চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২০ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:৪০ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

পাঁচ ঘণ্টা না ঘুমালেই বিপদ

বয়স ৫০ পার করার পর রাতে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা না ঘুমালে একাধিক দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে গবেষকরা বলছেন। তাঁরা বলছেন, খারাপ স্বাস্থ্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে খারাপ ঘুমও শরীরের জন্য একটি সতর্কতা বা ঝুঁকি হতে পারে। খবর বিবিসির।

যুক্তরাজ্যের বেসামরিক কর্মচারীদের স্বাস্থ্য এবং ঘুমের ওপর এ গবেষণাটি চালিয়েছে পিএলওএস মেডিসিন। এতে প্রায় ৮ হাজার অংশগ্রহণকারী সবাইকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘আপনি সপ্তাহান্তের রাতে গড়ে কত ঘণ্টা ঘুমান?’ এ জন্য কেউ কেউ একটি হাতঘড়ি স্লিপ ট্র্যাকারও পরেছিলেন।

এটা প্রমাণিত, ঘুম শরীর ও মনকে প্রফুল্ল এবং পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর দুই দশক ধরে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, পঞ্চাশোর্ধ্ব যেসব লোক দিনে সাত ঘণ্টা ঘুমায়, তাদের তুলনায় দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমানোদের একাধিক রোগের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেশি। ৫০ বছর বয়সের পর কম ঘুম প্রধানত দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকির ফলে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি সৃষ্টি করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং প্যারিস সিটি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেন। এটা স্পষ্ট- ঘুম মস্তিস্কের স্মৃতি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং মেজাজ ভালো রাখা, মনোনিবেশ এবং বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী। ঘুম মস্তিস্কের বর্জ্য পরিস্কার করারও একটি সুযোগ।

সুরে স্লিপ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডার্ক-জান ডাইক বিবিসিকে বলেছেন, এই গবেষণা এ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে- শুধু অল্প ঘুম আমাদের জন্য ভালো নয়। সাধারণত এটি স্বাস্থ্যকরও নয়। তবে কারও কারও জন্য এটি সমস্যার কারণ নাও হতে পারে। আবার দীর্ঘ খারাপ ঘুম স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

ঘুম কম হলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পৃথিবীজুড়ে ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কম ঘুমের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং মোটা হয়ে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক মাত্রায় নিয়মিত ঘুম হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে। আবার নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত বা অনিদ্রা হলে তা একজন মানুষকে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ফেলে দিতে পারে।

চিকিৎসকরা এখন খুব কম ক্ষেত্রেই ঘুমের ওষুধ খেতে বলেন। কারণ এতে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং এ ধরনের ওষুধের ওপর ক্রমান্বয়ে নির্ভরতা বাড়তে পারে। কিন্তু ঘুম না-হওয়া সমস্যার প্রায়ই সমাধান করা যায়।

ভালো ঘুমের টিপস:
ব্যস্ত এবং সক্রিয় থাকার মাধ্যমে দিনের বেলা নিজেকে ক্লান্ত করুন, সেই সঙ্গে ঘুমানোর আগে ধীরে ধীরে চাপ কমিয়ে আনুন। দিনের বেলা ঘুম এড়িয়ে চলুন। রাতে ভালো ঘুমের উপযোগী রুটিনে অভ্যস্ত হোন। এটা নিশ্চিত করুন- আপনার শোবার ঘরটি আরামদায়ক এবং ঘুমের জন্য উপযোগী। যেমন আরামদায়ক তাপমাত্রা এবং বিছানা; বিছানায় স্মার্টফোন স্ক্রল না করা, শয়নকালের কাছাকাছি ক্যাফিন, এলকোহল বাদ দেওয়া।

ঘুম না এলে জোরাজুরি করা বা হতাশ হওয়ার দরকার নেই। এমনটা হলে বিছানা থেকে উঠে যান এবং কিছুক্ষণের জন্য আরামদায়ক কিছু করুন। যেমন কিছুক্ষণ বই পড়ে তারপর ঘুমাতে যান। তথ্যসূত্র: সমকাল

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট