চট্টগ্রাম বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ জুলাই, ২০১৯ | ১২:৫৪ এএম

এম. সারওয়ার

বিদেশে উচ্চশিক্ষা জনপ্রিয়তায় বিশ্বে তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া

দেশে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার আগ্রহ এবং সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৬০ হাজারের ওপর শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা নিতে বিদেশ যাচ্ছে। শক্তিশালী অর্থনীতি এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব মিলিয়ে বসবাসের জন্য চমৎকার একটি দেশ অস্ট্রেলিয়া। বৈধ নিয়মে দেশটিতে প্রবেশ, কর্মসংস্থান ও বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ঝামেলাও খুব বেশি নয়। তাই উচ্চশিক্ষার আশা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খোঁজেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচে এমন শান্তিপূর্ণ একটি দেশে মানসম্মত শিক্ষার কারণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও পর এখন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের
তৃতীয় জনপ্রিয়তম দেশ।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেড় শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীরা দেশটির বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশেরও প্রচুর শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন দেশটিতে। পৃথিবীর শীর্ষ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। বিশ্বের সেরা ১০০টির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় আছে সাতটি।
তাই অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা বিষয়ে আমরা কথা বলি নগরীর খ্যাতিমান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অঈঅউঊগওঅ ওঘঞঊজঘঅঞওঙঘঅখ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা এবং হেড অব অপারেশনস মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের সাথে। তাঁদের দেয়া প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া জানিয়ো দেয়া হলো পাঠকদের জন্য।
প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা : স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যেতে হলে উদ্দেশ্য হতে হবে শিক্ষা। সবার আগে সত্যিকার মেধাবী হতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিজের খরচ বহনের কথাটি শিক্ষার্থীদের বিবেচনা করতে হবে। বোনাস হিসেবে ধরতে পারেন পার্টটাইম চাকরি। পড়াশোনার ভাষা : অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। ইংরেজির দক্ষতা প্রমাণ ছাড়া শিক্ষার্থী হিসেবে ভিসা পাওয়া অসম্ভব। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষায় আগ্রহীদের অবশ্যই ইংরেজিতে আইইএলটিএস-এ ৫.৫ অথবা টোয়েফল-এ ৫৫০ স্কোর থাকতে হবে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমবিএ বা রিসার্চ প্রোগ্রামে আইইএলটিএস স্কোর ন্যূনতম ৬ বা টোয়েফল স্কোর ৬০০ থাকতে হবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্তে বেশি স্কোর করারও প্রয়োজন পড়ে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকে।
বিষয় নির্বাচন : উচ্চশিক্ষার জন্য নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে বিদেশে যাবেন,
এমনটাই স্বাভাবিক। বিষয় পরিবর্তন করা নিয়ে অনেকের ভিসা বাতিল হয়ে যায় অনেক সময়। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পেশার চাহিদা তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকে। সে বিষয়ে পড়াশোনা করলে চাকরি পেতে সহজ হবে। অঈঈঅ, খখই, গইঅ, অফাধহপবফ উরঢ়ষড়সধ, ঐবধষঃয ঝঃঁফবহঃ এবং
ঊহমরহববৎরহম ডিগ্রি অর্জনকারীদের স্থায়ীভাবে অভিবাসনের জন্য আবেদনের সুযোগ থাকবে বেশি।
