চট্টগ্রাম সোমবার, ১৭ মে, ২০২১

সর্বশেষ:

২১ এপ্রিল, ২০২১ | ১২:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা দিলে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াবে

অপার সম্ভাবনাময় আবাসন খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবাছরের বাজেটে ন্যূনতম ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা অতীব জরুরি বলে মন্তব্য করেন রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী।

তিনি দাবি করেন, আবাসন শিল্প রক্ষার্থে অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদী রি-ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। যাতে সাধারণ ক্রেতা চাহিদামত এলাকায় ১৫শ বর্গফুট বা তার চেয়ে ছোট ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

এছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, দেশের টাকা দেশে থাকবে। কৈয়ূম চৌধুরী আরো বলেন, ১৪ বছর আগে ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মাত্র ৯% সুদে গৃহ ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে ওই সময় স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যেও নিজের একটি বাড়ি তৈরির স্পৃহা জন্মেছিল। অনেকেই সেই স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা নিয়ে নিজের একটি মাথা গোজানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিল। তখন আবাসন খাতে এতো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ছিল না, প্লট ফ্ল্যাটও এতো বেশি ছিল না।  কিন্তু এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় অনেক ফ্ল্যাট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ বর্তমানে হলো তফসিলী ব্যাংকে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী রি-ফাইন্যান্সিং গৃহ ঋণ প্রদান বন্ধ আছে।

আবাসন শিল্প সংক্রান্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বাজেট প্রস্তাবনায় মোট ১১ দফা দাবি প্রস্তাব করেছে বলে জানান আবাসন খাতের বৃহৎ সংগঠন রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এই নেতা।

আলোচ্য দাবি প্রসঙ্গে আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী আরো বলেন, সার্কভুক্ত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্লট ও ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় অতি উচ্চ। যেখনে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশে প্লট ও ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় ৪-৭%, সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে সেই রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১২%। তাই রিহ্যাব থেকে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিষ্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট ফি ও কর সমূহ হ্রাস করে ৭% হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। ওই সব দেশে ফ্ল্যাট ক্রয়ে অর্থের উৎস বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না। তাই বাংলাদেশে আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। এতে দেশের টাকা দেশেই থাকবে।

অন্যান্য দাবি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আবাসন খাতে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ২% থেকে ৪ দশমিক ৫% থেকে হ্রাস করে ১ দশমিক ৫% নির্ধারণ করা এবং নতুন ভাবে মূল্য সংযোজন কর আরোপ না করা, গৃহায়ণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের  আয়কর হ্রাসকরণ, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে তহবিল প্রদানের মাধ্যমে আবাসন খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, সাপ্লাইয়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ৫ বছরের জন্য ডেভেলপারদেরকে অব্যাহতি দেওয়া, বিকেন্দ্রীকরণ নগরায়ণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শহর এলাকায় ৫ বৎসর এবং শহরের বাইরের এলাকায় ১০ বৎসরের জন্য ‘ট্যাক্স হলিডে’র মাধ্যমে উৎসাহিত করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও নামমাত্র রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারণ করে আবাসন খাতে  ‘সেকেন্ডারি বাজার’ ব্যবস্থার প্রচলনেরও দাবি জানান তিনি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 228 People

সম্পর্কিত পোস্ট