চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

সর্বশেষ:

২৯ মে, ২০১৯ | ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সু স্থ থা কু ন

প্রাণ ভরে হাসুন, সুখী হবেন

আপনার হাস্যময় মুখই বলে দেয় আপনি অন্তর থেকে কতটা সুখী। সুখ আর হাসি কোনোটি পরিমাপযোগ্য নয়, তবে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে চলা গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটাই প্রমাণিত, হাসি সত্যিই মানুষকে আরও সুখী করে তুলতে পারে।
গবেষণা অনুযায়ী, সদা হাস্যমুখের অভিব্যক্তিতে ভিন্ন আবেগ অনুভূত হয়, সেই আবেগই সুখের চাবিকাঠি। মেটা বিশ্লেষণ নামে একটি পরিসংখ্যান কৌশল ব্যবহার করে, গবেষকরা ১৩৮টি গবেষণা থেকে বিশ্বজুড়ে ১১ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীদের পরীক্ষা করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টিনাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির ছাত্র নিকোলাস কোলস বলেন, “প্রচলিত জ্ঞান ও সম্যক ধারণা থেকে এটা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি যা হাসলে নিজেরা ভিতর থেকে খানিক সুখী বোধ করি এবং রাগ হলে কিছুটা মেজাজি থাকি। কিন্তু মনস্তত্ত্ববিদরা গত একশো বছর ধরে এই ধারণা সম্পর্কে অসম্মতি প্রকাশ করে গেছেন।”
এই অসম্মতিটি আরও জোরদার হয় যখন ২০১৬ সালে ১৭ জন বিজ্ঞানীর দল প্রমাণ করতে কার্যত ব্যর্থ হন যে হাসি মনস্তাত্বিকভাবে মানুষকে সুখী করে তোলে।
নিকোলাস কোলস জানান যে বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায় না যে মুখের অভিব্যক্তিগুলো মানসিক অনুভূতিগুলোকে আদৌ প্রভাবিত করতে পারে কিনা।
তিনি আরও বলেন যে, কোনও এক ধরনের গবেষণার ওপর নির্ভর করে কাজ করা হয়নি। মেটা বিশ্লেষণ নামে একটি পরিসংখ্যান কৌশল ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে ১১ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীদের পরীক্ষা করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সাইকোলজিক্যাল বুলেটিন জার্নালে প্রকাশিত ফলাফল অনুসারে, মুখের ভাবমূর্তি অনুভূতিদের ওপর ছোটখাটো প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, হাসি মানুষকে অন্তর থেকে সুখী করে তোলে, সাময়িক মেজাজ ক্রোধের সঞ্চার করে এবং বিরক্তি এক অন্তরবেদনার উদ্রেক করে। এই গবেষণা থেকে আরও বোঝা যাচ্ছে উত্তেজনাপূর্ণ অভিব্যক্তি কীভাবে মন ও শরীরের আবেগের মধ্যে সচেতনভাবে যোগাযোগ স্থাপন করছে। তবে এখনও অভিব্যক্তির প্রভাব সম্পর্কে অনেক কিছু জানার বাকি আছে। কিন্তু মেটা অ্যানালিসিসের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বোঝা গেল আবেগ কিভাবে কাজ করে।
আগামীতে এই গবেষণা মনস্তত্বে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশ্বাস গবেষণা মহলে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 366 People

সম্পর্কিত পোস্ট