চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ৮:৪৪ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

যে কারণে বিদেশিরা পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে

পুঁজিবাজারে বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। চলতি বছর টানা আট মাস ধরে পুঁজিবাজার থেকে বিদেশিরা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়ায় মন্দাবাজারে সূচকের পতন হচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার কিছুটা অবমূল্যায়ন হলেও দেশের পুঁজিবাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে বিদেশিদের নিট বিক্রি ছিল ৯৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর ফলে চলতি বছর তাদের নিট শেয়ার বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম দুই মাস নিট বিনিয়োগের পর থেকেই বিদেশিরা পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ২০১৮ সালেও তারা ৫৯৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেয়। ২০১৮ সাল থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮৮৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা।

চলতি বছর শেয়ার বিক্রি করছে বিদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। গত কয়েক মাসে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, ব্র্যাক ইপিএল, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, এমটিবি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্রোকারেজসহ শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে বিক্রি চাপ আসছে। এর বাইরে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আমানত ফিরিয়ে দেয়ার চাপে বিপুল পরিমাণের শেয়ার বিক্রি করছে। বিদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয়দের এ বিক্রি চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগকারী না থাকায় চলতি বছর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক সাড়ে ১২ শতাংশ কমেছে। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় থাকা বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের পাওনাকে কেন্দ্র করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) সঙ্গে গ্রামীণফোনের বিবাদ বিদেশিদের বিনিয়োগ প্রত্যাহারে প্রভাব রেখেছে। এছাড়া চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবও রয়েছে। এর বাইরে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির নিট মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি না থাকাও বিদেশিদের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কারণ। মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও তারা ভালোভাবে নেয়নি বলে জানান পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপকরা।

সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশিরা ২৩১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। এর ফলে মাসটিতে তাদের নিট শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ছিল ৯৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) বিদেশিরা ৩ হাজার ৩০৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুঁজিবাজারে ব্লু-চিপ কোম্পানি হিসেবে খ্যাত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, আইডিএলসি ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মতো কোম্পানি থেকে বিদেশিরা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এছাড়া একমি ল্যাবরেটরিজ, আল-আরাফাহ্ ব্যাংক, বার্জার, বেক্সিমকো লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, সিটি ব্যাংক, ডিবিএইচ, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনভয় টেক্সটাইলস, ইফাদ অটোস, ম্যারিকো, ওয়ান ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, শাশা ডেনিমস, সিঙ্গার বাংলাদেশ, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্কয়ার টেক্সটাইল, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও তিতাস গ্যাস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিদেশিরা।

বিপরীতে এবি ব্যাংক, বাটা সু, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লস, ব্র্যাক ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডরিন পাওয়ার, আইপিডিসি, যমুনা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও রেকিট বেঙ্কিইজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েছে।

বর্তমানে ডিএসই’র মোট লেনদেনের মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ আসে বিদেশিদের শেয়ার কেনাবেচা থেকে। যেটা ভারতে ৩৫ শতাংশের বেশি। যেসব বিদেশির দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে তাদের সিংহভাগই যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগ কোম্পানি। এছাড়া সিঙ্গাপুর, দুবাইভিত্তিক কিছু বিনিয়োগ কোম্পানিরও বিনিয়োগ রয়েছে। নর্ডিক দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সমন্বিত বিনিয়োগ কোম্পানি ব্রামার্স এন্ড পার্টনার্স দেশের শেয়ারবাজারের প্রায় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

 

 

পূর্বকোণ-রাশেদ

The Post Viewed By: 62 People

সম্পর্কিত পোস্ট