চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৩ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১১:৪২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

উচ্চশিক্ষায় অরাজকতা বন্ধে বিচারিক ক্ষমতা চায় ইউজিসি

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা বন্ধ করতে ‘বিচারিক ক্ষমতা’ চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। দেশের উচ্চশিক্ষার দেখভালকারী এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারের নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রম চালানো ও মনিটর করতে পারে।

তবে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারা কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির আইনগত কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠনের জন্য দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও তা আর এগোয়নি। এ অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা অনিয়ম বন্ধ করতে তদন্তের পাশাপাশি সরাসরি পদক্ষেপ নিতে নিজেদের বিচারিক ক্ষমতা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ইউজিসির ৪৮তম বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে দেন। সেখানেই এই ক্ষমতা চেয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এ প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেন। প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে উপাচার্য নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়স ও সময়ের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, অভ্যন্তরীণ র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করাসহ ১৭টি সুপারিশ করা হয়েছে।

ইউজিসির সুপারিশে বলা হয়েছে, পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা অনিয়মের জন্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করার বা বিচারিক ক্ষমতা নেই ইউজিসির। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি, সনদ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ইত্যাদি হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ইউজিসি বিভিন্ন অনিয়মের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতেও পারে, আবার নাও পারে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনেক সময়ও লেগে যায়। নিজেই যেন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে সেজন্য ক্ষেত্রবিশেষে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা যেতে পারে।

 

জানা গেছে, দেশে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা দিতে বর্তমানে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত এসব বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা হয়। সরকার সম্প্রতি প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, দেশে ১০৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যাসবেইস) সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশের উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭১ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। যার মধ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার ২৭৭ জন ছাত্রী। যা মোট সংখ্যার ২৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

 

গতকাল রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে বলা হয়েছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে প্রায়ই স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্য জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে একটি স্বতন্ত্র নিয়োগ কমিশন গঠন করা যেতে পারে। এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য ইউজিসি প্রণীত নিয়োগের নূ্যনতম যোগ্যতা নির্ধারণ নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে।

এ বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র চন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নানা অসামঞ্জস্যতা আছে। সুনির্ধারিত সরকারি নির্দেশনা না থাকার সুযোগে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যাংকে পড়ে আছে। তার মানে তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হারে ফি আদায় করছে। ইউজিসি চায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফির বিষয়টি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হোক। তথ্যসূত্র: সমকাল

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট