চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৮ মে, ২০১৯ | ৮:০২ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এভারেস্টে মিলছে অভিযাত্রীর লাশ

এভারেস্ট! নাম শুনলেই ভেসে ওঠে এক শ্বেতশুভ্র হাতছানি। অভিযাত্রী বা পর্বতারোহীদের সারাজীবনের আকাঙ্ক্ষা থাকে পৃথিবীর এই সর্বোচ্চ শৃঙ্গে একবার দাঁড়ানোর। সেই ১৯২২ সাল থেকে শুরু করে আজ অবধি এভারেস্ট তার বরফের অবিনশ্বর মায়ায় ডেকেছে অসংখ্য মানুষকে। কিন্তু বরফ গলতেই ভেসে উঠেছে এক ভয়ংকর সত্য।

এ পর্যন্ত ৩০০ জনের মতো অভিযাত্রী এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। তাঁদের দেহ থেকে গেছে এভারেস্টের বুকে। কালের হিসেবে তারা চাপা পড়ে জমে গেছে বরফের অতলে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা এত অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে যে, গলে যাচ্ছে এভারেস্টের মায়াবী বরফও। আর বরফ সরতেই বেরিয়ে আসছে সেইসব আরোহীদের চাপাপড়া দেহ। যা অবিকৃত অবস্থায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জমে টিকেছিল যুগযুগ ধরে! বরফ গলে বেরিয়ে আসা মৃতদেহগুলো কী তবে নির্দেশ করছে এ পৃথিবীর এক ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকেও?

একশো বছর ধরে এই এভারেস্টে ওঠার পথের অন্যতম বিপজ্জনক জায়গা খুম্বু আইসফলেই মারা গিয়েছেন বহু পর্বতারোহী। ২০১৪ সালে এখানে বড় তুষারধস নামায় মারা যান ১৩ জন অভিজ্ঞ শেরপাও। সেই খুম্বুতেই বরফ গলে বেরিয়ে আসছে সবচে বেশি মৃতদেহ।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি আং শেরিং বলছেন, ‘কিছুদিন আগেই একটি মৃতদেহ বেরিয়ে এসেছিল পর্বতশৃঙ্গের প্রায় কাছে, আট হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায়। মৃতদেহটি ঠাণ্ডায় তো জমাট বেঁধে গিয়েছিলই, সেইসঙ্গে তার ওজন হয়ে গিয়েছিল প্রায় ১৫০ কেজি। ওই দুর্গম জায়গা থেকে মৃতদেহটি নিচে নামিয়ে আনতে বেশ কষ্টই হয়েছিল আমাদের। সবসময় তা সম্ভবও হয় না’।

শেরিং শেরপা বলেন, ‘২০০৮ সালে একবার এমন হয়েছিল। ১৯৭০ সালে চাপাপড়া সাতজন ব্রিটিশ অভিযাত্রীর দেহ একসঙ্গে বেরিয়ে এসেছিল। সেগুলো নামানো হয়। কিন্তু তারপর থেকে আর কখনো এত দেহ দেখা যায়নি। এই বছর অস্বাভাবিক রকম গলেছে বরফ। এটা সারা পৃথিবীর জন্য খুবই খারাপ বার্তা। আমরা উদ্বিগ্ন।” নেপাল প্রশাসন সূত্রের খবর, এই বছর অসংখ্য নিখোঁজ অভিযাত্রীর দেহ উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্টের যাত্রাপথে।

নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড এসোসিয়েশনের তরফে সবিত কুঁয়ার জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি খুবই চিন্তার। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে আমাদের। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা মৃতদেহ নামিয়ে আনছি। কখনও আবার শুধুই প্রার্থনা করে পাথর আর বরফ দিয়ে মৃতদেহগুলি চাপা দিয়ে দিচ্ছি।’

১৯৫৩ সালে প্রথম এডমন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নোরগে এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এভারেস্টের রূপও পাল্টে গেছে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্প নষ্ট করে দেয় সামিটের নিচের ‘হিলারি স্টেপ’ নামের একটি জায়গা। মেরুপ্রদেশ থেকে শুরু করে হিমালয় সর্বত্রই  বরফ গলার নানা কুফল প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যতটা প্রচার ও সচেতনতা গৃহীত হওয়া উচিত, তার প্রায় কিছুই হয় না। সেই কারণেই এবার যেন মাত্রা ছাড়িয়েছে এভারেস্ট। গবেষণায় দেখা যায়, হিমালয়ের বরফ প্রবলগতিতে গলতে শুরু করেছে। আগামী ১০০ বছরের মাথায় ৭০-৯৯ শতাংশ হিমবাহ গলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট