চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ১:১৩ পূর্বাহ্ন

স্কুল এম. মোরশেদ

আধুনিক শিক্ষার প্রসারে ইংরেজী ভার্সান ডিজিটাল

সুসজ্জিত পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, প্রশস্ত খেলার মাঠ, চারিদিক ফুল ফলে গাছগাছালির শ্যামল ছায়া, সুপরিসর ক্লাসরুমে আলো বাতাসের খেলা এমন আদর্শ বিদ্যালয় মহানগর এলাকায় অনেকটা কল্পনার মতই! অথচ অভিভাবক এবং কোমলমতি শিশুদের প্রাণের দাবী এটি। যথার্থ এই দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়েই নগরীর অভিজাত পাঁচলাইশ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্কুল অব সায়েন্স, বিজনেস এন্ড হিউমেনিটিজ (ঝঝইঐ)। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ন্যাশনাল কারিকুলাম ইংরেজী ভার্সনে (প্লে থেকে দশম) পরিচালিত স্কুলটি পিইসিই, জেএসসি এবং এসএসসিতে শতভাগ পাশসহ কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল (২০১৬ ইং জেএসসিতে শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীর অ+ প্রাপ্তি) এর মাধ্যমে সম্মানিত অভিভাবকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

সুপরিসর ক্লাসরুম, প্রশস্ত খেলার মাঠ, ইনডোর গেমস রুম, অডিটোরিয়ামসহ ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনে সজ্জিত পরিচ্ছন্ন এবং শিশু বান্ধব পরিবেশ নিয়ে ন্যাশনাল কারিকুলাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল অব সায়েন্স বিজনেস এন্ড হিউমেনিটিজ (ঝঝইঐ) প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক মানের ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার এক্সিকিউটিভ’স কেয়ার­- এর প্রতিষ্ঠাতা মেহরাব মাসুক। অধ্যক্ষরূপে রয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাগবেষক ও প্রশাসক অজিত প্রসাদ চৌধুরী (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক
উপ-পরিচালক)।

একজন অভিভাবক সন্তানের ভবিষ্যত গড়তে কেন ঝঝইঐ-কে বেছে নেবেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছোট্টমণিরা শিখবে প্রকৃতি থেকে এবং তা তাদের সহজাত খেলাধুলোর আনন্দে। তাই স্কুল ক্যাম্পাস ঘিরে প্রশস্ত খেলার মাঠ, সবুজ গাছপালার সমারোহের মাঝে আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশে হাতেখড়ির সকল আয়োজন রয়েছে এখানে। শিশুবান্ধব সব উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের প্রতিটি ক্লাসরুম। ছোট্ট মণিদের কাছে সবচেয়ে মজার হলো মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে ডিজিটাল স্ক্রিনে দারুণসব ছড়া, গান, ছবি ও ডকুমেন্টারি উপভোগ করা। রঙ ঝলমল নানা এ্যানিমেশান, পাজল ও ভিডিও ক্লিপের সাহায্যে সে শিখে নিচ্ছে চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠা বর্ণমালা ও সংখ্যার নানা পাঠ। বাস্তবমুখী শিক্ষালাভের লক্ষ্যে আমরা শিশুদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ফ্রুট ডে, টয় ডে, ড্রেস ডে ইত্যাদি নামের বিশেষ ক্লাস রেখেছি যেখানে ফল বা খেলনাটি সম্পর্কে সবাই কিছু বলবে। সবশেষে ফল কেটে সবার সাথে তা শেয়ার করবে বা খেলনা নিয়ে সবার সাথে খেলবে। এভাবে শিশু চারপাশের জিনিস সম্পর্কে যেমন হাতেকলমে শিখবে তেমনি শিখবে সবার সাথে শেয়ারিং এর সামাজিকতা। ফলে মুখস্থবিদ্যার প্রচলিত গ-ী হতে মুক্তি পেয়ে আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠবে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী যা পরিণত বয়সে তাকে নিয়ে যাবে সাফল্যের শিখরে।

