চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

২৯ জুলাই, ২০২১ | ৫:৩১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রানীতিতে আগের বছরের মতো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে ঋণ প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতে সংবাদ সম্মেলন করে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর থেকে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুধু ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নতুন মুদ্রানীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গত দুই অর্থবছর ধরে পুরো এক বছরের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।

করোনা মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানসম্মত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে অত‌্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রেখে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭.৮০ শতাংশ। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রক্ষেপণ করা হয় ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। নতুন বিনিয়োগ কম হওয়ায় আগামীতেও ঋণ প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়বে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। গত অর্থবছরের জন্য সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও সঞ্চয়পত্র থেকে প্রচুর ঋণ পাওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে নিয়েছে অনেক কম। গত অর্থবছর রেমিট্যান্সে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং রপ্তানিতে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। করোনার এ সময়ে অর্থনীতির জন্য যা সহায়ক হয়েছে।

এদিকে, মুদ্রানীতিতে করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা প্যাকেজের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনীতির অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে কৃষি, সিএমএসএমই, বৃহৎ শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ইতোমধ্যে নেওয়া পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাড়ানো হবে। নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত ৫০০ কোটি টাকার এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফার ১ শতাংশ নিয়ে গঠিত স্টার্টআপ ফান্ডের আকার পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

এছাড়া সিএমএসএমই খাতগুলো, বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লাস্টার অ্যান্ড ভ্যালু চেইন এবং নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে ব্যাংকের অর্থায়ন বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম কার্যকরভাবে চালু করা হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 651 People

সম্পর্কিত পোস্ট