চট্টগ্রাম রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৩ মে, ২০১৯ | ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

মরিয়ম বেগম

গ্যাস-বুকজ্বলায় কাবু বাঙালি

কাঁড়ি-কাঁড়ি অ্যান্টাসিড বাঙালি জীবনের অঙ্গ। তবু সে গ্যাস আর বুকজ্বলাকে কাৎ করতে পারেনি। সর্বক্ষণ হয় তার পেট ফুলছে বা বদহজম হচ্ছে। খাবার দেখলে লোভ হচ্ছে, কিন্তু খেতে ভয় করছে। পেটরোগা বাঙালির দীর্ঘদিনের এই স্বাস্থ্যশত্রুদের নিয়ে লিখেছেন চিকিৎসক।

মানুষের পাকস্থলীর ভিতরে হাইড্রোকোলিক অ্যাসিড স্বাভাবিক ভাবেই নিঃসৃত হয়। তা হলে বুকজ্বলা বোধটা আলাদা করে কখন অনুভূত হয় বা কেন হয় সেই প্রশ্ন ওঠে।
এর দু’টি কারণ। প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ। দ্বিতীয়ত খাদ্যনালি এবং পাকস্থলীর সংযোগস্থলে কোনও গঠনগত ত্রুটি। এতে পাকস্থলীতে নিঃসৃত অ্যাসিড উপরে উঠে আসে এবং বুকজ্বলা অনুভূত হয়।
আবার পেটের অন্ত্রে অবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া সন্ধান প্রক্রিয়ায় গ্যাস উৎপাদিত হয়। অতিরিক্ত গ্যাস অনুভবের কারণ হল, খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস সেবন। যেমন, সোডা জাতীয় কোল্ডড্রিঙ্কস পান। অথবা খুব তাড়াহুড়ো করে খাদ্য অথবা পানীয় খাওয়া, গ্লাসে চুমুক দিয়ে জল না খেয়ে আলগা করে ঢেলে খাওয়া ইত্যাদি। এতে গ্যাস শরীরে প্রবেশ করে এবং পেট ফোলা অর্থাৎ গ্যাসের অনুভব হতে পারে। পেটে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেলে অর্থাৎ অপরিশোধিত অথবা অর্ধ পাচিত খাদ্য সেবনেও গ্যাস বাড়ে।
খাদ্যবস্তুর হজম বা পরিপাক বাধাপ্রাপ্ত হলে গলা-বুকে জ্বালা অনুভব হয়। অতিরিক্ত তেল অথবা মশলা মিশ্রিত খাবার খেলে বা লোভ সামলাতে না-পেরে অতিরিক্ত খাবার খেলে এই বদহজমের হতে পারে। অনেক সময় পরিপাকপ্রণালীর কিছু গঠনগত সমস্যা অথবা হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে সেখান থেকেও এই অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে।
এই ধরনের অসুবিধা গরম কালে বেশি হয়। এখন প্রশ্ন হল, গরমকালে কেন বেশি হয়? প্রথমত, গ্রীষ্মকালে শরীরে খাবারের চাহিদা থাকে কম। কারণ, শরীরে বেশি তাপ উৎপাদনের প্রয়োজন হয় না। উপরন্তু তাপ বিকিরণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই প্রয়োজনের থেকে বেশি খেলে সমস্যা হয়। দ্বিতীয়ত, খাবারের মধ্যে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা জনিত কারণে সহজেই ব্যাধি সৃষ্টিকারী জীবাণুর জন্মলাভ এবং বৃদ্ধি হয়। এ জন্য টাটকা খাবার স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে খাওয়া গরমকালে অত্যাবশ্যক।
বুকজ্বলা হলে অর্থাৎ গলা জ্বালা হলে তার সঙ্গে বমি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। রাত্রে শোওয়ার পরে কাশি অথবা বুকের কাছে চাপ বোধ করা ভাল লক্ষণ নয়। অতিরিক্ত ওজন ও কোমরের কাছে শক্ত করে বেল্ট বাঁধলে বিপদ বাড়তে পারে। খাবার গিলে খেতে কোথাও আটকাছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। ওজন কমে যাওয়া অথবা রক্ত বমি বা কালো রঙের মলত্যাগ খারাপ লক্ষণ। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ বার আসা যাক প্রতিকার ও সাবধানতা বিষয়ে। বুকজ্বলা নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড বা হজমের ওষুধ খাবেন না। কারণ, এই অ্যাসিড বস্তুটি কিন্তু আমাদের শরীরের বহু উপকার সাধন করে। জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন দরকার। ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে। অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া খুব দরকার। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জল না খেয়ে খাওয়ার ১৫ মিনিটের পরে জল খান। খাবার খাওয়া র সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে ১ ঘন্টা পরে শুতে যান।
(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য) [সূত্র : ম্যানস হেলথ]

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট