চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৫:০৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বে-টার্মিনালের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত যেকোনো মুহূর্তে

যেকোনো মুহূর্তে বে-টার্মিনালের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন জানিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিগগির বে-টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। সে ব্যাপারে স্টেক হোল্ডারদের আশ্বস্ত করা হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে। আজ বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নবগঠিত চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি ও সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা কথা বলেছেন। বিশেষ করে বে-টার্মিনালের ব্যাপারে কথা বলেছেন, যেন দ্রুত হয়। আপনারা জানেন, বে টার্মিনালের ক্ষেত্রে সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। অবৈধভাবে যে বাল্ক হেড যে চলে তা বন্ধে ডিজি শিপিংকে বলা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছু অবজারভেশন আছে। সেগুলো বাস্তবায়নে কীভাবে স্টেকহোল্ডাররা পদক্ষেপ নেবেন সে ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো আধুনিক করার ব্যাপারে সবাই মতামত জানিয়েছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬৪তম অবস্থানে আসায় সবাই ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্টেকহোল্ডাররা মোটামুটি সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন,আগের উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যদি বাস্তবায়ন করতে না পারি তাহলে সিদ্ধান্ত নিলাম কেন? ভবিষ্যতে এসব বিষয় সতর্কতার সঙ্গে দেখা হবে। বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বে প্রথম হয়েছে। এক্ষেত্রে চীন ও ভারত আমাদের পেছনে আছে। আমাদের সক্ষমতা আছে। অনেক চ্যালেঞ্জকে আমরা মোকাবেলা করতে পারি। পদ্মা সেতু তার একটি উদাহরণ। আমরা পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয়েছি। নদীমাতৃক দেশ ছিলাম আমরা। কিন্তু সেভাবে পরিচিত ছিলো না। দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মেরিটাইম সেক্টরে আমরা মর্যাদার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।  ঢাকায় ব্লু ইকোনমি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন। আমাদের অর্থনীতিতে মেরিটাইম সেক্টরে যথেষ্ট গুরুত্ব আছে সরকারের।

কর্ণফুলীর ড্রেজিং বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি সত্য কথা- ড্রেজিংয়ের বিষয়ে অতীতে কোনো সরকারের দৃষ্টি ছিলো না। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এ সেক্টরে গুরুত্ব দিয়েছেন। শুধু কর্ণফুলী নয়, সারা দেশের নদী নিয়ে মানুষ ভাবছে। নদী যে অর্থনীতির অংশ হতে পারে, সমুদ্র যে অর্থনীতির অংশ হতে পারে। আগে প্রচণ্ড অবহেলা করা হয়েছে। অবহেলা থেকে সরকার মূল্যায়নের জায়গায় নিয়ে এসেছে। ১৬ কোটি মানুষ এখন নদী নিয়ে ভাবে। এটা বড় প্রাপ্তি। কর্ণফুলী চ্যানেল আমাদের লাইফ লাইন। এ চ্যানেলের দুর্বলতার জায়গা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহের পদক্ষেপ নিচ্ছি। চ্যানেলটি ব্যবহার উপযোগী রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। ড্রেজিং চলমান প্রক্রিয়া। সিলট্রেশন হয়। এটি চলতেই থাকবে।

বন্দরে কনটেইনার ও বহির্নোঙরে জাহাজ জট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নানা কারণে জট হচ্ছে। বহির্নোঙরে এখনো নাভিশ্বাস উঠে যায়নি। স্বাভাবিক আছে। নিয়ন্ত্রণের ভেতরে রয়েছে। আকাশ পরিবহন, সমুদ্র বা নৌ পরিবহন প্রকৃতির ওপর অনেক সময় নির্ভরশীল হতে হয়। এ বাস্তবতাগুলোও মনে রাখতে হবে। প্রকৃতি অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় জটিলতা তৈরি হয়। সড়ক, রেল যোগাযোগে অব্যবস্থাপনা ও কাস্টমসের দুর্বলতা মোকাবেলা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিলামযোগ্য কনটেইনার বিষয়ে কাস্টমসের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ডেলিভারি সহজ করার জন্য নতুন স্ক্যানার বসানো হচ্ছে। সরকার অনুমোদন করে দিয়েছে। বন্দরও নিজস্ব উদ্যোগ নিচ্ছে। বন্দরের গতিশীলতা আরো বেড়ে যাবে।

পূর্বকাণ/ময়মী

The Post Viewed By: 470 People