চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৭ নভেম্বর, ২০২২ | ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

সুতাকৃমিতে শিশু সংক্রমিত হলে করণীয়

মলদ্বার চুলকানো শিশুর দুরবস্থা দেখে মা-বাবারা খুব দুশ্চিন্তায় ভোগেন। মলদ্বারে চুলকানো উপসর্গ কোনো কোনো শিশুর জন্য সীমাহীন সমস্যার সৃষ্টি করে।

কারণ:
মলদ্বারে চুলকানোর নানা কারণ রয়েছে। এসবের মধ্যে আছে এনাল ফিশার, পায়খানার রাস্তায় কোনোরূপ জ্বালাযন্ত্রণা বা এলার্জি রোগীর ভেজা আন্ডারপ্যান্ট। তবে রাতের বেলা পায়খানার রাস্তা চুলকানোর সর্বাধিক কারণ হচ্ছে সুতাকৃমির সংক্রমণ। রাতের বেলায় স্ত্রী সুতাকৃমি শিশুর মলদ্বারে নেমে এসে ডিম পাড়ে।

এতে পায়খানার রাস্তা সাংঘাতিক চুলকায়। এতে করে শিশুর অনেকটা নিজের অজান্তেই হাত দিয়ে পায়খানার রাস্তা চুলকাতে থাকে। এ সময় নখের মধ্যে ডিম ঢুকে যায়। পরে শিশু যখন কৃমির ডিম লেগে থাকা হাত নিজ মুখে পুরে দেয়, তখন সেই ডিম পেটে গিয়ে আবারও কৃমি তৈরি হয়। এভাবে এক অবিনাশী চক্র গড়ে ওঠে।

করণীয়:
কৃমির চিকিৎসা খানিকটা জটিল। তাছাড়া একই পরিবারে অন্য সদস্যদের মধ্যেও এই কৃমির সংক্রমণ থাকে, ফলে একসঙ্গে সবার চিকিৎসা না করানো হলে এই রোগ হতে শিশুকে মুক্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিশু ও পরিবারের সবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক, যেমন—নিয়মিত নখ কাটা, পায়ে স্যান্ডেল পরানো, শিশুর পরিধানে কিছুটা লম্বা পায়জামার মতো প্যান্ট পরানো—যাতে করে ঘুমের মধ্যে সে খালি হাতে পায়খানার রাস্তা না চুলকাতে পারে। এসব পদক্ষেপ কৃমি সংক্রমণ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি নির্দিষ্ট নিয়মে কৃমির ওষুধ শিশুকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের খাওয়ানো। প্রতি তিন মাস অন্তর এই কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যায়।

চিকিৎসা:
শিশুর মলদ্বার চুলকানোর চিকিৎসা কার্যক্রমের মধ্যে আছে কারণ অনুসন্ধানপূর্বক নির্দিষ্ট চিকিৎসা। অল্প ক্ষারের সাবান দিয়ে পায়খানার রাস্তা পরিষ্কার রাখা ও নরম কাপড় দিয়ে মুছে তা শুষ্ক রাখার ব্যবস্থা করা। ছোট শিশুর জন্য রোদের আলো বা সামান্য গরম ভাপের সাহায্যে পায়খানার রাস্তা চুলকানোর যন্ত্রণা খানিকটা লাঘব করা যায়।

পরামর্শ দিয়েছেন: প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট