চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ১:১৩ পূর্বাহ্ন

সানজিদা আজাদ

প্রাথমিক স্তরে স্কাউটিং কার্যক্রম

রবার্ট স্টিফেনসন স্মীথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল স্কাউট আন্দোলনের সূচনা করে যুব সমাজের মঙ্গল করেছেন। আর তারই স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল উপাধি দেয়া হয়। এই উপাধি দিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জ। মূলত তখন থেকেই তিনি বিপি বা ব্যাডেন পাওয়েল নামে বিশ্বে সুপরিচিত। আফ্রিকার স্বদেশীয় জনগণ তার স্কাউটিং নৈপূূণ্যতা বিষ্ময়কর অনুসরণশক্তি এবং দক্ষতার দরুণ এত বেশি ভয় করতো যে তারা তার নামই দিয়েছিল সদা জাগ্রত নেকড়ে বাঘ।

দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত শহর ম্যাফেকিং এ যখন ২১৭ বুয়েরূদ্ধ দ্বারা অবরূদ্ধ ছিলেন তখন তিনি নিজ সেনাদলের স্কাউট সদস্যদের ব্যবহার করে এক বিশাল সফলতা লাভ করেন। আর এই সফলতা তাকে স্কাউটিং কার্যক্রম প্রসারে উজ্জীবিত করে। সেই অনুপ্রেরণা থেকে তিনি স্কাউটিং বালক-বালিকাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যা কালক্রমে আন্দোলনে পরিণত হয়। বিপির স্কাউটিং মূলমন্ত্র সারা পৃথিবীর মানুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গ্রহণ করে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন।

কাব স্কাউটিং তথা স্কাউটিং বাংলাদেশের শিশু কিশোর ও যুব আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলেজ গুলোতে দলগঠন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তদলের সংখ্যা প্রচুর। কাব হচ্ছে, স্কাউট আন্দোলনের প্রথম স্তর। কাব স্কাউটের সংখ্যা ও মান যত বৃদ্ধি পাবে স্কাউটিংয়ের তত প্রসার ঘটবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে স্কাউট ও রোভারের তুলনায় কাবের সংখ্যা অনেক কম-বেশি। বাংলাদেশে স্কাউটিং কার্যক্রম প্রধানত- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সাহায্য সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্কাউটস্ এর উদ্যোগে দেশের অধিকাংশ নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কাউটিং কার্যক্রম প্রচলিত আছে। দেশে বর্তমানে ১৬ লক্ষাধিক স্কাউট রয়েছে এর মধ্যে কাব স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষাধিক। দেশের কাবিংকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের আর্থিক সহায়তায় এবং বাংলাদেশ স্কাউটস্ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালের মধ্যে ২৩০০০ প্রাথমিক বিধ্যালয়ে কাবদল খোলা হয়েছে। কাব বয়সী ছাত্র/ছাত্রীদের সৎ মন মানসিকতা সৃষ্টি, সঠিক দিক নির্দেশনা দান, যথাযথ শারীরিক বিকাশ ও বাস্তব ভিত্তিক শিক্ষামূলক কর্মকা-ের সাথে জড়িত রাখার জন্য কাব স্কাউটিং কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক। বিষয়টিত সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও
গণশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অনুবাধন করে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্ততঃপক্ষে একটি কাব ইউনিট গঠন ও সুষ্ঠভাবে কাবদল পরিচালনার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। এ ব্যাপারে পরিপত্র জারীসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৯/০৫/২০১১ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশ স্কাউটসকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধিশাখা-৪ (সমন্বয়) কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

২৬ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রি তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুটি করে কাব স্কাউট দল, দুটি স্কাউট দল ও দুটি করে রোভার স্কাউট দল এবং ছেলেদের পাশাপাশি স্কাউটিং কার্যক্রমে মেয়েদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে মেয়েদের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মান সম্মত গার্ল ইন স্কাউট ইউনিট চালু করার নির্দেশ প্রদান করেন। কাব ইউনিট গঠন করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাব শিক্ষক বা কাব লিডার দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব স্কাউটিং, কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন কোর্স সহ, বেসিক কোর্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পি,টি,আই সিলেবাসে কাব স্কাউটিং বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিয়মিত প্যাকমিটিং কাবিং কার্যক্রম অনুশীলন ছাড়াও হলিডে, কাব ক্যাম্পুরী, কার্ণিভাল কাবিং সংক্রান্ত অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমে কাবদের অধিক সংখ্যক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, দৈহিক, নৈতিক নান্দনিক, আবেগিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ সাধন দেশাত্ববোধ ও সৃজনশীলতা বিজ্ঞানমনস্কতায় উন্নত জীবনে স্বপ্ন দর্শনে উদ্ভুদ্ধ করা।

আর স্কাউটিং এ রয়েছে শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক বিকাশের নানামুখী পদক্ষেপ। স্কাউটিং ৬টি পিটির মাধ্যমে শিশুর শারীরিক বিকাশ, কাব, অভিযান, কার্নিভাল ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক বিকাশ এবং স্কাউট ওন এর মাধ্যমে শিশুর আধ্যাতিক বিকাশ সাধিত হয়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের স্কাউটিং এর মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন এবং প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্পূরক শিক্ষা হিসেবে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে একটি কাবদল গঠন করতে হবে এবং নিয়মিত কাব কার্যক্রম অনুশীলন করতে হবে।

পাঠানটুলী খান সাহেব বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম

The Post Viewed By: 30 People

সম্পর্কিত পোস্ট