মেনিনজাইটিস কি না সন্দেহ পোষণ করা হয়। মেনিনগোকক্কাল মেনিনজাইটিসে শিশু দ্রুত শকে চলে যায় এবং গায়ে লাল লাল দানা দেখতে পাওয়া যেতে পারে।

 

চিকিৎসা: শিশুর মেনিনজাইটিস সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত তাকে বিশেষজ্ঞ দেখানো এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার। বিশেষ অসুবিধা না থাকলে পিঠ থেকে সিএসএফ বের করা দরকার। খালি চোখে এর রং ঘোলাটে থাকলে ব্যাকটেরিয়ার কারণে মেনিনজাইটিস হয়েছে প্রায় নিশ্চিত হওয়া যায়। সিএসএফ ঘোলাটে রং দেখে নিঃসন্দেহ হলে, রিপোর্ট পাওয়ার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করে পরে প্রয়োজন হলে রিপোর্ট অনুযায়ী তা বদলানো যেতে পারে।

 

পরামর্শদাতা: অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট