চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৩ নভেম্বর, ২০২২ | ৯:১২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

অক্টোবরেও রপ্তানিতে পতন

বিদেশি মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস পণ্য রপ্তানিতে উদ্বেগ আরও বাড়ল। গত সেপ্টেম্বরের মতো অক্টোবরেও রপ্তানি কমেছে। গত অক্টোবরে রপ্তানি কমেছে আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৮ শতাংশ।

মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রপ্তানি ১৩ শতাংশ কম। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক অগ্রগতির পর গত সেপ্টেম্বরে এসে বড় ধাক্কা খায় দেশের রপ্তানি খাত। ১৩ মাস পর মাসটিতে রপ্তানি সোয়া ৬ শতাংশ কমে আসে। অবশ্য, গত জুন থেকেই রপ্তানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে আসতে শুরু করে। পরের দুই মাসেও এ প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এরপর টানা দুই মাস রপ্তানি কমলো। শিগগির এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখছেন না রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। অন্তত এ বছর আর ইতিবাচক ধারায় ফেরার সম্ভাবনা নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।

রপ্তানি কমে আসার মূল কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের মূল্যস্ম্ফীতি চড়েছে। এতে জোটগত প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের ভোগ ক্ষমতা কমে গেছে। অন্যদিকে গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দেশে জ্বালানি তেলের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়। শিল্পে ব্যবহূত ফার্নেশ অয়েলের দর বাড়ানো হয় ৪২ শতাংশ। এতে উৎপাদন ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এ কারণে ব্র্যান্ড ক্রেতাদের সঙ্গে দর আলোচনায় অনেক রপ্তানি আদেশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। মূলত এই দুই কারণেই রপ্তানি কমছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অক্টোবরে রপ্তানি হয়েছে ৪৩৬ কোটি ডলারের কিছু কম। গত বছরের অক্টোবরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ একই মাসে রপ্তানি কমলো ৩৭ কোটি ডলার। ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ১০০ টাকা হিসাবে মাসটিতে রপ্তানি কমেছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মাসের লক্ষ্যমাত্রা থেকে রপ্তানি কম হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার মতো।

তবে অক্টোবর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের চার মাসে সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে সাত শতাংশ। গত চার মাসে ১ হাজার ৬৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ডলার। এই চার মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১১ শতাংশের মতো। মোট ১ হাজার ৩৯৫ কোটি ডলারের পোশাক গেছে বিভিন্ন দেশে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬২ কোটি ডলার। একক মাসের হিসাবেও অক্টোবরে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে মাসটিতে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সমকালকে বলেন, সার্বিক রপ্তানি কমলেও পোশাক রপ্তানিতে যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত ততটা হতাশার নয়। মন্দার মধ্যেও অক্টোবরে পোশাকের রপ্তানি বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রায় মন্দা পরিস্থিতিতে পণ্য এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। তবে বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজারে কম চাহিদার কারণে ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ কম দিচ্ছেন। তাদের স্টকে এখনও অনেক পণ্য মজুত পড়ে আছে। এ বাস্তবতায় আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী নন তিনি।

অক্টোবরে উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ২৪ শতাংশ। প্রায় একই হারে কমেছে চিংড়িসহ হিমায়িত মাছের রপ্তানি। ওষুধে কমছে ২৩ শতাংশের বেশি। পাট ও পাটপণ্যে দুই শতাংশ। অন্যদিকে হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি বেড়েছে পাঁচ শতাংশ। পাদুকায় বেড়েছে ২৭ শতাংশ। তথ্যসূত্র: সমকাল

পূর্বকোণ/সাফা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট