চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

৯ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি সৌর প্রকল্পে ২০ শতাংশ কোটা দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাড়া

দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাঁচাতে’ সরকারি সৌর প্রকল্পে কমপক্ষে ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের দাবি করেছে সোলার মডিউল ম্যানুফেকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসএমএমএবি)। এ বিষয়ে সংগঠনটি বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও এলজিআরডি- এই তিন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।

তাদের সেই দাবির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠিও দিয়েছে। সোলার প্যানেল উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে।

সরকারি সৌর কেন্দ্রিক প্রকল্পে (নেট মিটারিং, রুফটপ, সোলার হোম সিস্টেম, স্ট্রিট লাইট, সোলার সেচ, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ প্রকল্প) দেশীয় সোলার প্যানেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য কোটা বরাদ্দ দিতে গত ডিসেম্বরে তিনটি মন্ত্রলালয়ে এই চিঠি দেন এসএমএমএবি-এর নেতারা। এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাজনীন পারভীন এলজিআরডি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, কৃষি, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সিনিয়র সচিবদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে এসএমএমএবি-এর আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলেন।

বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার (সোলার হোম সিস্টেম) দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে এই বিষয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গত বছরের গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট (জিএআর) অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ মানুষ বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বর্তমানে দেশে ৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সেচের কাজেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার সেচপাম্প সৌরবিদ্যুতরে মাধ্যমে চালু রয়েছে।

তবে ব্যবহারে উপরের দিকে থাকলেও উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন ও ভারত। বাংলাদেশে মাত্র সোলার প্যানেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯টি। এসএমএমএবি-এর হিসাব অনুযায়ী এই নয়টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ৯৫ থেকে ১০০ মেগাওয়েট সোলার প্যানেল উৎপাদন করতে পারে।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারির হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়েট। গত বছরের হিসেবে এই উৎপাদনের মধ্যে ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ অর্থাৎ ৬০৫ মেগাওয়েট আসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে। সেখানে সৌর বিদ্যুতের অবদান ৩৭০ মেগাওয়েট। যার সিংহভাগই এসছে প্রত্যান্ত অঞ্চলে অফগ্রিড এলাকায় স্ট্যান্ড এলান হিসেবে স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেম হতে।

সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়েটে উন্নীত করতে চায়। এর মধ্যে সরকার বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার মেগাওয়েট নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সংগ্রহ করতে চায়। তবে বর্তমানে সরকারি প্রকল্পগুলোতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ একেবারেই নগণ্য।

বর্তমানে দেশে বেশিরভাগ সোলার প্যানেলের যন্ত্রাংশ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করছে। তবে এসএমএমএবি-এর দাবি, এসব জিনিস মানহীন। তাদের মতে, এর ফলে যন্ত্রাংশগুলো একদিকে যেমন ভোক্তার আস্থা নষ্ট করছে, অন্যদিকে দেশীয় বাজার ধ্বংস করছে। তাই তারা এসব আমদানিকৃত সৌর যন্ত্রাংশের মান নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি এসব যন্ত্রাংশ বর্জনেও জনমত গঠন করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত সোলার প্যানেলের দেশীয় বাজারের চাহিদা বিদ্যমান রাখতে সোলার প্যানেল আমদানিতে লাগাম টানা জরুরি বলে মনে করেন এসএমএমএবি-এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকী মাসুদ। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, এটি কার্যকর করা গেলে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ও রোধ হবে।

দেশীয় সোলার প্যানেল প্রস্তুতকারী শিল্পের জন্য কমপক্ষে ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের দাবি জানিয়ে গোলাম বাকী মাসুদ এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন পূর্বকোণের কাছে।

তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন তাঁরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত, তেমনি অন্যদিকে সোলার খাত ভিত্তিক পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে সোলার প্যানেল প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান এই খাত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেবল কোটা বরাদ্দ করা হলেই এই খাতকে বাঁচানো যাবে।

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 186 People

সম্পর্কিত পোস্ট