চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৬ মে, ২০১৯ | ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ব্ল্যাক হোলের ভেতর কি আছে?

ব্ল্যাক হোল হলো সেসব বৈজ্ঞানিক রহস্যের একটি যার সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি অবগত নন। একারণে সম্প্রতি এম৮৭ নামক গ্যালাক্সিতে অবস্থিত একটি ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত ছবি তৈরি করার ঘটনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তৈরিকৃত এ ছবিটি হলো ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের প্রথম প্রত্যক্ষ ও পর্যবেক্ষণীয় প্রমাণ।
মরিয়ম আকতার
(গত সংখ্যার পর)
* ব্ল্যাক হোলের ভেতর কি আছে?
যদিও ব্ল্যাক হোলকে দেখা যায় না, কিন্তু বিজ্ঞানীরা এটা সম্পর্কে জানতে পারার কারণ হলো- এটির চারপাশে অন্যান্য বস্তুর ক্রিয়াশীলতা। নিরাপদ বলয়ে থাকা এসব বস্তুকে ব্ল্যাক হোল ভেতরের দিকে টানতে পারে না, কিন্তুর এটির বল দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে যেসব বস্তু ব্ল্যাক হোলের যে সীমারেখার মধ্যে গেলে আর ফিরে আসতে পারে না তাকে ইভেন্ট হরাইজোন বা ঘটনা দিগন্ত বলে। ব্ল্যাক হোল যেন এক অতলস্পর্শী গহ্বর, যা কোনোকিছু গ্রাস করলে আর ফিরে আসতে পারে না।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন যে, কোনো বস্তু ব্ল্যাক হোলের ভেতর যাওয়ার পর কি ঘটে। মনরিল বলেন, ‘যদি একবার হাইড্রোজেন (ধ্বংসপ্রাপ্ত নক্ষত্র থেকে) ভেতরে যায়, তাহলে মহাকর্ষ তত্ত্ব আমাদেরকে বলছে যে এটি কেন্দ্রে সংকুচিত হয়ে সিঙ্গুলারিটি বা এককত্ব অর্জন করে এবং কেউ জানে না যে এটি সেখানে দেখতে কেমন। যদিও এটা নিশ্চিত যে, সেটি তখন আর হাইড্রোজেন থাকে না।’ তাই ব্ল্যাক হোলের ভেতরটা আপনি মুভিতে যেরকম দেখেন বাস্তবে তেমন নাও হতে পারে। মনরিল আরো বলেন, ‘ইভেন্ট হরাইজোন ও সিঙ্গুলারিটির মধ্যে শূন্যস্থান ছাড়া আর কিছুই নেই এবং সেখানকার মহাকর্ষ বল এতটাই শক্তিশালী যে ব্ল্যাক হোলে পতিত কোনোকিছুই আর ফিরে আসতে পারে না।’ ব্ল্যাক হোলের ভেতরে চলে যাওয়া বস্তুর ভাগ্যে কি ঘটে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের তত্ত্ব হলো- যেহেতু ব্ল্যাক হোল ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়, তাই এটির ভেতর থেকে কিছু না কিছু বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু প্রচলিত মহাকর্ষ তত্ত্বের সঙ্গে তার এ ধারণা সাংঘর্ষিক। হকিং এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমৃত্যু গবেষণা করে গেছেন। এ বিষয়ে তার চূড়ান্ত গবেষণাপত্রটি তার সহকর্মীদের দ্বারা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
* নতুন ছবিটি ব্ল্যাক হোলের ভেতর কি আছে তা সম্পর্কে যা বলতে পারে এম৮৭ গ্যালাক্সিতে অবস্থিত ব্ল্যাক হোলের নতুন ছবিটি প্রকৃতপক্ষে কোনো ফটোগ্রাফ নয়, এটি হলো বিশ্বের ৮টি টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের সংকলন, যাকে সমষ্টিগতভাবে ইভেন্ট হরাইজোন টেলিস্কোপ বলে। এটি হলো প্রথম প্রমাণ যা ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে পূর্বের তত্ত্বকে সমর্থন অথবা প্রত্যাখ্যান করবে। মনরিল বলেন, ‘যেসব জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা করেন তারা ব্ল্যাক হোলের ঘনত্ব ও ঘূর্ণন হার সম্পর্কে জানতে উদগ্রীব। এ সম্পর্কে জানতে তারা এতদিন অপ্রত্যক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ব্ল্যাক হোলের নতুন ছবিটি তাদের এ সংক্রান্ত গবেষণাকে আরো স্পষ্ট করে তুলবে।’ যেসব পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্বকে আরো ভালোভাবে যাচাই করতে চান অথবা যারা তার এ তত্ত্বকে খন্ডাতে চান, তারা এ ছবিটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন। ছবিটির উজ্জ্বল আংটিগুলো হলো অ্যাক্রিশন ডিস্ক বা
পরিবৃদ্ধি চাকতি (ইভেন্ট হরাইজোনের ঠিক আগে গ্যাসের কক্ষপথীয় ঘনত্ব)। মধ্যখানের কালো স্থানটি হলো ব্ল্যাক হোলের ছায়া (এটা মনে রাখতে হবে যে সেখানে কোনো আলো নেই, তাই আমরা ব্ল্যাক হোলের ভেতরটা দেখতে পাই না)। এ ছবিটির প্রত্যেকটি দিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হয়তো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর তালিকা থেকে ব্ল্যাক হোল ওরফে কৃষ্ণগহ্বরকে বাতিল করতে সক্ষম হবেন।(শেষ)
[সূত্র : ডয়চে ভেলে]

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট