চট্টগ্রাম শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

২২ নভেম্বর, ২০১৯ | ১১:০৮ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

টাকার বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দরপতন

দুই প্রকল্পে বাড়তি খরচ ৮৬০ কোটি টাকা!

মুদ্রাবিনিময় হারে ওঠানামার কারণে দুই প্রকল্পে সরকারকে ৮৬০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে জাপানি ইয়েনের দাম কমে যাওয়ায় ৮২৩ কোটি টাকা ও মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৩৭ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী আলাদা সংস্থার পক্ষ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনোভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না। সূত্র: দেশ রূপান্তরG

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প পাস হয় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে। ২০২২ সাল নাগাদ শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পের বিপরীতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানভিত্তিক সংস্থা জাইকা দেবে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা, বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের মাঝপথে এসে ব্যয় সংশোধনের প্রস্তাব করেছে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রস্তাব অনুসারে, টাকার বিপরীতে জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দরপতনের কারণে ৮২৩ কোটি টাকা কম পাওয়া যাবে। কিন্তু এই টাকা দিতে রাজি নয় জাইকা। এ জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল বা জিওবি থেকে বরাদ্দ দেয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ ও ২.৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ফেজ-২) প্রকল্পের বিপরীতে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে অতিরিক্ত ৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। কেননা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে। এ জন্য এই টাকা চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্প পাস হয়। চলতি বছর ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৬৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, মুদ্রাবিনিময় হারে ওঠানামার জন্য সরকারের খুব বেশি কিছু করার থাকে না। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চেয়ে মুদ্রাবিনিময় হার স্থির রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। গত ১০ বছর ডলারের বিপরীতে ৫ শতাংশের বেশি মুদ্রার দাম ওঠানামা করেনি। এরপরও যদি কোনো প্রকল্পের বিপরীতে পণ্য আমদানিতে বাড়তি খরচ হয় সেটা সরকার দেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক ঋণে ওঠানামাসংক্রান্ত বিষয়গুলো চুক্তিতে উল্লেখ থাকে। জাপানের ক্ষেত্রে কী আছে সেটা না দেখে বলা যাবে না। তার মতে, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখরব নেয়া উচিত। কারণ মুদ্রাবিনিময় হার ওঠানামা করার কারণে এত টাকা বাড়তি লাগার কথা নয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪০৯ এমএলডি পানির চাহিদার বিপরীতে ২১৯ এমএলডি পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পানি সবররাহের সংকট কাটাতে ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৪৩ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এছাড়া ১টি ওয়াটার ইনল্যান্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এসব পানি সরবরাহে পাইপলাইনও বসানো হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক ইঞ্জিনিয়ার কাজী ইয়াকুব সিরাজউদদৌলা জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়নে গতি ভালো। খুব বেশি সমস্যাও নেই। টাকার বিপরীতে ইয়েনের দাম পড়ে গেলেও জাইকা অতিরিক্ত টাকা দেবে না। এ জন্য মাঝপথে প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু অংশ সংশোধনও করা হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, মূল প্রকল্প প্রস্তাবনায় ১ ইয়েনের বিপরীতে ধরা হয়েছিল ১.০৩ টাকা। এরপর তিন বছর ধাপে ধাপে ইয়েনের মান কমেছে। ২০১৬ সালে ১ টাকার বিপরীতে দশমিক ৭০ টাকা, ২০১৭ সালে দশমিক ৬৯ টাকা । একই বছর মাঝপথে এসে একটু বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৭৭ টাকা। বর্তমানে টাকার বিপরীতে দশমিক ৮০ টাকা ধরে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করার কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে জাইকার ৩ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা দেয়ার কথা থাকলেও দেবে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে কম পাওয়া যাবে ৮২৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে টেলিটকের  থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ ও ২.৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ফেজ-২) প্রকল্পের বিপরীতে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে অতিরিক্ত ৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা বাড়তি চেয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। প্রকল্পের অনুমোদনকালে ডলারের দাম ধরা হয়েছিল ৭৮ টাকা। কিন্তু এখন যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৮৫ টাকা। এ জন্য এই বাড়তি টাকা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযেগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিবুর রহমান জানান, প্রকল্পটি নিয়ে সচিবের সভাপতিত্বে স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এই বাড়তি টাকা জিওবি থেকে চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। যথাসময়ে এর কাজ শেষ হবে।

 

 

পূর্বকোণ-রাশেদ

The Post Viewed By: 154 People

সম্পর্কিত পোস্ট