চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

৩০ অক্টোবর, ২০১৯ | ১১:৫৫ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে প্রবাসীদের অনলাইন ভোটার নিবন্ধন

আগামী ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে প্রবাসী ভোটারদের অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওইদিন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধনের মধ্যে দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি। এর আগে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রথম ভোটার করার সিদ্ধান্ত নিলেও সিঙ্গাপুর সরকারের তরফ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এ সময় সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ৫ নভেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় যারা বসবাস করছেন তারা ভোটার হতে আবেদন করতে পারবেন। এরপর যাচাই-বাছাই করে বৈধ হলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া  হবে। প্রবাসীরা কখন জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আশা করছি এক মাসের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে।

এক্ষেত্রে প্রবাসীদের ফরম পূরণের আটটি তথ্য দিতে হবে। সেগুলো হলো– পিতা ও মাতার নাম ইংরেজি ও বাংলায়, বসবাসরত দেশের নাম, জিপ কোড, বাসা ও হোল্ডিং নম্বর, স্টেট বা প্রদেশ, ফোন নম্বর, শনাক্তকারী ব্যক্তির নাম প্রভৃতি। এছাড়াও পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

জানা যায়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিবন্ধিত হবেন। নিবন্ধিতদের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করবে ইসি। এরপর যাদের যোগ্য ও সঠিক মনে হবে, তাদের ছবি তোলাসহ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখের মণির ছাপ (আইরিশ) গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একটি টেকনিক্যাল টিম সেসব দেশে গিয়ে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ করবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া ছাড়াও যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) ও সৌদি আরবের প্রবাসীরা এ সুযোগ পাবেন। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এ সুযোগ পাবেন।

প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তভুক্তির কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন করেছে। এতে বলা হয়েছে, বসবাসরত দেশে ইসির স্থাপিত রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে গিয়ে কিংবা অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে তিনি সর্বশেষ যে এলাকায় বসবাস করেছেন বা নিজের অথবা বাবার বাড়ির ঠিকানায় ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। পরে সেই এলাকার রউপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে তার আবেদন তদন্তের পর ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি ও ভোটারের ছবি তুলে এনআইডি সরবরাহ করা হবে। এর আগে রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে ও ইসির ওয়েবসাইটে দাবি-আপত্তির জন্য তালিকা দেয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে নিবন্ধন হলেও যোগ্য বলে যারা বিবেচিত হবে তাদের বায়োমেট্রিক আমরা সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়েই সংগ্রহ করব। এক্ষেত্রে সেসব দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের সহযোগিতা করবে। প্রবাসীদের ভোটার করার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন প্রথমে সরেজমিনে দেশগুলোতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। পরে ইসি তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টে অনলাইনে নিবন্ধনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পূর্বকোণ-রাশেদ

The Post Viewed By: 110 People

সম্পর্কিত পোস্ট