চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৯ নভেম্বর, ২০২২ | ৯:৫২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণে মৃত শ্রমিকদের সংখ্যা জানালো কাতার

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য স্টেডিয়ামসহ অবকাঠামো নির্মাণে মৃত শ্রমিকদের সংখ্যা জানিয়েছেন কাতারের এক কর্মকর্তা। তিনি সরাসরি কাতারের বিশ্বকাপে আয়োজনে জড়িত ছিলেন। তার মতে, টুর্নামেন্টের অবকাঠামো নির্মাণে মৃত শ্রমিকদের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জন। এর আগে কাতার মৃত শ্রমিকদের যে সংখ্যার কথা বলেছিল তা থেকে অনেক বেশি। মঙ্গলবার মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

 

কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করা সুপ্রিম কমিটির মহাসচিব হাসান আল-তাওয়াদি ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মর্গানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মৃতদের এই সংখ্যার কথা তুলে ধরেছেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনকারী কাতারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনা আরও জোরালো ও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাক্ষাৎকারে আল-তাওয়াদির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সব মিলিয়ে সত্যিকার অর্থে কতজন অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছিল বলে আপনি মনে করেন?

 

জবাবে কাতারি কর্মকর্তা বলেন, মৃতদের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ বলে ধারণা করা হয়। একেবারে নির্দিষ্ট সংখ্যা আমার জানা নেই। এটি আলোচনার বিষয়।

 

অবশ্য কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কিছু বলেনি। সুপ্রিম কমিটির এক প্রতিবেদনে ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কার কাজে মৃত শ্রমিকদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে মৃত শ্রমিকের সংখ্যা মাত্র ৪০ জন বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে ৩৭ জন মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকের মতো কাজ সংশ্লিষ্ট না এমন কারণে হয়েছে বলা হয়। আর মাত্র তিনজন কর্মস্থলের ঘটনায় মারা যান। আরেক পৃথক প্রতিবেদনে এক শ্রমিকের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

আল-তাওয়াদি ইঙ্গিত দিয়েছেন ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে টুর্নামেন্টের জন্য সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ কাজে। পরে এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কমিটি বলেছে, আল-তাওয়াদি যে সংখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন তা ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কাতারজুড়ে কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট সব মৃতের সংখ্যা। এই সংখ্যায় কাতারের সব খাত ও জাতীয়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০১০ সালে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের অনুমতি পাওয়ার পর দেশের কর্মসংস্থান নীতিতে সংস্কার আনে। এর আওতায় কাফালা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এই সময়ে ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার কাতারি রিয়াল (২৭৫ ডলার) নির্ধারণসহ মালিকদের খাবার ও থাকার সুবিধা দেওয়া হয়। কর্মস্থলে মৃত্যু এড়াতে শ্রমকিদের নিরাপত্তা বিধিও হালনাগাদ করা হয়।

 

আল-তাওয়াদি বলেন, একজনের মৃত্যুতে অনেকের মৃত্যু হয়। এটি সহজ ও সাধারণ। অ্যাক্টিভিস্টরা কাতারের প্রতি আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে শ্রমিকরা যাতে মজুরি সময়মতো পায় এবং নিয়োগকর্তার হাতে নিপীড়িত না হয়।

 

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট