চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

২৮ জুলাই, ২০১৯ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক

ভেঙে যাক ডেঙ্গু নিয়ে যতো ভুল ধারণা

ডেঙ্গু নিয়ে যে জিনিসটা একটা ঝামেলা তৈরি করছে, সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না অথবা বিষয়টি বেশির ভাগ মানুষের জানার কথাও নয়। এ ব্যাপারে ন্যাশনাল গাইডলাইন-২০১৮ মেনে ডেঙ্গুর খুঁটিনাটি তুলে ধরাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নেয়া একটি অভিজ্ঞতার বিষয়ে জেনে নেয়া যাক। যিনি অভিজ্ঞতাটি শেয়ার করেছেন সেটির বর্ণনা ঠিক এমন :
ধরুন জ্বর এসেছে ১২ তারিখে। আপনি ডাক্তার দেখাতে গেলেন আলসেমি করে ১৪ তারিখে। অর্থাৎ জ্বরের তৃতীয় দিনে। ডাক্তার যখন দেখলেন যে আপনি জ্বরের তৃতীয় দিনে গিয়েছেন, তিনি আপনাকে উবহমঁব ঘঝ১ ধহঃরমবহ ঃবংঃ করতে দিলো, সাথে ঈড়সঢ়ষবঃব ইষড়ড়ফ ঈড়ঁহঃ (ঈইঈ) ও করতে দিলো। আপনি ভাবলেন, আজকে তো টাকা নেই, ২দিন পরে করাবো। সেই টেস্ট আপনি করালেন ২দিন পরে, অর্থাৎ ১৬ তারিখে। সেদিন হলো জ্বরের ৫ম দিন। আপনার ডেঙ্গু টেস্ট এ রেজাল্ট আসলো ডেঙ্গু নেগেটিভ। আপনি মহান আল্লাহ পাকের দরবারে খুশিতে শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন। ওদিকে সিবিসিতে প্লেটলেট ৩০-৩৫হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৫%। ডাক্তারের মাথায় হাত! আপনি তো বলবেন, টাকা খরচ করে টেস্ট করলাম, ডেঙ্গু নেগেটিভ আসলো, ডাক্তার তাইলে ভয় দেখায় কেনো! আপনি ডাক্তারের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন। দায়ী করছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও।
ঘটনা হচ্ছে, দোষটা আপনার। উবহমঁব ঘঝ১ অহঃরমবহ পরীক্ষা জ্বরের প্রথম ৩দিন এর মধ্যে পজেটিভ আসে (১)। এরপরে আপনার যদি ডেঙ্গু হয়েও থাকে, তাও সেটি নেগেটিভ আসতে পারে, এবং আসেও। আমি নিজে এই ‘সোমবার’ এমন রোগী পেয়েছি যার ডেঙ্গু ঘঝ১ নেগেটিভ দেখে সে হেলতে দুলতে এসেছে রিপোর্ট পাওয়ারও দুইদিন পরে। সে টেস্ট করিয়েছে জ্বরের ৫ম দিনে। অর্থাৎ ৭ম দিনে সে রিপোর্ট দেখাতে এসেছে কারণ তার ডেঙ্গু নেগেটিভ তার ভয়ের কিছু নেই। ২দিন আগেই তার প্লেটলেট ছিলো ৩২হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৭%।
তাহলে কি করবেন? ১) আপনার চিকিৎসককে একদম সঠিক হিসেবে বলবেন যে আপনার জ্বর কয়দিনের, পারলে কতো তারিখে কখন সেটাও জানাবেন। তিনিই আপনাকে জানাবেন যে আপনার কোন টেস্ট করাতে হবে।
২) ৫ম/৬ষ্ঠ দিন হতে উবহমঁব ওমএ ্ ওমগ পরীক্ষা করাতে হবে (২)। যেহেতু এই পরীক্ষটি উবহমঁব ঘঝ১ পরীক্ষার তুলনায় কিছুটা মুল্য বেশি, তাই জ্বর আসার সাথে সাথেই এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।
৩) ডেংগু নিশ্চিত হলে, চিকিৎসক এর পরামর্শ মতো নিয়মিত ঈইঈ পরীক্ষা করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখাতে আসবার পাশাপাশি রোগীকে নিয়ে আসতে হবে। শুধু রিপোর্ট দেখে রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।
৪) আপনার চিকিৎসক যদি ঈইঈ এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার পরে লিভার ফাংশন টেস্ট সহ, ইসিজি, বুকের এক্সরেসহ অন্য পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন, আগেই ধরে নেবেন না যে তিনি টাকা খাওয়ার ধান্ধায় পরীক্ষা দিয়েছেন। এ ধরনের চিন্তা করবার প্রবণতা আমাদের মধ্যে রয়েছে বলেই বললাম। ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম/ এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোম থেকে খুব সহজেই অরগান ফেইলার ডেভেলপ করছে। প্লেটলেট কমে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুর সেইদিন গত হয়েছে, ডেঙ্গু এখন এসেছে নতুন রূপে। লিভার ফেইলিউর, কিডনি ফেইলিওর, একিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোম, প্লুরাল ইফিউশনসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিকেল সিম্পটমও দেখা যাচ্ছে এবার (৩)। রোগী পয়সা খরচ করতে চায় না বলে অনেক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে টোটাল সিবিসি রিপিট না করিয়ে শুধু প্লেটলেট কাউন্ট রিপিট করাচ্ছেন। মনে রাখবেন, রোগীর কিছু টাকা হয়তো সেভ হচ্ছে, কিন্তু আল্টিমেটলি ১০ জনের মধ্যে ১ জনও যদি খারাপ হয়ে যায়, সেই দায় আপনার উপরেই আসবে। আপনাকে হেমাটোক্রিট ও দেখতে হবে। এমন কি, পেশেন্ট শকে চলে গেলে তো ঘণ্টায় ঘণ্টায় হেমাটোক্রিট করবার নির্দেশনাও গাইডলাইনে আছে (৪)।
৫) সর্বোপরি, আপনার চিকিৎসককে সহায়তা করুন। এই মহামারিতেও পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ঈর্ষণীয়ভাবে কম আমাদের। এই কৃতিত্ব আমি আমাদের বড় স্যারদের কে না, এবারের মতো আমাদের মিডলেভেল ডক্টর, নার্স আর ব্রাদারদের দিতে চাই।
সবাই সাবধানে থাকুন। এখনও সময় আছে। বাড়িতে কিংবা বাড়ির পাশে পরিষ্কার রাখুন, পানি জমতে দিবেন না। মশারি টাঙিয়ে ঘুমাবেন। শিশুদের দিকে বিশেষ করে খেয়াল রাখুন। আর জ্বর আসলে সেটা ১দিনের জ্বর হলেও দেরি না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। সবার সুস্থতা কামনা করছি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 729 People

সম্পর্কিত পোস্ট