চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

২১ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্দরের দায়িত্বে চাই দক্ষ মানুষ

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অদক্ষ মানুষ দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করা হবে না। বন্দরে আগে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চাকরি পেত। আর এখন সেকাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে। সুতরাং বন্দরে জালিয়াতির সুযোগ নেই। এখানে শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ মানুষরাই নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবে। আগে যেমন বিনা অভিজ্ঞতায় ও দক্ষতায়, কোনো ধরনের জ্ঞান ছাড়াই বিভিন্ন চেয়ারে বসা যেত সেটি এখন সম্ভব নয়। যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। আমরা দক্ষ মানুষের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্ব দিতে চাই। এতে অবশ্যই চট্টগ্রামের মানুষের, উপকূলীয় মানুষের অনুভূতির সঙ্গে, চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে একমত আছি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। গতকাল রবিবার দুপুরে শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৪তম উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং বিষয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের ডিপিপি এবং রিভাইস ডিপিপি করা হচ্ছে। কর্ণফুলী ড্রেজিং করতে যে ধরনের ইক্যুইপমেন্ট দরকার সেগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর চালু রাখতে গেলে নদীর ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই।

এর আগে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত বন্দরের উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভার সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিজেদের টাকায় আমরা পদ্মা সেতু করেছি। এছাড়া মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন হচ্ছে। এসব সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। উপদেষ্টা কমিটির সদস্যসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, করোনার মাহামারীতে বন্দর একদিনও বন্ধ ছিল না। এই মহাসংকটেও চট্টগ্রাম বন্দর আপনারা সচল রেখেছেন। নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। এর জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

উপদেষ্টা কমিটির সভায় যেসব বিষয়ে আলোচনা হয় সেগুলো হলো- বে টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়ন, পতেঙ্গা টার্মিনালের কাজ শেষ করা, কর্ণফুলী ড্রেজিং কাজ পুনরায় শুরু করা, বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো বা অফডক সরানো, অফডকের বিভিন্ন সেবার বিল কমানো, বন্দরের নিলাম ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম জোরদার করা, যানজট, বন্দরের বিশেষায়িত হাসপাতাল, টোল রোড, বন্দরের স্টেক হোল্ডার ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রস্তাবনা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলমের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
উপস্থিত উপদেষ্টা কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, ওয়াসিকা আয়েশা খান, কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম, সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আলতাফ হোসেন, বিকডা সভাপতি নূরুল কাইয়ুম খাঁন, বিজিএমই প্রাক্তন প্রথম সহ সভাপতি নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন, নুরুল হক প্রমুখ।

সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন এফবিসিসিআই’র সহ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, শিপার্স কাউন্সিল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, বারভিডা সভাপতি আবদুল হক, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রফিক আহমেদ প্রমুখ।

 

কারো ব্যক্তি স্বার্থে বন্দর হবে না

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

বে টার্মিনালের অল্প দূরত্বেই মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেই শিল্প নগরের জন্য আলাদা কোন বন্দরের প্রয়োজন আছে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না। কারণ বন্দর করতে হবে দেশের স্বার্থে কারো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। বে টার্মিনাল ভবিষ্যতের বন্দর। এই প্রকল্প সরকারের ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। বে টার্মিনালে বিদেশিদের আগ্রহ আছে। সেখানে অনেকগুলো টার্মিনাল হওয়ার পরিকল্পনা আছে। তবে সব কাজ বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। বন্দরের নিজের অর্থায়নে কিছু টার্মিনাল নির্মাণ করা প্রয়োজন। বন্দরের অর্থ কাজে না লাগলে সেটি সরকারের ফান্ডে রাখতে হয়। এটি সরকারি বিধান। তাই নিজেদের প্রকল্পের কাজে বিনিয়োগ করলে বন্দরের অর্থ অলস পড়ে থাকবে না।
রেলের জায়গা প্রয়োজনে ভাড়া নিয়ে সেখানেও টার্মিনাল করা যেতে পারে। তাহলে বন্দরের উপর চাপ কমবে। একই সাথে লালদিয়ার চরে যে টার্মিনাল হওয়ার কথা ছিল সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ওই জায়গায় যারা বসতি স্থাপন করেছে তাদের অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করে দ্রুত সে কাজ শেষ করা উচিত।
গাড়ি আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ি রাখার চার্জ বেশি। অন্যদিকে মোংলা বন্দরে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে খরচ কম। প্রয়োজনে মোংলা বন্দরের চার্জ বাড়িয়ে গাড়ি রাখার চার্জ সমান করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, বন্দর হাসপাতাল ও বন্দর স্টেডিয়াম সংস্কার করে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এর সুফল সবাইকে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

