চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৬ আগস্ট, ২০১৯ | ৩:২১ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহে চুক্তি স্বাক্ষর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং পরমাণু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার টিভিইএল জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আজীবন জ্বালানি সরবরাহের ঠিকাদারি পেলো টিভিইএল।

২০১১ সালের ২ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং রশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে আন্তঃসরকার চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য জ্বালানি আনার কথা উল্লেখ ছিল। এটি একটি ফ্রেম ওয়ার্ক চুক্তি। চুক্তির শর্ত মতে, প্রয়োজনে বিশ্ব বাজারের দর অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এই দর নির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যালোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘ফুকুসিমার মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও আমাদের কোনও ভয় নেই। আপনারা দেখেছেন, কোর ক্যাচার নামে যুক্ত করা হয়েছে। ফুকুসিমায় গ্যাস বের হতো, এখানে গ্যাস বের হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘কিছু ফর্মুলা রয়েছে, এর বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সারাবিশ্ব যেভাবে চুক্তি করে আমরাও সেইভাবে চুক্তি করেছি।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারটি ধাপ বিবেচনা করা হবে। এগুলো হচ্ছে— ইউরেনিয়ামের দাম, কনভারশন সার্ভিস (প্রক্রিয়াকরণ খরচ), এনরিচমেন্ট সার্ভিস, ফুয়েল ফেব্রিকেশন। এই চার ধাপের কাজ আলাদা আলাদাভাবে নির্ধারণ হবে। এই কাজ সমন্বয় করে মোট মূল্য নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ১০ বছর পরপর এই দাম মূল্যায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটি শুধু বিদ্যুৎ নয়, প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও মাইলস্টোন। আমরা উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশ করছি। এখন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে।’

কেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার নির্মাণকাজও করছে রাশিয়া। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২২ সালে উৎপানে আসবে। এর মোট উৎপাদর ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন, পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, কেন্দ্রটির প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর, টিভিইএল এর বাণ্যিজ্যিক পরিচালক ফেদর শকোলভ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজেন্ডার আই ইগটভ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বকোণ/মিজান

The Post Viewed By: 278 People