চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

২৭ জুলাই, ২০১৯ | ১০:৫০ অপরাহ্ণ

মৃত শ্রমিকদের ওয়ারিশের মধ্যে গ্রুপ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শ্রম সচিব

সমস্যাক্রান্ত চট্টগ্রামের বস্ত্রখাতকে সহযোগিতা করবো

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেছেন, বছরে ২০-২২ লাখ নতুন মানুষ দেশের শ্রমবাজারে আসছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প- কারখানা বৃদ্ধি করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে, ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। দেশ এগিয়ে যাবে।
আজ শনিবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি সমিতি (বিজিএমইএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গ্রুপ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে চট্টগ্রামের ১৬টি কারখানার ২৯জন মৃত শ্রমিক/কর্মচারীর ওয়ারিশদের মাঝে গ্রুপ বীমা দাবির চেক ও ২ জন অসুস্থ শ্রমিককে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেন, চট্টগ্রামে বস্ত্র খাতের জন্ম। বিভিন্ন কারণে এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবো। আইন ও বিধির মধ্যে থেকে আমরা সহযোগিতা করবো।
তিনি আরও বলেন, পোশাক খাতকে পরিচর্যা করতে হবে। মালিক, শ্রমিক, সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক অব্যাহত রাখতে হবে।    নানা ঘাত- প্রতিঘাত  পেরিয়ে আমরা একটি পর্যায়ে এসেছি। এটি থেকে বিচ্যুত হলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এখন সামনে যে জনসম্পদ আছে তা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে জন্ম, যে দেশে বেড়ে উঠি, কাজ করি তার চেয়ে উন্নত দেশ রেখে যেন মরতে পারি এ তাড়না সব নাগরিকের মধ্যে থাকতে হবে।
বিজিএমইর প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, দেশে প্রথম শ্রমিকদের সঙ্গে আয় শেয়ার করেন পোশাক মালিকরা। আমি অনুরোধ জানাবো কোনো শ্রমিক অসুস্থ হলে বিজিএমইতে আবেদন করবেন। দ্রুত চেক পাবেন। চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা পিছিয়ে যাচ্ছে। সবসময় ভালো যাবে না এটা ঠিক। আমরা টিকে থাকলে শ্রমিকরা কাজ পাবে। আমরা সুদিনের অপেক্ষায় আছি। সুদিন আসবে। তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো কম দাম দিলে বায়ার সেখানে ছুটবে। শ্রমিকনেতাদের বলবো, আগামী ৫ বছর ব্যবসা টিকবে কিন্তু শ্রমিক বাড়বে না। কারণ প্রতিযোগী দেশগুলো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমরা টিকে থাকলে দেশ উন্নততর হবে। তিনি দেশের পোশাক খাতে ১ শতাংশ ইনটেনসিভ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এ ডাটাবেজের আওতায় কেন্দ্রীয় আরএমজি তহবিল গঠিত হয়। যা সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব ও আপদকালীন হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।পোশাক শিল্পের রপ্তানির বিপরীতে দশমিক ০৩ শতাংশ হারে কেটে নেওয়ায় শিল্পমালিকদের আলাদা কোনো বিমার প্রিমিয়াম দিতে হয় না। এ পর্যন্ত বিজিএমইএ ঢাকা ও চট্টগ্রাম ১১৭ কোটি টাকা দিয়েছে শ্রমিকদের।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এএম চৌধুরী সেলিম বলেন, দেশের অর্থনীতি বড় করায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের অবদান বেশি। তাদের শ্রমে বিশ্বে বাংলাদেশের নাম গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করলেও শ্রমিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। কারণ তারা বাংলাদেশের দূত।
বিজিএমইএ পরিচালক মিরাজ-ই-মোস্তফা কায়সার বলেন, শ্রমিকরা আমাদের পরিবারের সদস্য। তাই পরিবেশবান্ধব কারখানার পাশাপাশি শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরিতে উদ্যোক্তারা সচেষ্ট।
পরিচালক মোহাম্মদ আতিক বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে গ্রুপ বিমা চালু একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর।
এছাড়া প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এস.এম. আবু তৈয়ব, প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, প্রাক্তন পরিচালক এ.কে.এম. সালেহ উদ্দিন, আবদুল মান্নান রানা, এমডি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, হাসানুজ্জামান চৌধুরী, সেলিম রহমান, সাইফ উল্লাহ মনসুর, শ্রম অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. আল আমীন, বিজিএমইএর পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেনসহ গার্মেন্টস মালিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

পূর্বকোণ/ এস

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 415 People

সম্পর্কিত পোস্ট