চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৪ মে, ২০১৯ | ৩:০২ এএম

মসজিদুল হারাম, মক্কা

ইসলামের ইতিহাস পরিক্রমা

মসজিদুল হারাম হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র স্থান। সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থিত এই মসজিদটি। পবিত্র কাবা শরিফকে ঘিরে অবস্থিত এই মসজিদ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুন্দর। পবিত্র মসজিদটি মুসল্লিদের জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান। সারাক্ষণই একে ঘিরে তাওয়াফ করতে থাকেন মুসল্লিরা। প্রতি বছর হজ এবং ওমরাহর জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে আসেন। সাধারণত এই মসজিদে ৯ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়েন। তবে হজের সময় এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ লাখে। ভেতরে ও বাইরের নামাজের জায়গা মিলে প্রায় ৪ লাখ ৮০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে অবস্থিত এই সম্প্রসারিত মসজিদ।
সংস্কার ও সম্প্রসারণ : ৬৯২ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদে প্রথম বড় আকারের সংস্কার সাধিত হয়। এর আগে মসজিদ ছিল কাবাকে কেন্দ্র করে একটি খোলা স্থান। ৮ম শতাব্দীর শেষ নাগাদ মসজিদের পুরনো কাঠের স্তম্ভগুলোর বদলে মার্বেলের স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। নামাজের স্থান বৃদ্ধিসহ মিনার যুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ইসলামের প্রচার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং মসজিদ আরও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরপর উসমানী যুগে এবং সর্বশেষ সৌদি যুগে বেশ কয়েকবারই সংস্কার করে সম্প্রসারণ করা হয় এই মসজিদটি।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা : মসজিদুল হারামের মধ্যে রয়েছে পবিত্র কাবা। ইসলাম ধর্মমতে কাবাকে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে মনে করা হয়। এই কাবার দিকে ফিরেই নামাজ পড়া হয়, পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে কাবা যেদিকে মুসলমানরা ঠিক সেদিকে মুখ করে নামাজ পড়েন। হজ ও ওমরাহ পালনের সময় মুসলমানরা কাবাকে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।
এখানে রয়েছে হাজরে আসওয়াদ যা অবস্থিত কাবার পূর্ব কোণে। কালো রঙের এই পাথরকে তাওয়াফের শুরুতে চুমু দিতে হয়। কোনো কারণে চুমু দিতে না পারলে হাতের ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া রয়েছে সাফা ও মারওয়া নামে দুটি পাহাড়। আগে এই পাহাড় দুটি কাবা শরিফের পাশে ছিল। কিন্তু বর্তমানে মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এগুলোকে মসজিদের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া জমজম কুয়া ও মাকামে ইবরাহিমও মসজিদুল হারামের মধ্যে অবস্থিত।

The Post Viewed By: 220 People

সম্পর্কিত পোস্ট