চট্টগ্রাম সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৬:০৭ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর 

হাতে পৌঁছেনি শতভাগ বই

নতুন বছরের এক মাস পার হলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পৌঁছাইনি শতভাগ বই। করোনার কথা বিবেচনা করে অন্যান্য বছরের ন্যায় বছরের প্রথম দিন সকল শিক্ষার্থীদের হাতে একত্রে বই তুলে না দিয়ে ১২ দিনের মধ্যে বই পৌঁছে দেয়ার নিদের্শনা দেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু জানুয়ারি গড়িয়ে ফেব্রুয়ারি মাস এলেও শিক্ষার্থীরা এখনো অনেক বই পায়নি বলে জানা যায়। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, দেড় কোটি বইয়ের মধ্যে এক কোটি ১৭ লাখ বই ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গেছে। বাকি বইগুলো আসামাত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট চাহিদার ৭৭.২৫ শতাংশ বই ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মোট বইয়ের চাহিদা এক কোটি ৫১ লাখ ৯৭ হাজার ৭০৫টি। ইতোমধ্যে এক কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৯১টি বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গেছে।

সে হিসেবে এখনো ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৪টি বই আসেনি। নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন স্কুলের ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের সাথে কথা হলে ‘সপ্তম শ্রেণির ১৪টি বইয়ের মধ্যে মাত্র চারটি বই হাতে পেয়েছে বলে জানায় ওই শিক্ষার্থী। বইগুলো হচ্ছে- কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, চারুকারু ও বাংলাসহ পাঠ। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মত গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

জানতে চাইলে সিএমপি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবলী সাদিক জানান, করোনার কারণে এবছর এখনো সবগুলো বই স্কুলে এসে পৌঁছেনি। এটা শুধুমাত্র আমার স্কুলে না, আমার মত অনেক স্কুল এখনো অনেক বই পায়নি। আমরা যেসব বই পাচ্ছি, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছি।     একই অভিযোগ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। কথা হলে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, অন্যান্য বই পেলেও বিজ্ঞান বিভাগের কোন বই তারা পায়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব শিক্ষার্থী বলেছে, বিজ্ঞান বিভাগে এক মাস সময় পার করেও এখনো আমরা বিজ্ঞানের বইগুলো পাইনি। কখন পাবো তাও জানিনা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরিফুল হাসান চৌধুরী জানান, যেসব বই আমাদের কাছে এসেছে, সেসব বই আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছি। বাকি বই আসার সাথে সাথে সেগুলো আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করবো।

গভ. মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) আয়েশা খাতুন বলেন, জানুয়ারির প্রথম দিকে আমাদের অধিকাংশ বই চলে এসেছে। কিছু বই বাকি ছিল, যা গত বৃহস্পতিবার চলে এসেছে। এখন আমরা বইগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করছি।

এ সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরিকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা অফিসের আরেক কর্মকর্তা জানান, চাহিদার ৭৭.২৫ শতাংশ বই ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে এবং বাকি বইগুলো শীঘ্রই পৌঁছে যাবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 175 People

সম্পর্কিত পোস্ট