চট্টগ্রাম রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২৩ মে, ২০১৯ | ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নাসরিন আকতার

স্বপ্ন ‘শেখার’ প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গবেষকরা

স্বপ্নের মধ্যে আমরা সব আজব, যুক্তিহীন কা-কারখানা দেখি, প্রায়ই যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। কিন্তু দিবাস্বপ্নের ক্ষেত্রে যুক্তি তা হতে দেয় না। নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা এমন স্বপ্ন দেখার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গড়ে তুলছেন।

স্বপ্নের রকমফের
স্বপ্নে প্রকৃতির নিয়মও খাটে না। এমনকি গল্পের গরু দিব্যি গাছে উঠতে পারে। তখন অদ্ভুত সব পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়। সাধারণত স্বপ্ন দেখার সময় আমরা সে বিষয়ে সচেতন থাকি না। কিন্তু যখনই টের পাই যে আমরা আসলে স্বপ্ন দেখছি, তখনই সেটা লুসিড ড্রিম বা দিবাস্বপ্ন হয়ে ওঠে। আমরা কিন্তু সেই স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। প্রায় অর্ধেক মানুষের কমপক্ষে একবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের নাইমেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্টিন ড্রেসলার দিবাস্বপ্ন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘এটি সত্যি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বিরল ঘটনা। বিশেষ করে স্বপ্নের সার্বিক ক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। অর্থাৎ স্বপ্নের সম্ভবত এক জৈব ক্রিয়াও রয়েছে। সেটা সত্য হলে তার নিউরো-বায়োলজিকাল ভিত্তি কত গভীর, তা জানতে হবে। লুসিড ড্রিমের মাধ্যমে আমরা সম্ভবত স্বপ্ন ও সার্বিকভাবে ঘুমের ক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারছি।”
লুসিড ড্রিমের রহস্য
লুসিড ড্রিমের সময়ে মস্তিষ্কে ঠিক কী ঘটে, মার্টিন ড্রেসলার তা জানতে চান। সেই লক্ষ্যে তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের এমআরটি পাইপে ঘুমাতে দিয়েছেন এবং একটি ক্ষেত্রে ইইজি যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মস্তিষ্কের কোন কোন অংশ সক্রিয় রয়েছে, তাঁদের ব্রেনওয়েভের মাধ্যমে তা দেখা যাচ্ছে।
নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়
বিভিন্ন চাপের কারণে মাঝেমধ্যে মানুষের স্ট্রেসে থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে তা যদি নিয়মিত হতে থাকে, তবে শরীর ও মনে তার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। দেখা দেয় কার্ডিওভাসকুলার, ডায়াবেটিস ও পেটের নানা সমস্যার মতো রোগ।
সাধারণ স্বপ্নের তুলনায় লুসিড ড্রিমের ক্ষেত্রে আমাদের যুক্তিবোধ কাজ করে। ড. মার্টিন ড্রেসলার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘মস্তিষ্কের কার্যকলাপের মধ্যে সেটা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে কপালের ঠিক পেছনের অংশে আমরা উল্লেখযোগ্য মাত্রার বাড়তি কার্যকলাপ লক্ষ্য করেছি। প্রায় জেগে থাকার অবস্থার মতো সজাগ থাকে।”
আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে গবেষকরা লুসিড ড্রিম শেখার নতুন প্রক্রিয়ার খোঁজ করছেন। ড. ড্রেসলার বলেন, ‘‘একটি
প্রচলিত কৌশল হলো, দিনে বেশ কয়েকবার নিজেকে প্রশ্ন করা- আমি কি জেগে আছি, না স্বপ্ন দেখছি? বিশেষ করে অস্বাভাবিক বা স্বপ্নময় পরিস্থিতিতে এমন প্রশ্ন তোলা উচিত। যথেষ্ট ঘনঘন এমনটা করলে বিষয়টি স্বপ্নে পরিণত হয়। তখন স্বপ্নের মধ্যেও নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি জেগে আছি, না স্বপ্ন দেখছি?”
স্বপ্ন ও বাস্তবের মেলবন্ধন
যুক্তির অভাব বা অদ্ভুত পরিস্থিতি স্বপ্নের লক্ষণ হতে পারে। স্বপ্নের সময় কোনো বস্তু বা বিষয় দীর্ঘ সময় ধরে দেখলে তা অস্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন দিনে বেশ কয়েকবার নিজের হাতের দিকে তাকানোর অভ্যাস থাকলে কোনো এক সময় স্বপ্নের মধ্যেও তা করার প্রবণতা বাড়বে। স্বপ্নের মধ্যে হাতে পরিবর্তন ঘটে। ফলে তখন স্পষ্ট বোঝা যায়, যে আমরা স্বপ্ন দেখছি। ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মতো কম্পিউটার সিমুলেশন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ চশমা পরলে সব দৃশ্য আসল মনে হয়। [সূত্র : ডয়চে ভেলে]
(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 238 People

সম্পর্কিত পোস্ট