স্পনসর বা গ্যারান্টার নিশ্চিত : স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসতে হলে যাবতীয় খরচ বহনের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা দেখাতে হয়। সাধারণত এদের ‘স্পনসরশিপ বা গ্যারান্টার’ বলে। তবে অভিভাবকের সামর্থ্য না থাকলে, এমন একজন স্পনসরের প্রয়োজন, যিনি আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখবেন ব্যাংকে। কিন্তু কোনো নগদ অর্থ ব্যয় করতে হবে না। সাধারণত ছয় মাসের জন্য স্পনসর দেখাতে হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থা : অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষাবর্ষ শুরু জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর। ব্যাচেলর কোর্সের মেয়াদ ৩/৪ বছর ও ব্যাচেলর সার্টিফিকেট কোর্সের মেয়াদ ৬ মাস। ব্যাচেলর ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ ১ বছর, স্নাতকোত্তর কোর্স ও স্নাতকোত্তর রিসার্চ কোর্সের মেয়াদ ২ বছর। ডক্টরাল কোর্সগুলোর মেয়াদ ৩ বছর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কোর্সে পড়াশোনা ও গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে।
জীবনযাপন ও অন্যান্য খরচ : বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যাপারে সহায়তা দিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে থাকতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস। পার্টটাইম চাকরির জন্য শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা সময় পায়। ছুটির সময় ফুলটাইম।
শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ : এছাড়াও রয়েছে প্রচুর শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ। সরকারি বৃত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ, অস্ট্রেলিয়া এপিইসি ওম্যান ইন রিসার্চ ফেলোশিপ, এনডেভর পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ ইত্যাদি। সব বৃত্তিতে মোটামুটি একই নিয়মে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের ‘অস্ট্রেলিয়ান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’
(এইউএসএইড) প্রতিবছরই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘অস্ট্রেলিয়ান ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপের অধীনে বৃত্তি দিয়ে থাকে। ‘সাউথ এশিয়া স্কলারশিপ প্রোগ্রাম’ শিরোনামে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আরেকটি স্কলারশিপ রয়েছে। এ স্কলারশিপের অধীনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।
অভিবাসন সুবিধা : অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় এখানে সহজে চজ (চবৎসধহবহঃ জবংরফবহপব) এর সুযোগ থাকে। ঝঃঁফবহঃং এৎধফঁধঃরড়হ ঈড়সঢ়ষবঃব করার পর সে চজ এর জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে জবংঁষঃ যদি ভাল থাকে তাহলে সরকার তাকে চজ করে নিতে পারে। সাধারণত অঈঈঅ, খখই, গইঅ, অফাধহপবফ ফরঢ়ষড়সধ, ঐবধষঃয ংঃঁফবহঃ এবং ঊহমরহববৎরহম ডিগ্রি অর্জনকারীদের চজ পেতে সুবিধা হয়।
অঈঅউঊগওঅ ওঘঞঊজঘঅঞওঙঘঅখ এর ভূমিকা : এ বিষয়ে মোহাম্মদ শরীফ হোসেন বলেন, আমরা ২০১৫ সাল হতে আজ পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে অত্যন্ত সততা ও সুনামের সাথে বিদেশে উচ্চশিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মালয়েশিয়ায় খ্যাতিমান কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি ও স্কলারশীপের ব্যবস্থা করে আসছি। আমাদের ভিসা সাকসেস রেট প্রায় শতভাগ। কারণ আমরা বিশে^র প্রায় ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রুপে কাজ করছি। এদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার টঘঝড- মষড়নধষ,ঞযব টহরাবৎংরঃু ড়ভ অফবষধরফব ঈড়ষষবমব,ঈবহঃৎধষ ছঁববহংষধহফ টহরাবৎংরঃু, টঞঝ-ওহংবধৎপয উল্লেখযোগ্য। এসকল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিগন প্রতিবছর বাংলাদেশে আমাদের অফিস ভিজিট করেন এবং সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় রয়েছে আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি অফিস যারা সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম তদারক করেন। অস্ট্রেলিয়া ও
কানাডার বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে ২৫-৫০%, মালয়েশিয়ায় ১০০% স্কলারশীপের ব্যবস্থাও আমরা করে থাকি যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। আরও বিস্তারিত জানতে নেছা ভিলা (৩য় তলা), পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম ও িি.িধপধফবসরধমষড়নধষ.ড়ৎম এই ঠিকানায় এবং
০১৭৬৪-২০৩৫৭৯ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

The Post Viewed By: 360 People