চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:১৪ পূর্বাহ্ন

গুলতেকিনের বিয়ে নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

সম্প্রতি বিয়ের খবর জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন কবি গুলতেকিন খান। কথাসাত্যিক হুমায়ুন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন ৫৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন অতিরিক্ত সচিব ও কবি আফতাব আহমেদকে। বিয়ে করলেও খবরটি সামনে আসে বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে। গুলতেকিনের পরিবারও পারিবারিকভাবেই এ বিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছে। বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ খবর ছড়ানোর দুদিন পর ফেসবুকে বিয়ে নিয়ে নিজের অভিমত জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন

নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিন।-বাংলানিউজ

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো : ‘ফেসবুক হুমায়ুনে টইটম্বুর। হুমায়ুনের বউ বুড়া বয়সে বিয়া করছে, তাতেও হাত্তালির সীমা নাই। আমার বয়সও তার মতই, কিন্তু আমি যদি এখন বিয়া করছি ঘোষণা দেই, আমার চামড়া ছিইল্ল্যা মাইনষে লবন লাগাইবো, আর আমারে জ্যান্ত কব্বর দিবো, ফেসবুক ভাসাইয়া ফেলবো খাপসা গালি দিয়া, আমারে কুত্তা দিয়া কী করবো কইয়া আর আমার ইনবক্স গান্ধা বানাইবো তাগোর ইয়ের ছবি পাঠাইয়া। হুমায়ুন তার বউরে তালাক দিয়া কচি একটা ছেড়িরে বিয়া কইরা দূরে চইলা গেসে, আমোদে আহ্লাদে রাজার জীবন যাপন করছে, খরচপাতি দেয় নাই, বউ এক্লা এক্লা পুলাপান মানুষ করছে, — এই কারণে বউয়ের লাইগ্যা মাইনষের করুণা জন্ম নিসে। এত সেক্রিফাইস যে করছে স্বামীর জন্য, স্বামী মইরা যাওয়ার পর, পুলাপান মানুষ হইয়া যাওয়ার পর না হয় তার একটু সাধ আহ্লাদ মিটাক। অভিনন্দন ওই করুণা থেইকাই আসুাসে।

আমার কথা বাদ দিলাম। অন্য কোনও মহিলা, যে মহিলা স্বামীর জন্য সেক্রিফাইস করে নাই, পুলাপানের কথা ভাইবা নিজের সাধ আহ্লাদ বিসর্জন দেয় নাই, হুমায়ুনের বউয়ের মতো বুড়া বয়সে বিয়া একবার সে করতে চাক না— গাইল্যাইয়া তার গুস্টি উদ্ধার করবো মানুষ।

এক মহিলার বুড়া বয়সের বিয়া মাইনা নিসে সমাজ। তার মানে কিন্তু মেয়ে- মহিলারা যা ইচ্ছা তাই করনের সুযোগ পাইয়া গেসে তা না। পাইয়া গেসে ভাইব্যা সুখ পাওয়ার কিছু নাই।

বিয়া করাডার নাম নারী স্বাধীনতা না। বরং উল্ডা। বিয়া না কইরা, ত্যাগ না কইরা, মাইনষের করুনার পাত্রী না হইয়া, পরনির্ভর না হইয়া, মাথা উচা কইরা বাচার নাম নারী স্বাধীনতা। ভুইলা গেলে চলবে না বিয়া জিনিস্টাই নারী বিরোধী।’

জানা যায়, ঢাকায় ছোট পরিসরে গুলতেকিনের বাসায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর গুলতেকিন আমেরিকায় চলে গেছেন। দুই সপ্তাহ পর ফিরে বন্ধু-বান্ধব সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করবেন।
১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের তরুণ শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদকে কিশোরী গুলতেকিন প্রেমে পড়ে বিয়ে করেছিলেন। তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০০৩ সালে। তাদের ঘরে এক পুত্রসহ তিন কন্যা সন্তান রয়েছেন। ২০১২ সালে হুমায়ূন আহমেদ তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ইন্তেকাল করেন। ২০০৫ সালে শাওনকে হুমায়ূন বিয়ে করলেও গুলতেকিন আর বিয়ে করেননি।

The Post Viewed By: 181 People

সম্পর্কিত পোস্ট