চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

৩ নভেম্বর, ২০১৯ | ১১:৩০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বছর করা হচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা

শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠদান আনন্দপূর্ণ করতে এক বছরের পরিবর্তে দুই বছর করা হচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সময়সীমা। ২০২২ সালের মধ্যে ‘শিশু শ্রেণি’ নামে এ স্তরের শিক্ষাকে ধাপে ধাপে দুই বছর মেয়াদে উন্নীত করা হবে। এছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে  প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ক্লাস রুম উপযোগী নতুন আরও ৩০ হাজার ‘শিশু উপযোগী শ্রেণি কক্ষ’ নির্মাণ করা হবে। ২৬ হাজার প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রাথমিকে বর্তমানে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ বছর বয়স নির্ধারণ থাকলেও তা চার বছর করা হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের জন্য বয়স উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে। নীতিমালায় প্রাক শিক্ষক বদলিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিদ্যালয়ে  শিশুদের পরিচর্যার জন্য একজন করে ‘কেয়ার গিভার’ (পরিচর্যাকারী) নিয়োগ দেয়া হবে। ২০২২ সাল থেকে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিকের কথা উল্লেখ থাকায় সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে  শিক্ষা দুই বছরে উন্নীত করতে  সময়োপযোগী একটি  কারিকুলাম প্রণয়নেও কমিটি কাজ করছে।

জানা যায়, ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি ও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ দুই বছর করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যার আলোকেই ইতোমধ্যে এ নিয়ে জোরেসোরে কাজ করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারই অংশ হিসেবে দুই বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করতে সম্প্রতি এর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

দাতা সংস্থা ইউনিসেফের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ওই কর্মশালায় মন্ত্রণালয়, এনসিটিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার প্রতিনিধি ও ইসিডির (আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট) কর্মকর্তারা তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত ও নানা চ্যালেঞ্জের নিয়ে আলোচনা করেন। এসব চ্যলেঞ্জ ও সমস্যাগুলো একত্রিত করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। গত ২৮ অক্টোবর ডিপিই-এর মহাপরিচালক এ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদনে দুই বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার আগে ১১টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে প্রথমত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধন করার চেষ্টা করছে।

পূর্বকোণ-রাশেদ

The Post Viewed By: 114 People