 

শহরের উন্নয়ন ব্যতিত বন্দরের উন্নয়ন সম্ভব নয়

খোরশেদ আলম সুজন
চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম বন্দর সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস। এই বন্দর বাংলাদেশের প্রাণ। সবাই বন্দরের উন্নয়ন চায়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর একটি শহরের উপর গড়ে উঠেছে। সেই চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন ছাড়া বন্দরের একার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বন্দর ও সিটি কর্পোরেশনকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বে টার্মিনালের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বে টার্মিনালের জায়গার বিষয়ে যারা মামলা দিয়ে হয়রানি করে তারা বন্দরের উন্নয়ন চায় না। কাজের ধীরগতি এসব মামলার অন্যতম কারণ। এগুলোর সমাধান করা জরুরি। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
বন্দর কার্যক্রম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। একই সাথে পতেঙ্গা টার্মিনালের পাশে থাকা ইনকনট্রেড টার্মিনাল অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই জায়গায় বন্দর নিজেদের টার্মিনাল করলে বন্দরের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, সীতাকু-ের দিকে অনেক খালি জায়গা আছে। শহরের ভেতরের অফডকগুলো সেই জায়গায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন। এতে শহরের গাড়ির চাপ অনেক কমে যাবে। একই সাথে বন্দরের গাড়ি চলাচলের জন্য একটি ডেডিকেটেড রাস্তা থাকা প্রয়োজন। যে রাস্তায় শুধু বন্দরের ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্রলি ইত্যাদি চলাচল করবে।

নির্দিষ্ট সময়ে বে টার্মিনালের কাজ শেষ করতে হবে

নাসির উদ্দিন চৌধুরী

প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি, বিজিএমইএ
সময়ের মধ্যে বে টার্মিনালের কাজ শেষ করতে হবে। কারণ প্রতি বছর ব্যবসার গ্রোথ হচ্ছে ১০-১৫ শতাংশ। সে অনুযায়ী বন্দরের গ্রোথ বাড়াতে হবে ২০ শতাংশ। কিন্তু সে অনুপাতে বন্দরের গ্রোথ এখনো বাড়েনি।
তাই বে টার্মিনালের কাজ শেষ হলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য বৃহৎ আকারে হ্যান্ডেল করতে পারবে চট্টগ্রাম বন্দর। তবে বে টার্মিনালের কাজের জন্য অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করা যাবে না। এর কাজের একটি সুনির্দিষ্ট টাইম ফ্রেম করা প্রয়োজন। এটি সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে নেয়া হলে দ্রুত কাজ শেষ হত এবং সুফলও মিলতো।
‘ইউজ অব ডুয়িং বিজনেস’র সূচকে পৃথিবীর ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৭তম। অর্থাৎ আমাদের দেশের চেয়ে ১৭৬টি দেশ বেশি পরিমাণে ব্যবসাবান্ধব। তাদের দেশের ব্যবসার পরিবেশ, খরচ ও সময় সবকিছু আমাদের চেয়ে ভাল। এ ব্যাপারে সরকার চাচ্ছে ‘ইউজ অব ডুয়িং বিজনেসের’ সূচক কমাতে। কিন্তু সেটি করতে হলে আমাদের আমদানি-রপ্তনির খরচ ও সময় আরো কমাতে হবে। আর সেজন্য অবকাঠামোর মধ্যে বে টার্মিনালের কাজ শেষ করতে হবে এবং সড়ক যোগাযোগ দ্রুত বাড়াতে হবে। তবেই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চায়নার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবো এবং আমাদের ইউজ অব ডুয়িং বিজনেসের পথ আরো সুগম হবে। আমাদের দেশে শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এবং অফডকগুলো তাদের ইচ্ছেমত চার্জ নির্ধারণ করে। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। এজন্য একটি কমিটিও থাকতে পারে।

 

আর একটিও অফডক  হয়নি গত ১৩ বছরে

নূরুল কাইয়ুম খাঁন
সভাপতি, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর্টস এসোসিয়েশন