প্রতিষ্ঠাতা মেহরাব মাসুক জানান, এখানে রয়েছেন প্রথম লেভেলে দক্ষ ও মেধাবী তরুণ শিক্ষক এবং দ্বিতীয় লেভেলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ প্রবীণ শিক্ষক। মেধাবী তারুণ্যের স্ফুরণে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে জ্ঞানের গতিপথ। আর প্রবীণ শিক্ষকের দিক নির্দেশনায় আরোহণ করবে সাফল্যের চূড়ায়। পঠিতব্য বিষয়ের উপর প্রস্তুতকৃত পাঠপরিকল্পনা ও পাঠ উপকরণের সমন্বয়ে পাঠদান করেন শিক্ষক। যেমন- গাছের পাতা পড়াতে শিক্ষক সত্যিকারের সবুজ একটি পাতা বা চুম্বক পড়াতে লোহার একটি চুম্বক নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করেন। মোট কথা পুরো ক্লাসটা থিওরী নির্ভর না হয়ে হয় প্র্যাকটিক্যাল ওরিয়েন্টেড। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে সাধারণ মানের শিক্ষার্থীর কাছে দুর্বোধ্য বলে কোন পাঠ থাকে না। অপেক্ষাকৃত দূর্বল ছাত্র-ছাত্রীরা পাচ্ছে অতিরিক্ত ক্লাস। সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। তাই আমাদের ক্লাসরুমে রয়েছে অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ ডিজিটাল শিক্ষার সব উপকরণ। পাঠ্য বিষয়কে হৃদয়গ্রাহী করতে বিজ্ঞান ভিত্তিক ও সামাজিক ফিল্ম এবং ডকুমেন্টরী প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রেখেছি আমরা। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হয় না ।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে প্রচ- গুরুত্ব দেয় ঝঝইঐ। সপ্তাহের প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণীর জন্য রয়েছে কালচারাল ক্লাস। সংস্কৃতি বিষয়ক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, গান, নাটক ইত্যাদি বিবিধ শিল্পকলার চর্চা করছে ছাত্র-ছাত্রীরা। প্লে গ্রাউন্ডে চলে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা। মহান একুশে, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সাড়ম্বরে উদ্যাপনসহ দেশীয় সংস্কৃতির সুস্থ ধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় নুতন প্রজন্মকে। আর মাতৃভাষা বাংলা ও সংস্কৃতি চর্চার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় যাতে নিজের শেকড়কে ভুলে না যায়।
ঝঝইঐ এ নৈতিক এবং ধর্মীয় শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। ক্লাস ওয়ানে উঠার আগেই আরবির সকল পাঠ শিশুদের শিখানো হয়। সকল ধর্মাবলম্বী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ধর্মদর্শনপূর্ণ নৈতিকতার পাঠ সিলেবাসভুক্ত রয়েছে। কেবল পাঠ্য বিষয়ই নয় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল সিটিজেনরূপে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ওঊখঞঝ, ঞঙঊঋখ ্ ঝঅঞ ভূক্ত প্রয়োজনীয় কোর্স সমূহ করিয়ে দেয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে দেশ বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হয়।

সবশেষে স্কুল প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘এটি বন্দর নগরীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ডিজিটাল বিদ্যাপীঠ যেখানে অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রাজ্ঞ শিক্ষকগণ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে নিষ্ঠার সাথে পাঠদান করেন নিয়মিত কোর্স প্লান, হোম ওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট ওয়ার্ক ইত্যাদির মাধ্যমে। মূল্যায়নের জন্য নেয়া হয় ক্লাস টেষ্ট, চ্যাপটার টেস্ট ও মান্থলি টেস্ট। সকল ফলাফল সার্বক্ষণিক জানতে পারেন

অভিভাবক। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজী ল্যাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র মাইক্রোস্কোপ, এ্যাপ্রোন, গ্লাভস ও বায়োলজিক্যাল স্পেসিমেন। আমাদের রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগসহ অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব যা আধুািনক তথ্যপ্রযুক্তির সাথে শিক্ষার্থীদের সংযোগ ঘটায় প্রতিনিয়ত।পর্যাপ্ত রেফারেন্স বই এবং শিল্প সাহিত্য নির্ভর হাজারো বই নিয়ে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ লাইব্রেরী এবং ইংলিশ ল্যাংগুয়েজের উপর গুরুত্ব প্রদান, আন্তরিক ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে পরিপূর্ণ শিক্ষার ফলে ঝঝইঐ এর শিক্ষার্থীরা আদর্শ মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন উপযুক্ত নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।’ বিস্তারিত জানতে ২২, পাঁচলাইশ (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেইটের বিপরীতে) এই ঠিকানায় এবং স্কুলের নামে ফেইসবুকে লগ ইন করে এবং ০১৯৭৬-৭৭৭৬৭৭-৯ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

The Post Viewed By: 42 People

সম্পর্কিত পোস্ট