চট্টগ্রাম সোমবার, ১০ মে, ২০২১

১৯ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি প্রয়োজন গার্মেন্টস শিল্পের পণ্য ও সেবায়

বিকেএমইএ এর তৃতীয় সহ-সভাপতি গাওহার সিরাজ জামিল আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় ১২ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, শতভাগ রপ্তানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া এই শিল্পের প্রতিষ্ঠানসমূহকে শূন্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।

বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে পোশাক শিল্প খাত বিষয়ে আসন্ন নতুন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) মোট ১২টি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। এরমধ্যে কাস্টমস বিষয়ক ৫টি, ভ্যাট, আয়কর ও নগদ সহায়তা বিষয়ক ২টি করে মোট ৬টি এবং অন্যন্য বিষয়ে ১টি দাবি জানানো হয়। এসব দাবি প্রসঙ্গে গাওহার সিরাজ জামিল বলেন, রপ্তানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য উৎস আয়কর প্রদানকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এই কর দশমিক ৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করে চূড়ান্ত উৎস আয়করদায় হিসাবে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য নির্ধারণ করার দাবি রাখছি। এছাড়া রপ্তানির বিপরীতে প্রদত্ত নগদ সহায়তার উপরে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবিও রাখছি।

নগদ সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের বিকাশের স্বার্থে রপ্তানির বিপরীতে প্রদানকৃত নগদ সহায়তাসমূহ আগামী ৫ বছরের জন্য বহাল রাখা প্রয়োজন। একই সাথে রপ্তানিমুখি দেশীয় বস্ত্রখাতে বিকল্প নগদ সহায়তা পরিশোধের ক্ষেত্রে উদ্ভুত সমস্যা ও হয়রানি নিরসনকল্পে বস্ত্রমূল্যের পরিবর্তে সরাসরি প্রত্যাবাসিত এফওবি মূল্যের উপর নগদ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা সম্বলিত নতুন একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা প্রয়োজন। কাস্টমস ও ব্যাংক সংক্রান্ত দাবি প্রসঙ্গে গাওহার সিরাজ জামিল বলেন, বন্ড লাইসেন্সের আওতায় ইউডি’র চাহিদা মোতাবেক যে কোন এইচএস কোড অন্তর্ভুক্ত করে আমদানির সুযোগ দিতে হবে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিভাগীয় ভ্যাট অফিস থেকে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বিধান বাতিল করতে হবে।

একই সাথে যন্ত্রপাতি স্থাপনে সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল বা ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ স্বাপেক্ষে অঙ্গীকার ফেরত প্রদান করার বিধানটি রহিত করতে হবে। এছাড়া পণ্য শুল্কায়নকালে মূসক বিভাগীয় কর্মকর্তা থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

এছাড়া, আমদানি নীতি আদেশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাক টু ব্যাক আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে বন্ড লাইসেন্সের আবশ্যকতা সন্নিবেশিত থাকার কারণে বন্ড লাইসেন্সবিহীন রপ্তানিমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে স্থানীয় ব্যাক টু ব্যাক খণপত্র খুলতে পারছেনা। অতএব দেশীয় পশ্চাৎপদ সংযোগ শিল্পকে উৎসাহিত করতে ব্যাক টু ব্যাক ইমপোর্ট এলসি খোলার ক্ষেত্রে বন্ড লাইসেন্সবিহীন রপ্তানিমুখি গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে স্থানীয় ব্যাক টু ব্যাক খণপত্র খোলার অনুমতি প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 298 People

সম্পর্কিত পোস্ট