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর্টস এসোসিয়েশনের অধীনে যে ১৯টি অফডক রয়েছে সেগুলো সবই হয়েছে ২০০৭ সালের আগে। এরপর আর কোন অফডক হয়নি। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও যে কারণে আর অফডক হয়নি তা হলো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ। একটি অফডক করতে যে পরিমাণ জায়গা, জনবল ও বিনিয়োগ প্রয়োজন তা ১৩ বছরেও আর হয়নি। এসব অফডক সৃষ্টি হয়েছে ১৯৯৮ সালের বন্দরের এক আইনে।
এসব অফডক থেকে দেশের শতভাগ রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়। এছাড়া মোট আমদানির ২৩ শতাংশ পণ্যও এখান থেকেই ডেলিভারি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অফডকগুলোতে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে এবং এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩০ হাজার মানুষ কাজ করে।
অফডকের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ সুফল দেখা গেছে করোনার মহামারীতে। যখন বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তখন অফডকগুলোই বন্দরকে আবার সচল করেছে। সব ধরণের পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়ার পর অফডক থেকে পণ্য খালাস হয়েছে। সে সময় আমাদের সক্ষমতা নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠেনি। আমাদের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। অর্থাৎ আমাদের কাজের সক্ষমতা থাকলেও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে কথা উঠছে অফডকগুলোকে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২০ কি. মি. এর বাইরে নেওয়া। কিন্তু এতো টাকা বিনিয়োগ করার সময় নিয়ম ছিল বন্দরের ২০ কি. মি. এলাকার মধ্যে অফডক থাকতে হবে। তাহলে এই দ্বিমুখী নীতি কেন? কিভাবে এতো টাকার বিনিয়োগ শহরের বাইরে স্থানান্তর হবে? আর অফডক সরালেই যে শহরের যানজট কমবে মনে করা হচ্ছে তা কিন্তু বাস্তবে হবে না।

 

শিপিং এজেন্টদের চার্জ আদায়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন

একেএম আক্তার হোসাইন
সভাপতি, চিটাগাং কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন

শিপিং এজেন্টরা বিভিন্ন খাত দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করছে। তাই শিপিং এজেন্টরা ঠিক কত টাকা চার্জ আদায় করতে পারবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করে দেওয়া দরকার।
তাদের সাত-আট ধরণের চার্জগুলোর লাগাম থাকা প্রয়োজন। এছাড়া অনেক শিপিং এজেন্ট রয়েছে যারা শনিবার তাদের অফিস খোলা রাখেন না। যার কারণে সিএন্ডএফ এজেন্টরা তাদের কাছ থকে ডেলিভারি অর্ডার নিতে পারে না এবং একই কারণে বন্দর থেকেও পণ্য খালাস করতে পারে না। এতে অতিরিক্ত এক দিনের চার্জ যুক্ত হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। এজন্য সপ্তাহের ৭দিন ২৪ ঘণ্টা ডেলিভারি অর্ডার নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

 

ফ্লাইওভার নির্মাণ শুরুর  আগেই বে টার্মিনালে ইয়ার্ড চালু প্রয়োজন

খায়রুল আলম সুজন
পরিচালক, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশন

যেখানে ঢাকাসহ সারা দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসে সেখানে মিরসরাই ইকোনোমিক জোনের জন্য অল্প দুরত্বেই আলাদা কোন বন্দরের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কারণ ইতিমধ্যে পণ্য পরিবহণের জন্য আউটার রিং রোড তৈরি করা হচ্ছে। ওই রোডে মিরসরাই ইকোনোমিক জোনের পণ্য বে টার্মিনালে আসা যাওয়া করতে খুব বেশি সময় লাগবে না এবং খরচও বেশি হবে না।
বে টার্মিনালের জন্য ইতিমধ্যে যতটুকু জায়গা অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে ততটুকুতে খুব দ্রুত একটি পণ্য ডেলিভারি ইয়ার্ড তৈরি করে সেটি এখনই কাজে লাগানো প্রয়োজন। কারণ অল্প কিছুদিনের মধ্যে বন্দরের প্রবেশের প্রধান সড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তখন পণ্য আসা-যাওয়ার পথ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
সব ধরণের পণ্য বেসরকারি অফডকগুলো থেকে ডেলিভারি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর। তবে এটি এখনই করা উচিত হবে না। কারণ বেসরকারি অফডকগুলোর সাথে কাজের অতীত অভিজ্ঞতা ভাল নয়। তারা চার্জ বাড়ানোসহ নানা জটিলতা তৈরি করে। তাই সব ধরণের পণ্য এখনই অফডক থেকে ডেলিভারির নির্দেশনা আসলে আরো একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি হবে এবং একই সাথে ব্যবসায়ীরাও তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। এই কুফল থেকে মুক্তির জন্যে হলেও যত দ্রুত সম্ভব বে টার্মিনাল অংশে পণ্য ডেলিভারি ইয়ার্ড প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
এজন্য প্রয়োজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্সদের ওই জায়গা ইজারা দিতে পারে। সেই জায়গায় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্সরা বিনিয়োগ করে পণ্য ডেলিভারির ইয়ার্ড তৈরি করে নিবে। প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট সংযোজন করবে। এতে বন্দরের উপরে চাপ কমবে এবং কেউ একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করার সুযোগ পাবে না।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 137 People

সম্পর্কিত পোস্ট