চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ মে, ২০১৯ | ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

লোডেড ভ্যালুতে বেপরোয়া শুল্কায়ন

রাজস্ব লক্ষ্য পূরণে মরিয়া কাস্টম হাউস পণ্য আমদানিতে দর বাড়ছে

অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছে কাস্টম হাউস। আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন করা হচ্ছে মনগড়া ভ্যালুতে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আমদানিকারকরা। পণ্য আমদানিতে দর বাড়ছে।
অর্থবছর শেষ হতে এখন মাত্র মাস দেড়েকের মত বাকি। অথচ রাজস্ব আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বেশ দূরে কাস্টম হাউস। অবশ্য ঠিক এখন নয়, বেশ কয়েক মাস থেকে পিছিয়ে রয়েছে। লক্ষ্য পূরণ করতে তাই আমদানিকারকদের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে কাস্টম হাউসের বিরুদ্ধে। চিটাগাং সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু দৈনিক পূর্বকোণকে বলেছেন, লোড দেয়া অর্থাৎ নিজস্ব চাপিয়ে দেয়া ভ্যালুতে শুল্কায়ন করা অনেক দিনের পুরনো প্রেক্টিস। তা বন্ধ করে যৌক্তিক হারে শুল্কায়ন করার জন্য অনেকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল মেলেনি। নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণে ভ্যালু নির্ধারণ করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। আর এই নিয়ে অহরহ নানা তর্ক হচ্ছে গ্রুপে গ্রুপে।
চিটগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম গতকাল দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, এখন অনলাইনের যুগ। চোখের পলকে কোন পণ্যের প্রকৃত আমদানি মূল্য কোনদিন কত ছিল তা দেখা যায়। তাই শুল্ক ফাঁকির জন্য মূল্য কম দেখানোর সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও শুল্কায়ন গ্রুপে রক্ষিত পণ্যমূল্যের ৩ মাসের ডাটাবেজের ভিত্তিতে অযৌক্তিক শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় সরকার অতিরিক্ত কিছু রাজস্ব পেলেও আমদানিকারকরা চরম হয়রানি এবং বাড়তি ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। চেম্বার সভাপতি বলেন, অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত ভ্যালুতে শুল্কায়ন হওয়া আবশ্যক। পণ্যমূল্য সব সময় এক রকম থাকে না। কখনও বেশি, কখনও কম হতে পারে। আবার গুণগত মান এবং পরিমানের ভিত্তিতেও তারতম্য হতে পারে চালানে চালানে। আমরা চাই প্রকৃত মূল্যের ওপর শুল্ক হিসাব করা হোক। মনগড়া তথ্যের ওপর এভাবে শুল্কায়ন হলে আমদানিকারকরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং কম আমদানি হবে। তাতে রাজস্ব আহরণ হ্রাস পাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বন্ডের আওতায় বিনা শুল্কে পণ্য আমদানি হয়। তাই সেক্ষেত্রে মূল্য কম দেখানোর প্রয়োজন নেই। বন্ডের পণ্য আমদানিতে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ থাকে। সেখানে কাস্টম হাউস মূল্য নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলে না। কিন্তু একই পণ্যটি যখন বাণিজ্যিকভাবে আমদানি হয় তখন শুল্কায়নে লোড দেয়া হয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি করা পণ্যে মূল্য নিয়ে হেরফের করার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন হয়ে থাকে। সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দর ওঠানামার বিষয় বিবেচনায় রেখে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে কাস্টম হাউস পণ্যটির শুল্কায়ন করেছে ঘোষিত মূল্যের ওপর। সেই নিয়ম অনুসরণ না করে শুল্কায়ন করার জেরে পণ্য চালান আটকে থাকে। তাতে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়ে পড়ে এবং আমদানিকারককে বন্দর ও শিপিং কোম্পানির বাড়তি মাসুল গুণতে হয়। আমদানিকারক হাজি মো. ইকবাল কাস্টম হাউসের সাম্প্রতিক মাসসমূহে আমদানি পণ্য শুল্কায়নে অহরহ লোড চাপিয়ে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এভাবে কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। প্রকৃত মূল্যতথ্য না মেনে লোডেড ভ্যালুতে শুল্কায়নের ফলে কয়েক কোটি টাকা অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চাপিয়ে দেয়া মনগড়া ভ্যালুতে শুল্কায়নের হয়রানির ব্যাপারে জানার জন্য কমিশনার অব কাস্টমসকে মুঠোফোনে ফোন করে সাড়া মেলেনি। তবে সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তা দাবি করেন যে প্রয়োজনীয় বিধি বিধান মেনে শুল্কায়ন করা হয় এবং কাউকে হয়রানির অভিযোগ অবান্তর।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট