চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৩:১৮ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

দাম বেড়েছে আদা রসুনের

মসলাপণ্য পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম কোরবানি ঈদের আগেই কয়েক দফা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদা রসুনের দাম। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পণ্য দুটির দাম কেজিতে প্রায় ৩০-৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর স্বাভাবিক থাকার পরও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য দুটির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খাতুনগঞ্জে আমদানি করা প্রতি কেজি চীনা আদা ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে একই মানের আদা বিক্রি হয়েছিল ১১৫-১২০ টাকায়। সে হিসাবে পাইকারি পর্যায়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চীনা আদার দাম ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

একই সময়ে প্রায় সমপরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা চীনা রসুনের দাম। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হয়েছে ১৩৫-১৪০ টাকায়। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়।

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ীরা জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের চাহিদা এবং বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে পণ্যগুলোর সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তাদের মতে, ঈদের আগে বন্দর দিয়ে পণ্য ওঠানামা ও সড়কে পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বিঘ্ন হয়, আর এ সুযোগে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দেন।

তবে কাঁচা পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল মদিনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জুনায়েদ জানান, এক দেড় মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে চীনে আদা ও রসুনের বুকিং দর কিছুটা বেড়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন দেশি বাজারে পণ্য দুটির দর কম থাকায় ব্যবসায়ীরা কম পণ্য আমদানি করেছেন। কিন্তু আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সম্প্রতি দেশীয় বাজারে চাহিদা বেড়েছে। এতে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম থাকার সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

চীন থেকে আমদানির প্রভাবে দেশি আদা-রসুনের চাহিদা কমে আসছে। ফলে মৌসুমের পর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামের বাজারে দেশি আদা-রসুনের সরবরাহ নেই বললেই চলে। বর্তমানে খাতুনগঞ্জের কয়েকটি আড়ত ও দোকানে দেশি আদা-রসুনের সরবরাহ রয়েছে। এসব দোকানে গতকাল প্রতি কেজি দেশি আদা ১০০-১১০ টাকা এবং রসুন ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাপণ্যের দাম বাড়া প্রসঙ্গে ক্রেতারা বলেন, দু-তিন মাস ধরে দফায় দফায় আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ছে। কোরবানি ঈদের আগে আরো এক দফা পণ্যগুলোর দাম বাড়ল। বিভিন্ন উপলক্ষ কেন্দ্র করে পণ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে পাইকারি বাজারের প্রভাবে কয়েক দিনে খুচরা বাজারেও পণ্য দুটির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৮৫ টাকা এবং আদা ১৪০-১৪৫ টাকা। এক সপ্তাহ বা ১০ দিন আগেও পণ্য দুটির দাম সর্বোচ্চ ছিল কেজিপ্রতি ১২০-১৩০ টাকা।

দেশি আদা-রসুনের সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়ে মেসার্স গ্রামীণ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী বলয় কুমার পোদ্দার বলেন, চট্টগ্রামে দেশি রসুনের চাহিদা ও বিক্রি কম। কারণ আমদানি করা চীনা আদা-রসুন আকারে বড় ও দেখতে সুন্দর। তাই এ অঞ্চলের ভোক্তাদের কাছে দেশির চেয়ে চীনা আদা-রসুনের কদর বেশি। অথচ চীনা আদা-রসুনের চেয়ে দেশি আদা-রসুনের গুণগত মান অনেক ভালো।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, প্রতি বছর ঈদসহ বিভিন্ন উপলক্ষ কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা করে থাকেন। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম এখন স্বাভাবিক রয়েছে। তারা বর্তমানে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জোরালো ভূমিকা রাখা জরুরি বলে মত দেন তিনি।

পূর্বকোণ/মিজান

The Post Viewed By: 237 People

সম্পর্কিত পোস্ট