চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ১১:৩৩ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও সেবার পরিসর বাড়িয়ে এনবিআরের প্রজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও আমদানি-রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তায় ইলেকট্রনিক সিল ও লক সেবার পরিসর বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব রোর্ড (এনবিআর)। দেশের সব বন্দর, কাস্টমস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দিয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি। এর আগে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি বা রপ্তানি করা পণ্য চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফ ডকে পরিবহনের সময় সিল বা লক নেয়ার বিধান জারি করা হয়েছিল।

এদিকে পণ্যের নিরাপত্তায় ইলেকট্রনিক সিল ও লক সেবা সম্পর্কিত আগের নির্দেশনাটিই ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে এখনো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে দেশব্যাপী এ সেবা সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ২৬ জুনের প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপনটি গত ৩০ অক্টোবর জারি করেছে এনবিআর। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিধিমালা আমদানি, রপ্তানি, ট্রানজিট, ট্রানসশিপমেন্টসহ অনুরূপক্ষেত্রে কাস্টমস-পোর্টের সঙ্গে কাস্টমস স্টেশন, কাস্টমস ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, কাস্টমস ইনল্যান্ড ওয়াটার কনটেইনার, টার্মিনাল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পণ্য পরিবহন এবং সিলিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।  তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানান, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এখানে সরকারের রাজস্ব ও দেশের স্বার্থও রয়েছে। এখন বিধানটি বাস্তবায়ন করতে হবে ব্যবসায়ী, কাস্টমস এবং যারা সেবাটি দেবে তাদের সমন্বয়ে।

তবে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এনবিআর ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা। তারা জানান, ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার কারণে আগের প্রজ্ঞাপনটিই বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন নতুনভাবে সেবার পরিসর বাড়িয়ে দেশব্যাপী করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পর এক মাস পার হয়ে গেলেও বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এনবিআরের বিধিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আমদানি বা রপ্তানি পণ্যের কনটেইনারের মাধ্যমে এ লক বা সিল সেবা দেয়া হবে। কনটেইনারে ইলেকট্রনিক সিল ও লক সেবা দেয়া হবে। এর পাশাপাশি প্রতি কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাক পণ্য সিল বা লক করা যাবে। সেবার বিপরীতে প্রথম ৪৮ ঘণ্টার জন্য ৬শ টাকা এবং এর পরের প্রতি ঘণ্টায় ৫০ টাকা করে দিতে হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধিবিধানের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক খাতে আমদানি হওয়া পণ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে যথাযথ শুল্ক পরিশোধ করার পরও আবার কেন বাড়তি ব্যয় করতে হবে? পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পণ্য জাহাজীকরণ হয়।

পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ফোর এইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিকেএমইএর সহসভাপতি গাওহার সিরাজ জামিল জানান, পাঁচ মাস ধরে এমনিতেই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এ পরিস্থিতিতে খরচ বাড়বে এমন পদক্ষেপ এনবিআর বিবেচনা করে দেখবে বলে প্রত্যাশা করি।

এ বিধানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ওয়েল গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, বন্দর থেকে অফ ডকে পণ্য আনা-নেয়ার সময় কয়টা চালান মিসিং হয়েছে? এর হার কত? যদি না হয় তাহলে কেন এই বাড়তি ব্যয়? এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন  হয়ে পড়েছে, এর মধ্যে ব্যয় বৃদ্ধি ব্যবসা-বাণিজ্যের সহায়ক পরিবেশ নষ্ট করবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমও এনবিআরের এ উদ্যোগকে সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে যেখানে প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের কথা ছিল, সেখানে উল্টো এর পরিসর বাড়ানো হয়েছে।

পূর্বকোণ-রাশেদ

The Post Viewed By: 106 People

সম্পর্কিত পোস্ট