চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৬ আগস্ট, ২০২২ | ১:১৪ অপরাহ্ণ

একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স

আমাদের শরীরের গলা, ঘাড়, বগল, ঊরুসন্ধির বিভিন্ন ভাঁজে বা খাঁজে থকথকে কালো ও মোটা আকারের চর্মচিহ্ন দেখা যায়। চিহ্নগুলি শরীরে এক্রাল অঞ্চলে বা হাত—পা এর সামনের অংশেও হতে পারে। এই ধরণের চর্ম চিহ্নগুলোকে একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স বলা হয়।

তবে এটি সত্যিকারে চর্মরোগ কিনা তা নিয়ে মতদৈত্বতা রয়েছে। অনেক ধরণের রোগের বা অবস্থার কারণে ত্বকে স্থানীয় প্রতিফলন হিসাবে এটি দেখা দিতে পারে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে অধিকাংশক্ষেত্রে কোনো রোগ বা অবস্থার সাথে রোগটির সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই কিছু কিছু রোগ বা অবস্থার সাথে এটি জড়িত থাকলেও সুনির্দিষ্ট করে কারণ জানা যায় নি। তবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে কারণ হিসাবে ধারণা করা হয়।

রোগ বা অবস্থার সম্পৃক্ততার উপর ভিত্তি করে এটিকে নানান প্রকারে ভাগ করা হয়। সচরাচরদৃষ্ট— স্থূলতা জনিত একানথোসিস নিগ্রিক্যানস স্থূলকায় ও সদ্য যৌবনে পা রাখা নরনারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কাসিং, পলি সিস্টিক ওভারি, লাইপোডিসট্রপি ইত্যাদি নানান সিন্ডে্রামও জড়িত থাকতে পারে। বেনাইন একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স শরীরের এক্রাল অঞ্চলে ও কালো চামড়ার মানুষদের মাঝে বেশি দেখা যায়। নিকোটিনিক এসিড, ইনসুলিন, স্টেরয়েড, হরমোন ইত্যাদি ঔষধ জনিত কারণেও রোগটি হতে পারে। অটোজোমাল ডমিনেন্ট জিনের কারণে দেখা যায় বংশগত বা জন্মগত একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স। ম্যালিগনেন্ট ধরণে আভ্যন্তরিন বিশেষত- পেটের টিউমার ও ক্যান্সার জড়িত থাকতে পারে। এই প্রকার একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স মধ্যবয়সীদের একটু বেশি দেখা যায় এবং অনেকক্ষেত্রে স্থূলতা নাও থাকতে পারে। সবশেষ প্রকারটি হচ্ছে মিশ্র একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স। এখানে দুই বা ততোধিক প্রকার একের পর এক দেখা দিতে পারে।

আমাদের ত্বকের কোন অংশে রোগটি বেশি দেখা যায় তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মাঝেমধ্যে নাক, মুখের মিউকাস ঝিল্লিতেও হতে পারে। আক্রান্ত স্থানের চামড়া ধীরে ধীরে থকথকে মোটা হয়ে যায় এবং রঙ কালচে থেকে গাঢ় হতে থাকে। চামড়া কুঁচকে স্কিন ট্যাগ বা আংগুলের মত প্যাপিলোমা দেখা দিতে পারে। মাঝেমধ্যে চুলকানির উদ্রেক হতে পারে। সকল প্রকারে লক্ষণ উপসর্গ প্রায় একই। তবে ম্যালিগনেন্ট একানথোসিস নিগ্রিক্যান্সে একটু প্রকট ও তাড়াতাড়ি হয়ে থাকে।

রোগটি প্রতিরোধ কতটুকু করা যায় তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে কৈশোর বা যৌবনের আগে মোটা হয়ে যাচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। মোটা হতে থাকলে তার কারণ নির্ণয় করা খুব জরুরি। প্রতিকারক চিকিৎসার মূল অস্ত্র হচ্ছে কারণ বের করা। এর জন্য প্রয়োজন হয় নানা পরীক্ষা—নিরীক্ষা। কারণ নির্ণীত হলে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে দাগগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও স্থূলতা কমানোর জন্য নিয়মিত ঔষধ, ব্যায়াম, খাদ্য—নিয়ন্ত্রণ, জীবন—যাত্রার পরিবর্তন আবশ্যক। স্থানীয়ভাবে অনেকসময় স্বল্প—মাত্রার স্টেরয়েড বা রেটিনয়েড মলম ব্যবহার, লেজার সহ ডারমাএব্রেশন, ইত্যাদির পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট