চট্টগ্রাম শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১:২৯ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর 

৩৭ শিক্ষার্থীর দায় নেবে কে?

যথারীতি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেছেন। পরীক্ষার আগে সবার মতো ফরম পূরণও করেছেন তারা। জমা দিয়েছেন নির্ধারিত ফি’ও। কিন্তু আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন দেখা গেল সবার ফল বের হলেও তাদের ফল কোথাও নেই। সব নিয়ম মানার পরেও, এই ‘অটোপাসে’র সময়েও আশ্চর্যভাবে ফল বের হয়নি ৩৭ শিক্ষার্থীর। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৩০ জনের মত বহদ্দারহাটস্থ আইডিয়াল মহিলা মাদ্রাসা এবং বাকিরা আশেকানে আউলিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তবে তারা সবাই আশেকানে আউলিয়া ফাযিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের কথা ছিল। 

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, না মাদ্রাসা কার ভুলে এই শিক্ষার্থীদের এমন দশা হলো তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত। সেটি হলো সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এই বছর আর এসব শিক্ষার্থী ফল পাবেন কিনা সন্দেহ। তাই তাদের জীবন থেকে একটা বছর নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই অসহায় শিক্ষার্থীরা কখনো মাদ্রাসায়, কখনো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কোনো সদুত্তর না পেয়ে তাদের অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করে তাদের ‘জীবন রক্ষার’ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও, এসব শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ফল প্রকাশের জন্য ‘খোলা চিঠি’ লিখেছেন। সেখানে তারা ফল না পেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ফল না পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রিদুওয়ানুল হক হাক্কানী যথাসময়ে আমাদের ফর্ম ফিলাপ করে টিটি স্লিট বের করেছেন, তবে লকডাউনের কারণে ফি টা ব্যাংকে জমা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। ফি জমা দেয়ার পর মাদ্রাসা বোর্ড ৬৫ হাজার ১৯০ টাকা ফর্ম ফিলাপ ফি গ্রহণ করে অনুমোদিত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় এবং ফর্ম ফিলাপ’র তালিকাও প্রকাশ করে। তাতে আমরা সবাই স্বাক্ষর করি। কিন্তু মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রবেশপত্র দেয়নি।

তারা মাদ্রাসা বোর্ডের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, মাদ্রাসাা বোর্ড কেন আমাদের ৬৫ হাজার ১৯০ টাকা কেন গ্রহণ করলো? কেন অনুমোদিত হয়েছে বলে ঘোষণা দিলো? কেন আমাদের ফর্ম ফিলাপ এর তালিকা প্রকাশ করলো? কেন আমাদেরকে এতদিন অপেক্ষায় রাখলো?

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আশেকানে আউলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রিদুওয়ানুল হক হক্কানী জানান, অন্যান্য শিক্ষার্থীর মত আমরা এই ৩৭ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকাও বোর্ডে জমা দিয়েছি। কিন্তু অটো পাসে অন্যসব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও এই ৩৭ জন শিক্ষার্থীর নাম আসেনি। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, কোন কারণে যদি তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন না হয়, তাহলে মাদ্রাসা বোর্ড কেন এইসব শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা জমা নিয়েছে। এবছর যেহেতু পরীক্ষা হয়নি, তাই মাদ্রাসা বোর্ড চাইলে অন্য শিক্ষার্থীদের মত জেএসসি-এসএসসি ও সমমানের ফলের উপর ভিত্তি করে এই ৩৭ জন শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করতে পারে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কায়সার আহমেদ বলেন, ‘তারা যদি সঠিকভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতো তাহলে এই ৩৭ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়ার কোন কারণ নেই। আশেকানে আউলিয়া ফাযিল মাদ্রাসা দেরিতে ফরম পূরণ করায় তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন এবং প্রবেশ পত্র প্রস্তুত হয়নি। তাই তাদের ফল প্রকাশিত হয়নি’।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 271 People

সম্পর্কিত পোস্ট