চট্টগ্রাম বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১১ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

বন্ধ হবে ‘ভোগান্তি, বাণিজ্য’

দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর শুরু হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম। চলতি মাস (আগস্ট) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক বদলি অনলাইনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রথমদিকে চট্টগ্রামসহ দেশের ১১টি মহানগর এলাকায় শিক্ষক বদলি করা হবে না। এজন্য আলাদা নীতিমালা করা হবে। অনলাইনে বদলি শুরু হলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের জন্য সহজ ও হয়রানিমুক্ত হবে এবং অন্যদিকে শিক্ষকদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৭ জুলাই গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন পদ্ধতিতে ১৮টি বিদ্যালয়ে শূন্য পদে বদলি করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বদলি শুরু করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নতুন এই পদ্ধতিতে আগস্ট মাস থেকে সারা দেশে বদলির কাজ শুরু করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন জানা যায়, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক বদলির সময় শুরুর আগে থেকেই শুরু হয় তদবির ও আর্থিক বাণিজ্য। উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক অফিসে অর্থ দিলেই পছন্দের স্থানে মিলে বদলি। অর্থ না দিলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বদলি আটকে দেয়, অভিযোগ প্রাথমিকের শিক্ষকদের। অনলাইনে বদলির খবরে শিক্ষকদের একাংশ স্বস্থির ঢেকুর তুললেও অনেকেই মনে করছেন বদলি কার্যক্রম অনলাইন হলেও হয়রানি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইনে সহকারী শিক্ষক বদলি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের থেকে কোন নির্দেশনা পায়নি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে। করোনার কারণে প্রায় দুই বছর সহকারী শিক্ষক বদলির কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির এ কাজটি হবে পুরোপুরি অনলাইনে। নির্ধারিত একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত আইডি ব্যবহার করে শিক্ষকদের বদলির জন্য আবেদন করতে হবে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওই শিক্ষক বদলির যোগ্য কি না বা কোন বিদ্যালয়ে বদলি হবেন, তা নির্ধারণ হবে।

যেভাবে অনলাইনে বদলি :
নতুন এই পদ্ধতিতে বদলি প্রত্যাশী শিক্ষক অনলাইনে আবেদনটি করার পর সেটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনিও ওই সফটওয়্যার ব্যবহার করেই যাচাই করে দেবেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেটি যাচাই করে পাঠাবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিইও) কাছে। ডিপিইও সেটি মঞ্জুর করে পাঠিয়ে দেবেন আবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। তিনি তখন বদলির বিষয়ে আদেশ জারি করবেন এবং শিক্ষক সেটি অনলাইনেই জেনে যাবেন।

তিন ধাপের এই যাচাইয়ে প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিন দিন করে সময় পাবেন। এই তিন দিনের মধ্যে যাচাই করে নিষ্পত্তি না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যাচাইয়ের জন্য নিয়োজিত পরবর্তী ব্যক্তির কাছে চলে যাবে। তখন নিষ্পত্তি না করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর এক আদেশে শিক্ষক বদলি বন্ধ করে দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরপর থেকে গত দুই বছর যাবত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক বদলি হয়নি। গত ১৩ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবরের আদেশ বাতিল করা হলো।

 

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট